logo
শনিবার ২০ জুলাই, ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

  যাযাদি ডেস্ক   ১১ মে ২০১৯, ০০:০০  

ব্রেক্সিটে ঝুঁকি বাড়ছে ইইউ'র অর্থনীতিতে

ব্রেক্সিটে ঝুঁকি বাড়ছে ইইউ'র অর্থনীতিতে
যাযাদি ডেস্ক

ইউরোপীয় কমিশন (ইসি) সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, মার্কিন-চীন বাণিজ্যযুদ্ধের মাত্রা বৃদ্ধির হুমকি ও ব্রেক্সিট ঘিরে তৈরি অনিশ্চয়তা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থনীতিতে ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। খবর গার্ডিয়ান।

ইইউর ২০১৯ সালের প্রবৃদ্ধি নিয়ে নিজেদের পূর্বাভাস কমিয়েছে ইসি। সংস্থাটি বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক বাণিজ্যে যে শ্লথগতি তৈরি হয়েছে, তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এ মহাদেশের ওপর। ইসির নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর ২৮ দেশের ইইউর জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ১ দশমিক ৪ শতাংশ। এর আগে ১ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল সংস্থাটি।

চলতি সপ্তাহে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ফের আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। কিন্তু দিনকয়েক আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চীনা পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণা পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত করে তুলেছে। আগামী দিনে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে জানিয়ে কমিশন সতর্ক করে দিয়ে বলছে, বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যযুদ্ধ বৃদ্ধি পেলে ইইউর অর্থনীতি বড় ধাক্কা খেতে পারে।

অন্যদিকে ব্রেক্সিট-সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা ইইউর প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর ওপর চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের ঝুঁকি আগামী দিনের অর্থনৈতিক শক্তির জন্য হুমকি তৈরি করছে। ইসি বলছে, চুক্তিহীনভাবে বেরিয়ে গেলে ব্রিটেন সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হবে, তবে সেটি ইইউর ২৭ দেশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

মার্কিন-চীন আলোচনা চূড়ান্ত রূপ না পেলে ট্রাম্পের চীনা পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্কারোপের ঘোষণা শুক্রবার থেকে কার্যকর হতে পারে। ট্রাম্পের এ ঘোষণার পর সতর্কবার্তা নিয়ে হাজির হলো ইসি।

তবে অনেক বিশ্লেষক বলছেন, এ শুল্ক বৃদ্ধিকে আলোচনায় দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন ট্রাম্প, তাই আদতে এটি কার্যকর হবে না। ট্রাম্পের এ ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারগুলোয় দরপতন দেখা দেয়। এফটিএসই ১০০-এর পতন হয় ১২০ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৬৩ শতাংশ, ডাও জোনসের পতন হয় ১ দশমিক ৭ শতাংশ বা ৪৪২ পয়েন্ট।

এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রধান ক্রিস্টিন লাগার্দে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, বাণিজ্যযুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি পেলে এটি বিশ্ব অর্থনীতির মহা ক্ষতি করবে। তিনি বলেন, আইএমএফের মত হলো সবাইকে খুশি র্কতেএমন পন্থায় বাণিজ্য উত্তেজনা প্রশমন করা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে, কেননা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার উত্তেজনা পরিষ্কারভাবে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য হুমকি তৈরি করছে।

চলতি বছরের শ্লথগতির প্রবৃদ্ধি নিয়ে ইইউর পূর্বাভাস নির্দিষ্ট কিছু দেশের প্রবৃদ্ধিতে দুর্বলতা বজায় থাকাকে প্রতিফলিত করছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর ইতালির প্রবৃদ্ধি হবে শূন্য দশমিক ১ শতাংশ। ধারণা অনুযায়ী, অর্থনৈতিক শ্লথগতির কারণে ২০২০ সালে ইতালি সরকারের বাজেট ঘাটতি বেড়ে দাঁড়াবে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ, যা ২০১৯ সালে ছিল ২ দশমিক ৫ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক চাহিদা কমায় জার্মানির রফতানিতে টান পড়েছে। অন্যদিকে রয়েছে ব্রেক্সিটে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা ও গাড়ি ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের শ্লথগতি। এসব কারণে চলতি বছরের জন্য জার্মানির প্রবৃদ্ধির হার আগের ১ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। ২০১৮ সালের দ্বিতীয়ার্ধে জার্মানি অল্পের জন্য মন্দা এড়াতে সক্ষম হয়েছিল।

বছরের শুরুতে প্রত্যাশার তুলনায় ভালো পারফরম্যান্সের কারণে চলতি বছরের জন্য যুক্তরাজ্যের প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস শূন্য দশমিক ১ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়িয়ে করা হয়েছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ। পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, ব্রেক্সিট প্রক্রিয়ায় অগগতির অভাবে যুক্তরাজ্য ও ইইউর মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্কে স্থবিরতা নেমে এসেছে এবং চুক্তিহীন ব্রেক্সিট হলে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ক্ষতি সম্মুখীন হবে।

ইউরোপিয়ান কমিশনের ইউরো অ্যান্ড সোস্যাল ডায়ালগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ভেলদিস দোমব্রোভক্সি বলেন, পূর্বাভাসে ঝুঁকির দিকগুলো তুলে ধরা হয়েছে। ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বাণিজ্যযুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি এবং উদীয়মান বাজারগুলোর দুর্বলতা, বিশেষ করে চীনের। ইউরোপে সম্ভাব্য চুক্তিহীন ব্রেক্সিট নিয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

বিশ্বের প্রথম ভাসমান দুগ্ধ

খামার রটারডামে

আমস্টারডামের অদূরে নেদারল্যান্ডসের একটি কোম্পানি বিশ্বের প্রথম ভাসমান দুগ্ধ খামার চালু করতে যাচ্ছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও বহুমুখী সুবিধাসম্পন্ন ভাসমান এ খামারটি নেদারল্যান্ডসের দ্বিতীয় বৃহত্তম বন্দর নগরী রটারডামের পানিতে ভাসতে যাচ্ছে। এ খামার রাজধানী আমস্টারডাম থেকে ৫০ মাইল দূরে তৈরি করা হবে। ৮৯ ফুট দীর্ঘ ও ৮৯ ফুট প্রশস্ত এ খামার দৈনিক গড়ে ২১১ গ্যালন দুধ উৎপাদন করতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি বেলাডনের ব্যবসায়িক অংশীদার মিংক ভ্যান উইঙ্গারডেন।

এ খামারের গরুর সংখ্যা ৪০টি। নেদারল্যান্ডসের ছোট খামারগুলোয় সচরাচর এ সংখ্যক গরুই থাকে। বিজনেস ইনসাইডারকে ভ্যান উইঙ্গারডেন জানিয়েছেন, ভাসমান খামারের বিষয়টা কিছুটা বিচিত্র ও কিছু মানুষের জন্য খুব বেশি যৌক্তিক না হওয়া সত্ত্‌েবও আমরা মনে করি পানির উপরে ক্ষেত্র সৃষ্টি করার এখনো অনেক অবকাশ রয়ে গেছে। পানির উপরে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমরা নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারি।

২০১২ সালে নিউইয়র্কে একটি ব্যবসায়িক সফরের পর ভ্যান উইঙ্গারডেন ও তার স্বামী পিটার ভ্যান উইঙ্গারডেনের মাথায় এ পরিকল্পনা আসে। তাদের সফরের সময়ই নিউইয়র্কে আঘাত হানে হারিকেন স্যান্ডি। বন্যায় ভেসে যায় ম্যানহাটন সিটি। বিদু্যৎ না থাকায় অন্ধকারে ডুবে যায় অনেক নগরবাসী। এ ঝড়ের ফলে হঠাৎ করে তাজা খাদ্য সামগীর সংকট দেখা দেয়, কেনান বন্যার কারণে গন্তব্যে পৌঁছতে পারছিল না কয়েক হাজার খাদ্যবাহী ট্রাক।

যেসব শহরের আশপাশে খাবার উৎপাদন করা হয়, সেগুলোর সরবরাহ শৃঙ্খলায় যেকোনো ধরনের আঘাত আরো ভালোভাবে প্রতিরোধ করার জন্য বেলাডন একটি উপায় বের করার সিদ্ধান্ত নেন।

রুফটপ, গুদাম ঘরসহ অন্যান্য জায়গায় শহুরে কৃষির ধারণার সঙ্গে যুক্ত হয় পানিতে ভাসমান খামারের ধারণা। খামারগুলো ঘূর্ণিঝড় প্রতিরোধী ও আবহাওয়ার সঙ্গে তাল রেখে মানিয়ে চলতে পারবে বলে জানিয়েছেন মিংক ভ্যান উইঙ্গারডেন।

তিনি আরো জানিয়েছেন, জোয়ার-ভাটায় এসব খামার ওঠানামা করতে পারবে এবং এতে খাদ্য উৎপাদনে কোনো ব্যাঘাত হবে না। এতে যেকোনো পরিস্থিতিতে শহরে খাদ্য উৎপাদনের অবকাশ থাকছে।

প্রক্রিয়াকরণ ও দুগ্ধ প্যাকেটজাতের যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হবে খামারের নিচতলায়। গাভী ও দুধ দোহনের রোবট থাকবে দ্বিতীয় তলায়। গবাদি পশুর খাদ্য ত্রিপাতাবিশিষ্ট ছোট এক ধরনের গাছ ও ঘাস চাষের জন্য ব্যবহার করা হবে খামারের তৃতীয় তলা।

যতটা সম্ভব এ খামার রিসাইকেল পদ্ধতি ব্যবহার করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। উদাহরণস্বরূপ, গরুকে খাওয়ানো হবে শহরের বিভিন্ন উচ্ছিষ্ট খাদ্য, যেমন স্থানীয় ভাঁটিখানা থেকে ফেলে দেয়া শস্যদানা ও মিল-কারখানার উপজাত। বেলাডন নিজেদের গরুর বর্জ্যও প্রক্রিয়াজাত করে প্রাকৃতিক সার হিসেবে বিক্রি করবে।

রটারডামের এ প্রকল্প চালু হওয়ার পর বেলাডন আরো ভাসমান খামার চালু করতে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন ভ্যান উইঙ্গারডেন। দুগ্ধ খামারের বাইরে ভাসমান মুরগির খামার ও ভাসমান ভার্টিক্যাল গিনহাউজ খামারও চালু করার কথা ভাবছে কোম্পানিটি। তিনি আরো জানিয়েছেন, তারা সিঙ্গাপুর ও চীনেও এ ধরনের খামার চালু করার পরিকল্পনা করছে। নেদারল্যান্ডসের আরেকটি শহরে দ্বিতীয় ভাসমান খামার চালু করার জন্য কোম্পানিটি আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি ও তার স্বামী বিশ্বাস করেন, খাদ্য সুবিধার কথা মাথায় রেখে নতুন কমিউনিটিগুলোর পরিকল্পনা করা উচিত। উদাহরণ হিসেবে রটারডাম সমুদ্রবন্দরের আশপাশের এলাকাগুলোর কথা বলা যায়। এসব এলাকা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ঘরবাড়ি ও অফিসে ভরে উঠবে। এসব নতুন প্রকল্প পরিকল্পনার সময় খাদ্য উৎপাদনের বিষয়টা কমিউনিটির কেন্দ্রে রাখা উচিত।

দুর্গন্ধ ও কোলাহল নিয়ে বাড়তে থাকা সচেতনতার কথা মাথায় রেখে রটারডাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বেলাডনের খামারের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে কিছু বিধি-নিষেধের কথা জানিয়েছে। ভ্যান উইঙ্গারডেন জানিয়েছেন, খামারের বর্জ্য রোবট দিয়ে খুব দ্রম্নত সরিয়ে ফেলা হবে, ফলে খামারের দুর্গন্ধ তেমন একটা ছড়াতে পারবে না। অন্যদিকে গরুর কোলাহল তেমন একটা সমস্যা না!

তিনি এটাও বলেছেন, কী হতে যাচ্ছে, তা নিয়ে কিছু লোক উদ্বিগ্ন রয়েছে বটে। ভাসমান খামারে প্রথম গরুটা কবে আসবে, তা দেখার তর সইছে না অনেকের। সমুদ্রবন্দরে গরু দেখার অধীর আগহে দিন গুনছে তারা।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে