logo
বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২০, ১৮ আষাঢ় ১৪২৬

  যাযাদি রিপোর্ট   ১২ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০  

ডেথ রিভিউ

ডেঙ্গুতে এক বছরে ১৬৪ জনের মৃতু্য

ডেঙ্গুতে এক বছরে ১৬৪ জনের মৃতু্য
চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত এক শিশু -ফাইল ছবি

গত বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সারাদেশে ১৬৪ জনের মৃতু্যর তথ্য ডেথ রিভিউ প্রক্রিয়া শেষে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ডেঙ্গুতে এক বছরে এত মৃতু্যর নজির আর বাংলাদেশে নেই। এর আগে ২০০০ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৯৩ জনের মৃতু্য হয়েছিল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা জানিয়েছে, ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৬৬টি মৃতু্যর তথ্য এসেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে। এর মধ্যে ২৬৩টি মৃতু্য পর্যালোচনা করে ১৬৪ জনের মৃতু্য ডেঙ্গুর কারণে হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ২০১৯ সাল জুড়ে সারাদেশে এক লাখ এক হাজার ৩৫৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। আর এ বছরের শুরু থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশে ১১২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ২০২০ সালে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কারও মৃতু্যর তথ্য আসেনি বলে জানিয়েছেন রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার। তিনি বলেন, ২০১৯ সালের মৃতু্যগুলোই পর্যালোচনা করে ফলাফল দিয়েছেন তারা। ডা. আয়শা বলেন, 'একটা প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এসব মৃতু্যর কারণ পর্যাচলোচনা করা হয়েছে। এ কারণে এটা প্রকাশ করতে সময় লেগেছে। ৯৯ জনের মৃতু্য ডেঙ্গুতে হয়নি বলে নিশ্চিত হয়েছে ডেথ রিভিউ কমিটি।' ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ার পর এ রোগে মৃতু্যর কারণ পর্যালোচনা করতে গত বছর ডেথ রিভিউ কমিটি করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আট সদস্যের এ কমিটির নেতৃত্বে আছেন সরকারের রোগতত্ত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান, আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. মীরজাদী সেবরিনা ফ্লোরা। এ কমিটির পর্যালোচনায় যাদের ডেঙ্গুতে মৃতু্যর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে, কেবল তাদের তথ্যই হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম প্রকাশ করছে। রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগীর মৃতু্য হয়েছে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে। রাজধানীর ১২টি সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত এবং ২৯টি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ১৯৬ জনের মৃতু্যর তথ্য এসেছে। এর মধ্যে ১৯৪টি মৃতু্য পর্যালোচনা করে এসব হাসপাতাল ১২৭ জনের মৃতু্যর বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে কমিটি। ঢাকায় সবচেয়ে বেশি ২২ জন মারা গেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ৪০ জনের মৃতু্য পর্যালোচনা করে ২২ জন ডেঙ্গুতে মারা গেছে বলে নিশ্চিত করেছে ডেথ রিভিউ কমিটি। এছাড়া ঢাকা শিশু হাসপাতাল থেকে আসা ১৬ জনের মৃতু্য পর্যালোচনা করে ১৪ জনের কারণ ডেঙ্গু বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ঢাকার বাইরে থেকে পাঠানো ৭০ জনের মৃতু্যর মধ্যে ৬৯টি পর্যালোচনা করে ৩৭ জনের ডেঙ্গুতে মৃতু্যর বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে ডেথ রিভিউ কমিটি। বিভাগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৫ জন মারা গেছে খুলনা বিভাগে। খুলনা বিভাগ থেকে ২৪ জনের মৃতু্যর তথ্য পর্যালোচনার জন্য এসেছিল। শীতজনিত রোগে মৃতু্য ৫৪ জনের : চলতি শীত মওসুমে ডায়রিয়া ও শ্বাসতন্ত্রের নানা জটিলতায় আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ। এর মধ্যে শীতজনিত নানা রোগে মারা গেছেন ৫৪ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার হিসাবে, গত ১ নভেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৫৪ হাজার ৭৫৩ জন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯৭৩ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। জন্ডিস, আমাশয়, চোখের প্রদাহ, চর্মরোগ ও জ্বরসহ শীতজনিত অন্যান্য অসুস্থতায় ভুগেছেন ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯০৬ জন। এখন পর্যন্ত শ্বাসতন্ত্রের রোগে ২০, ডায়রিয়ায় ৪ জন এবং অন্যান্য জটিলতায় ৩০ জনের মৃতু্য হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখা। দেশের ২৯৬টি উপজেলা থেকে পাঠানো তথ্যের ওপর এ প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গত ২৪ ঘণ্টায় শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে ৯০৭ জন, ডায়রিয়ায় ১ হাজার ৯১৭ জন এবং অন্যান্য রোগে ২ হাজার ৯৯৯ জন আক্রান্তের তথ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিশ্চিত করিয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে