logo
বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২০, ১৯ চৈত্র ১৪২৫

  ক্রীড়া প্রতিবেদক   ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০  

বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে টেস্ট

চাপ নেননি অধিনায়ক মুমিনুল

মুমিনুল হকের নেতৃত্বে এই নিয়ে চার টেস্ট খেলল বাংলাদেশ। তিন টেস্ট পর হয়েছে ভাগ্যের পরিবর্তন।

চাপ নেননি অধিনায়ক মুমিনুল
আমি জানি না আপনাদের আমাকে দেখে কখনো চাপে আছি মনে হয়েছে কি না। তবে আমার নিজের কাছে মনে হয় না। আমি সবসময় যে জিনিসটা আশা করি যে, যেটা আমি চেষ্টা করি যে সবসময় আশাটা বড় রাখতে। আমি কোনো চাপে ছিলাম না -মুমিনুল হক
মুখচোরা, লাজুক হিসেবেই পরিচিতি ছিল তার। মুমিনুল হক কথাও বলতেন মেপে মেপে। পরিস্থিতির দাবিতে হুট করেই তার ঘাড়েই এসে পড়ে টেস্ট অধিনায়কত্বের ভার। ভারত সফরে দুই টেস্ট আর পাকিস্তানে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে অধিনায়ক মুমিনুলকে রীতিমতো খাবি খেতে দেখা গেছে। তবে ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়েকে বড় ব্যবধানে হারানোর পর বললেন, মাঠে মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবালদের মতো সিনিয়র ক্রিকেটারদের সামলাতে আগের চেয়ে ব্যক্তিত্ববান হয়ে উঠেছেন। দলের স্বার্থে কঠোর হতে পিছপা হন না।

খুব কঠিন সময়ে টেস্ট দলের দায়িত্ব নিয়েছেন মুমিনুল হক। সাকিব আল হাসান নিষিদ্ধ হওয়ায় অধিনায়কত্ব পান। মুমিনুলের প্রথম পরীক্ষা ছিল ভারতের মাটিতে। পরে পাকিস্তানে। শুরুর তিন টেস্টেই ইনিংস ব্যবধানে হার লেখা হয় টাইগারদের পাশে। মুমিনুলের নেতৃত্বে এই নিয়ে চার টেস্ট খেলল বাংলাদেশ। তিন টেস্ট পর হয়েছে ভাগ্যের পরিবর্তন। মুমিনুলের ব্যাটিং, দলের পারফরম্যান্স আর অধিনায়কত্ব ছিল বিবর্ণ। ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়েকে পেয়ে। প্রশ্ন উঠছিল তিনি কি সামলাতে পারবেন এই গুরুত্বপূর্ণ ভার?

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নিজে সেঞ্চুরি পেয়েছেন, দলের সবাই রান খরা কাটিয়েছে। ইনিংস ও ১০৬ রানে ক্রেইগ আরভিনের দলকে হারিয়ে তলানিতে নেমে যাওয়া আত্মবিশ্বাস এখন ঊর্ধ্বগামী। মাঠে সপ্রতিভ মুমিনুল না কি আয়ত্ত করেছেন অথরিটি নেওয়া।

মঙ্গলবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টেস্ট জেতার পর ফুরফুরে মেজাজে নিজের অধিনায়কত্ব নিয়ে উপলব্ধি জানান তিনি, 'আমার অধিনায়কত্ব শুরু হয়েছিল বিসিএল, জাতীয় লিগ দিয়ে। ওই জায়গায় (অধিনায়কত্বে) প্রথম প্রথম এরকমই (লাজুক) ছিলাম পরে দেখলাম যে, নাহ জিনিসটা বদলাতে হবে। যারা মাঠে থাকে তারা জানে। একটু আগ্রাসী, নিষ্ঠুর থাকতে হয়। ঠিক নিষ্ঠুর না আগ্রাসী থাকতে হয় আরকি। এখন সবাইকেই ঝাড়ি মারি (হাসি।)'

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৫ মাস আগেই সিরিজের প্রথম টেস্ট হেরেছিল বাংলাদেশ। পেছনে তাকালে শুধু চাপ ভর করার কথা মুমিনুলের। অধিনায়ক জানালেন, সে রকম কিছু অনুভব করেননি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টটি খেলতে নেমে, 'চাপে ছিলাম না। মানুষের যতটুকু চাপ নেয়া দরকার ততটুকুই ছিল। সবারই যার যার কাজে যতটুকু চাপ থাকে সেটুকুই ছিল। ৫-১০ ভাগ চাপ ছিল হয়তো।'

অধিনায়কত্বের প্রথম তিন ম্যাচের খারাপ করাকে স্বাভাবিকভাবেই দেখছেন বাংলাদেশের নতুন টেস্ট অধিনায়ক। তার কাছে বরং উন্নতির ধারা রাখতে পারাই মুখ্য, 'আমি জানি না আপনাদের আমাকে দেখে কখনো চাপে আছি মনে হয়েছে কি না। তবে আমার নিজের কাছে মনে হয় না। আমি সবসময় যে জিনিসটা আশা করি যে, যেটা আমি চেষ্টা করি যে সবসময় আশাটা বড় রাখতে। আমি কোনো চাপে ছিলাম না। দেখুন শুরুর দিকে একটু খারাপ হলে আমি বিষয়টিকে সেভাবে দেখি না। কারণ এটা হতেই পারে। আপনার যখন ভালো হবে তখন আস্তে আস্তে ভালো হতে থাকবে। আমার কাছে উন্নতি করাটাও গুরুত্বপূর্ণ।'

'আগামী যে পাকিস্তান সিরিজ আছে সেখানে আমি কেমন এবং দল হিসেবে ক্রিকেটাররা কেমন করছে সেটার দিকে তাকিয়ে আছি। আজকের দিনটি তো চলে গেছে, সেটা তো আর আসবে না। এর আগে যে তিনটি ম্যাচ হেরেছি সেখান থেকে আমি কি শিক্ষা নিতে পেরেছি অধিনায়ক এবং ক্রিকেটার হিসেবে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। '

নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের নেতৃত্বে ২০০০ সালে টেস্ট ক্রিকেটে শুরু বাংলাদেশের পথচলা। ২০ বছরে আরও দশ অধিনায়ক দায়িত্ব পালন করেছেন ১২০ টেস্টে। যার মধ্যে ইনিংস ব্যবধানে হার ৪৪টি। দেশের ১১তম টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল চার ম্যাচ নেতৃত্ব দিয়ে পেয়ে গেলেন ইনিংস ব্যবধানে জয়ের স্বাদ। ইনিংস ব্যবধানে বাংলাদেশের এটি সবে দ্বিতীয় জয়, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম। শেরেবাংলা স্টেডিয়ামেই ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ইনিংস ও ১৮৪ রানে হারিয়েছিল টিম টাইগার্স।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টে টাইগারদের বোলিং আক্রমণে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন নাঈম হাসান। দুই ইনিংস মিলিয়ে নয়জন ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে পাঠিয়েছেন এ ডানহাতি অফস্পিনার। প্রথম ইনিংসে ৩৮ ওভার বল করে ৭০ রান দিয়ে ৪টি উইকেট শিকার নাঈমের। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৪ ওভারে ৮২ রান খরচায় ৫টি উইকেট শিকার করেছেন এই বোলার। তবে ক্যারিয়ারের উষালগ্নে থাকা নাঈমকে নিয়ে বেশি মাতামাতি না করতে অনুরোধ করেছেন মুমিনুল, 'ও কেবল ক্যারিয়ার শুরু করেছে। আমি এখনই এটা নিয়ে খুব বেশি বলতে চাই না। আপনাদের কাছে একটা অনুরোধ থাকবে যেটা আমার জন্য, ওর (নাঈম) জন্য, বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ভালো হবে। ওর ক্যারিয়ারে এখনো অনেক কিছু করার বাকি আছে। ও যেভাবে শুরু করেছে, খুব ভালো বোলিং করেছে। আশা করছি আরও ভালো করবে। এখনই অসাধারণ এরকম কিছু বলতে চাচ্ছি না। ধীরে ধীরে ও আরও উন্নতি করবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শুরুর দিকেই বোঝা যায় না, অনেক দূর যেতে হবে। আমার কাছে মনে হয়, ওর আরও বেশি উন্নতি করতে হবে।'
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে