logo
মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৬ ফাল্গুন ১৪২৬

  যাযাদি রিপোর্ট   ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০  

৪১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি হচ্ছে না এ বছরের মার্চে

৪১তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে এ বছরের মার্চে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পিএসসির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, এ পরীক্ষা মার্চে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পরীক্ষা এপ্রিল মাসে হতে পারে বলেও জানিয়েছে ওই সূত্র। বুধবার এ নিয়ে কমিশনের বিশেষ সভায় আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে ওই সূত্র।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক বলেন, 'আগে ৩৮তম বিসিএসের ফল প্রকাশের চেষ্টা করব। এরপর ৪১তম বিসিএসের পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে।'

পিএসসি সূত্র জানায়, ৩৮তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা শেষে এখন পিএসসি ওই পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল ঘোষণার অপেক্ষায় আছে। এই ফল মার্চের মধ্যে হতে পারে বলে জানায় একটি সূত্র। এরপরই মূলত ৪১তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা নেবে কমিশন। গতকাল এসব বিষয়ে কমিশনের সভায় আলোচনা হয়।

৩৮তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয় গত বছরের ২৯ জুলাই থেকে। ১ জুলাই ৩৮তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করে পিএসসি। এতে পাস করেন ৯ হাজার ৮৬২ জন। লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন ১৪ হাজার ৫৪৬ জন প্রার্থী। পাস করা ওই প্রার্থীরা মৌখিক পরীক্ষা দেন।

এদিকে গত বছরের ২৭ নভেম্বর ৪১তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। এতে বিভিন্ন পদে ২ হাজার ১৩৫ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এবার সবচেয়ে বেশি নেওয়া হবে শিক্ষা ক্যাডারে। এই ক্যাডারে ৯১৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে বিসিএস শিক্ষায় প্রভাষক ৯০৫ জন, কারিগরি শিক্ষা বিভাগে প্রভাষক ১০ জন নেওয়া হবে।

শিক্ষার পরে বেশি নিয়োগ হবে প্রশাসন ক্যাডারে। প্রশাসনে ৩২৩ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। পুলিশে ১০০ জন, বিসিএস স্বাস্থ্যতে সহকারী সার্জন ১১০ জন ও সহকারী ডেন্টাল সার্জন ৩০ জন নেওয়া হবে।

পররাষ্ট্রে ২৫ জন, আনসারে ২৩ জন, অর্থ মন্ত্রণালয়ে সহকারী মহাহিসাবরক্ষক (নিরীক্ষা ও হিসাব) ২৫ জন, সহকারী কর কমিশনার (কর) ৬০ জন, সহকারী কমিশনার (শুল্ক ও আবগারি) ২৩ জন ও সহকারী নিবন্ধক হিসেবে ৮ জনকে নেওয়া হবে।

পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে পরিসংখ্যান কর্মকর্তা ১২ জন, রেলপথ মন্ত্রণালয়ে সহকারী যন্ত্র প্রকৌশলী ৪ জন, সহকারী ট্রাফিক সুপারিনটেনডেন্ট ১ জন, সহকারী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক ১ জন, সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ২০ জন, সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) হিসেবে ৩ জনকে নেওয়া হবে।

তথ্য মন্ত্রণালয়ে সহকারী পরিচালক বা তথ্য কর্মকর্তা বা গবেষণা কর্মকর্তা ২২ জন, সহকারী পরিচালক (অনুষ্ঠান) ১১ জন, সহকারী বার্তা নিয়ন্ত্রক ৫ জন, সহকারী বেতার প্রকৌশলী ৯ জন, স্থানীয় সরকার বিভাগে বিসিএস জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলে সহকারী প্রকৌশলী ৩৬ জন, সহকারী বন সংরক্ষক ২০ জন।

সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল পদে ২ জন, বিসিএস মৎস্যতে ১৫ জন, পশুসম্পদে ৭৬ জন, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ১৮৩ জন ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ৬ জন, বিসিএস বাণিজ্যে সহকারী নিয়ন্ত্রক ৪ জন।

পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ৪ জন, বিসিএস খাদ্যে সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক ৬ জন ও সহকারী রক্ষণ প্রকৌশলী ২ জন, বিসিএস গণপূর্তে সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ৩৬ জন ও সহকারী প্রকৌশলী (ই/এম) হিসেবে ১৫ জন কর্মকর্তাকে এই বিসিএসে নিয়োগ করা হবে।

এই বিসিএসে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৪ লাখ ৭৫ হাজার পরীক্ষার্থী প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য অনলাইনে আবেদন করেন।

আবেদনকারীর সংখ্যা এত বাড়ার কারণ কী? জানতে চাইলে পিএসসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক বলেন, বিসিএসের প্রতি তরুণদের আগ্রহ ও আস্থা বাড়ছে। এ কারণে এবার যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে।

পিএসসি সূত্র জানায়, এর আগে ৩৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশ নিতে ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৫৩২ জন প্রার্থী আবেদন করেন। ৩৭তম বিসিএসে অংশ নেন ২ লাখ ৪৩ হাজার ৪৭৬ জন পরীক্ষার্থী।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে