logo
শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

  অনলাইন ডেস্ক    ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০  

পুরান ঢাকার কেমিক্যাল গোডাউন সরাতে তিন প্রকল্প চলমান

যাযাদি রিপোর্ট

কয়েকবার পুরান ঢাকায় কেমিক্যাল গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। তাই পুরান ঢাকাকে কেমিক্যাল গোডাউনের অগ্নিকান্ডের হাত থেকে নিরাপদ করতে ২০১০ সালে আবাসিক এলাকা থেকে কেমিক্যাল কারখানা-গোডাউন সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। কিন্তু সেটি আজ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। তবে শিল্পসচিব মো. আবদুল হালিম জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তিন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। তিনটির কাজই চলমান।

সোমবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে অর্থনৈতিক রিপোর্টারদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) কার্যালয়ে 'চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য উন্নয়ন নীতিমালা-২০১৯ অবহিতকরণ' বিষয়ক কর্মশালায় প্রশ্নোত্তর পর্বে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। শিল্প মন্ত্রণালয় এবং ইআরএফ যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।

কর্মশালার উদ্বোধন করেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, শিল্পসচিব মো. আবদুল হালিম, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মো. শাহিন আহমেদ, ইআরএফ সভাপতি সাইফুল ইসলাম দিলাল, সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলাম প্রমুখ।

২০১০ সালের ৩ জুন পুরান ঢাকার নিমতলিতে কেমিক্যাল গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় বহু হতাহতসহ সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে আবাসিক এলাকা থেকে কেমিক্যাল কারখানা-গোডাউন অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

কিন্তু সেটি বাস্তবায়ন না হতেই চলতি বছরের ২০ ফেরুয়ারি পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টা এলাকায় কেমিক্যাল গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ঘটনা ঘটলে আবাসিক এলাকা থেকে কেমিক্যাল কারখানা স্থানান্তরের বিষয়টি জোরেশোরে উঠে আসে। এ বিষয়ে অগ্রগতি কী জানতে চাইলে শিল্পসচিব বলেন, এ সংশ্লিষ্ট তিনটা প্রকল্প গ্রহণ করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়। শ্যামপুরে উজালা ম্যাচ ফ্যাক্টরি এলাকায় সমায়িকভাবে কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের স্থানান্তরের কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয়টা হচ্ছে টুঙ্গী এলাকায়। এ প্রকল্পেরও ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে জমি অধিগ্রহণও হয়েছে। সেটারও কার্যাদেশ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এটা ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। আমরা আশাবাদী নির্ধারিত সময়ই এ প্রকল্প দুটির কাজ শেষ হবে। এ প্রকল্প দুটি সম্পন্ন করতে আমরা এ বছরই সরকারের কাছ থেকে অর্থ বরাদ্দ পেয়েছি।

এছাড়া নিমতলিতে আগুন লাগার ঘটনার পর কেরানীগঞ্জে কেমিক্যাল গুদাম সরিয়ে নিতে একটি বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে সেটি সিরাজদিখান উপজেলায় ৩১০ একর জমিতে করা হবে বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করতে হলে অনেকগুলো ধাপের মাধ্যমে যেতে হয়। তারপরও এ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা আমাদের অনেক ছাড় দিয়েছে। সিরাজদিখান উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়নে জমির অনুমোদন পাওয়া গেছে। এখন জেলা প্রশাসক জমি অধিগ্রহণে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে হিসাব-নিকাশ শুরু করেছেন।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে