কিশোরগঞ্জে হাওড়ের বোরো ধান নিয়ে শঙ্কায় কৃষকরা

কিশোরগঞ্জে হাওড়ের বোরো ধান নিয়ে শঙ্কায় কৃষকরা

কিশোরগঞ্জের হাওড়ে বোরো মৌসুমে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে এ সপ্তাহের শেষ দিকে প্রচণ্ড ঝড় ও শীলাবৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তাছাড়াও ভারতের আসাম ও মেঘালয়ে প্রচণ্ড বৃষ্টি থাকায় উজান থেকে বয়ে আসা পানিতে সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ জেলায় সুরমা, কুশিয়ারা ও মনু নদীর পানি বৃদ্ধি পাবে। এতে করে হাওড়ের নিচু অঞ্চল তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই হাজার হাজার কৃষক ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন, ধান কাটা, পরিবহণ, মাড়াই আর ঝাড়াইয়ের কাজে।

কৃষি বিভাগের সূত্র মতে, ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ৫০ ভাগ জমির ধান কাটা হয়েছে। ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ৮০ ভাগ জমির ধান কাটা শেষ হবে। কিন্তু এরই মধ্যে অতি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ২৪ এপ্রিল থেকে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুরসহ বিভিন্ন জেলায় ভারী বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সুরমা, কুশিয়ারা, মনু, মেঘনাসহ বিভিন্ন নদনদীর পানি বেড়ে হাওড়ের নিচু এলাকার বোরো ধান তলিয়ে যেতে পারে।

কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. সাইফুল আলম জানান, হাওড়ে ধানকাটা পুরোপুরি শুরু হতে আরও দু-একদিন সময় লাগবে।

এদিকে ধান কাটার জন্য মৌসুমি শ্রমিক দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসতে শুরু করেছে। বিশেষ করে সিরাজগঞ্জ ও গাইবান্ধা থেকে শ্রমিকরা বাসে করে কিশোরগঞ্জে আসছে। তবে পথে পথে পুলিশি হয়রানির শিকারও হয়েছে।

খাদ্যে উদ্বৃত্ত জেলা কিশোরগঞ্জে প্রতি বছর বোরো ধানকাটা মৌসুমে আগাম বন্যাসহ নানা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কায় দিন কাটে কৃষকদের। আগাম বন্যার হাত থেকে হাওড়ের ফসল রক্ষা করতে জেলার ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামসহ কয়েকটি উপজেলায় নির্মাণ করা হয়েছে ৫৪টি নতুন ফসলরক্ষা বাঁধ। কিশোরগঞ্জের সাতটি হাওড় উপজেলায় ৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬৩.৫৯ কিলোমিটার দীর্ঘ ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শেষ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ইতোমধ্যেই জেলার ইটনায় ২৪.১৩ কিলোমিটার, মিঠামইনে ৩.৪৮ কিলোমিটার, অষ্টগ্রামে ১৮.৫ কিলোমিটার, নিকলীতে ১৩.৬৭ কিলোমিটার, ভৈরবে ১.৫৮ কিলোমিটার, তাড়াইলে ২.১১৬ কিলোমিটার ও করিমগঞ্জে .৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে।

এদিকে মাসের শুরুতেই গরম হাওয়ার কারণে হাওড়ে বোরো ধানের পরাগায়ন ব্যাহত হয়। ফলে অধিকাংশ ধান চিটা হয়ে যায়। এ অবস্থা পরিদর্শনের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মেসবাহুল ইসলাম, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শাহজাহান কবীর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আসাদুল্লাহ ও ঢাকা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক (ধান) বশির আহম্মেদ সরকার কিশোরগঞ্জে আসেন। তারা নিকলী উপজেলার বড় হাওড় পরিদর্শন করেন এবং কৃষকদেরকে ধান রক্ষায় বিভিন্ন পরামর্শ দেন।

কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসেবে, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় ৩৫৯৫ হেক্টর, হোসেনপুরে ২৩০ হেক্টর, পাকুন্দিয়ায় ৭৪০ হেক্টর, কটিয়াদীতে ২৩০৩ হেক্টর, করিমগঞ্জে ৩৮০০ হেক্টর, তাড়াইলে ১৩৯৫ হেক্টর, ইটনায় ৪৭৫০ হেক্টর, মিঠামইনে ১৯৪০ হেক্টর, নিকলীতে ২৬৩৫ হেক্টর, অষ্টগ্রামে ৪৫০ হেক্টর, বাজিতপুরে ২৪০ হেক্টর, কুলিয়ারচরে ১১২ হেক্টর ও ভৈরবে ২৯০ হেক্টর জমির বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এবার কিশোরগঞ্জে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ২ হাজার ৫০০ হেক্টরই হাওড়ে। এসব ধান থেকে ৭ লাখ ১১ হাজার ৫৮০ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

যাযাদি/ এস

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে