logo
  • Mon, 19 Nov, 2018

  ক্রীড়া প্রতিবেদক   ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০  

মরুর বুকে ক্রিকেটের লড়াই

মরুর বুকে ক্রিকেটের লড়াই
আজ এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে শ্রীলংকার। এই ম্যাচ সামনে রেখে অনুশীলনে টাইগার অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান Ñ সৌজন্য
মরুর বুকে আন্তজাির্তক ক্রিকেটের গোড়াপত্তন হয়েছিল ১৯৮৪ সালে। এশিয়া কাপের প্রথম আসর দিয়ে। ক্রিকেটকে জনপ্রিয় করার পেছনে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে শারজার বড় ভ‚মিকা। ভারত-পাকিস্তানের ক্রিকেট রণাঙ্গনের উত্তাপ উপমহাদেশের গÐি ছাড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যে অন্য এক উত্তেজনা দিয়েছে। যে ভেন্যুটি ক্রিকেটকে এতটা মাতিয়েছে, সেই শারজা এখন আন্তজাির্তক ক্রিকেটে মিউজিয়াম। ১৯৮৪ থেকে ২০০৪ পযর্ন্ত ১৯৮টি ওয়ানডে ম্যাচে যে ভেন্যুটি অন্য এক ইতিহাসের জন্ম দিয়েছে, ২৩৬ ম্যাচ আয়োজনে একক রেকডের্ এভারেস্টে এই ভেন্যুটি। সংযুক্ত আরব আমিরাতে আন্তজাির্তক ক্রিকেটের উত্তাপ এখন আর ছড়ায় না শারজা। জায়গাটা দখল করে নিয়েছে দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়াম। দুবাই সিটি স্পোটর্স কমপ্লেক্সে আইসিসি ক্রিকেট সেন্টারটিই এই ভেন্যুর মযার্দা দিয়েছে বাড়িয়ে।

আর দুবাইয়ের এই ভেন্যুতেই আন্তজাির্তক ক্রিকেটের নতুন শক্তি বাংলাদেশ ও সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন শ্রীলংকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে এশিয়া কাপের আসর। ১৩ দিনের এ টুনাের্মন্ট শেষ হবে ২৮ সেপ্টেম্বর। এবারের এশিয়া কাপ হবে ওয়ানডে ফরম্যাটে। টুনাের্মন্টে অংশ নেয়া ছয় দল হলো- বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলংকা, আফগানিস্তান, পাকিস্তান এবং হংকং। দুই গ্রæপ থেকে শীষর্ দুটি করে দল খেলবে সুপার ফোরে। যেখানে চার দল একে অপরের বিপক্ষে খেলবে একটি করে ম্যাচ। সেখানের শীষর্ দুই দল নিয়ে হবে ফাইনাল ম্যাচ।

১৯৮৪ তে শারজায় শুরু হয়েছিল এশিয়া কাপের আনুষ্ঠানিকতা। এখন পযর্ন্ত ১৩টি আসর গড়িয়েছে মাঠে। এর মাঝে ১২ আসর ওয়ানডে ফরম্যাটে হলেও, শেষবার হয়েছে টি২০ ফরম্যাটে। সবাির্ধক ৬ বার শিরোপার স্বাদ পেয়ে এশিয়া কাপের সবচেয়ে সফল দল ভারত। ১২ বার অংশ নিয়ে ২ বার ফাইনালে উঠলেও শিরোপা জেতা হয়নি বাংলাদেশের।

এশিয়া কাপের এই আসরটি দুবাইয়ে আয়োজন করার পেছনে রয়েছে কয়েকটি কারণ। এবারের আসর আয়োজন করার কথা ছিল ভারতে। তবে ভারত আসর আয়োজন করতে অপারগতা প্রকাশ করায় আরব আমিরাতে হবে এশিয়া কাপের ১৪তম আসরটি।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে স্থানীয়দের চেয়েও সংখ্যায় বেশি উপমহাদেশের চার দেশের মানুষ। উন্নত জীবনের সন্ধানে ভিড় করা ভারতীদের সংখ্যা এখানে ছাড়িয়ে গেছে ২৬ লাখ, পাকিস্তানিদের সংখ্যা সেখানে ১২ লাখ। তাদের পাশে বাংলাদেশের ৭ লাখ প্রবাসী-সংখ্যাটা কম নয়।

ভারত-পাকিস্তানের ক্রিকেট রণাঙ্গনের উত্তাপ উপমহাদেশের গÐি ছাড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যে অন্য এক উত্তেজনা দিয়েছে। ১৮ বছর পর পাক ভারতের ম্যাচকে ঘিরে তাই দুবাইয়ে এখন অন্য উত্তাপ। সুযোগটা নিয়েছে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি)। অন্য ম্যাচগুলোর সাধারণ দশর্ক গ্যালারির টিকিটের মূল্য যেখানে ৩৫ দিরহাম (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮০৫ টাকা), সেখানে ১৯ সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচের একই গ্যালারির টিকিটের দাম ১৫০ দিরহাম (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৪০০ টাকা)।

২৩ বছর পর আতুর ঘরে ফিরে যাচ্ছে এশিয়া কাপ। ১৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৩ এশিয়ার ক্রিকেট উন্নয়নের জন্য নতুন একটা সংগঠনের জন্ম হয়; এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল। যার অধীনে এক বছর পরই সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় অনুষ্ঠিত হয় এশিয়া কাপের প্রথম আসর। অংশ নেয় ভারত, পাকিস্তান এবং মাত্রই আইসিসির সদস্যপদ পাওয়া শ্রীলংকা। প্রথম সে আসরে লঙ্কানদের হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত।

এরপর ৮৬’তে শ্রীলংকায় ২য় আসরে প্রথমবারের মতো সুযোগ পায় বাংলাদেশ। চ্যাম্পিয়ন হয় স্বাগতিক শ্রীলংকা। ১৯৮৮’তে এশিয়া কাপে প্রথমবারের মতো স্বাগতিক হয় বাংলাদেশ। ২য় বারের মতো সেখানে শিরোপা উৎসব করে ভারত। ’৯০-এ রাজনৈতি-বৈরিতায় ভারতে খেলতে যায়নি পাকিস্তান। শ্রীলংকাকে হারিয়ে আবারো শিরোপা জিতে নেয় ভারত। ১৯৯৩ এ ভারত-পাকিস্তান অস্থিরতায় বাতিল হয়ে যায় টুনাের্মন্টটি।

’৯৫-এ ১১ বছর পর আবারো শারজাতে ফিরে আসে এশিয়া কাপ। টানা তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। ’৯৭-এ আবারো স্বাগতিক লঙ্কানরা। এবারও দেশ থেকে শিরোপা নিয়ে যেতে দেয়নি জয়সুরিয়ারা। দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতে শ্রীলংকা। ২০০০ সালে স্বাগতিক ছিল বাংলাদেশ। শ্রীলংকাকে হারিয়ে প্রথম শিরোপা জেতে পাকিস্তান। ২০০৪ এ আরব আমিরাত এবং হংকং’কেও আমন্ত্রণ জানানো হয় এশিয়া কাপে। ৩য় শিরোপা জেতে স্বাগতিক শ্রীলংকা।

এশিয়া কাপের নবম আসরে এসে প্রথমবারের মতো স্বাগতিক হওয়ার সুযোগ পায় পাকিস্তান। করাচির ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে ২০০৮’র চ্যাম্পিয়ন হয় শ্রীলংকা। ২০১০ এ আবারো স্বাগতিক শ্রীলংকা। সেবারই প্রথম দেশের মাটিতে শিরোপা জিততে ব্যথর্ হয় লঙ্কানরা। শিরোপা যায় ভারতের ঘরে। এরপরের টানা ৩ আসরের-ই স্বাগতিক ছিল বাংলাদেশ। ২০১২ তে পাকিস্তানের কাছে হেরে শিরোপা জেতা হয়নি টাইগারদের। পরের আসরে ২০১৪’তে চ্যাম্পিয়ন হয় শ্রীলংকা। এ আসর থেকেই এশিয়া কাপে সুযোগ দেয়া হয় আফগানিস্তানকে।

২০১৬ আসর ছিল এশিয়া কাপের ইতিহাসের প্রথম টি২০ টুনাের্মন্ট। আবারো টাইগার ভক্তদের কঁাদিয়ে ৬ষ্ঠ শিরোপা জিতে নেয় ভারত।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে