​সম্পর্কের গল্প ‘কালো জল’

​সম্পর্কের গল্প ‘কালো জল’

সম্পর্ক- এই সম্পর্কের ভালোমন্দ আছে। প্রতিটি সম্পর্কের আছে নিজস্ব গল্প। এসব টুকরো টুকরো গল্প নিয়েই জীবন। সরল সম্পর্কের এলোমেলো সমীকরণ কখনো কোথাও জটিল কিংবা যৌগিক। বেলাশেষে সম্পর্কের হিসাব পাকা না হলেই গোল বাঁধে। ‘কালো জল’ সম্পর্কের মিল-অমিলের সমীকরণ।

এম মামুন হোসেনের দ্বিতীয় উপন্যাস ‘কালো জল’ প্রচ্ছদ করেছেন দেশ সেরা ধ্রুব এষ। এবারের বইমেলায় বইটি আনছে অনিন্দ্য প্রকাশ। লেখকের প্রথম উপন্যাস ‘তুপা’ ব্যাপক পাঠকপ্রিয় হয়েছিল।

কালো জল-এ বায়ান্ন বাজার তেপান্ন গলির ঢাকার ছেলে হাসানের সঙ্গে সুলতানার সংসার। বউ বাচ্চার পাওয়া কিংবা না পাওয়ার হিসাবনিকাশ। আবার মা-হারা ডা. মাহী, তার শেকড়ের টানে ছুটে চলা। সেখানে পিতাপুত্রের সম্পর্কের টানাপোড়েন। মাহীর নতুন চোখে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। আর মায়ার সম্পর্কে রত্না-মাহীর বাঁধা পড়া।

‘কালো জল’ উপন্যাসের শুরুটা এমন।

‘শালায়, পাইলসের জন্য চেয়ারে ঠিকমতো বসবার পারে না, আবার পোলা হইছে! পরপর তিন তিনটা মেয়ে, এখনো বংশরক্ষা হইল না। বন্ধুদের যেখানে একটা, না হয় বড়োজোর দ্ুিট বাচ্চা। আর আমার স্ত্রীরে বছর বছর পোয়াতি কইরাও মনের আশ মিটল না।’ ফেসবুকে ‘কনগ্র্যাচুলেশন’ শব্দটা লিখেই হাসান মনে মনে এইসব বিড়বিড় করছিল।

অন্তর জ্বালা! কারো পৌষমাস আর কারো সর্বনাশ। ফুটফুটে সদ্যোজাত শিশুর ছবি দিয়ে লিখেছে, ‘আবার পুত্রসন্তানের জনক হলাম। রাজপুত্র ও তার মা ভালো আছে। সবাই দোয়া করবেন।’ সবাই গদগদ হয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে জুয়েলকে।

ডা. মাহীর চোখে মুক্তিযুদ্ধ তার দাদার বয়ানে- ‘আমার ছেলে মহিউদ্দিন চৌধুরী বীর মুক্তিযোদ্ধা। একাত্তর সালের সেই কালো দিনগুলোর কথা একদিনের জন্য ভুলে যেতে পারিনি। পাকবাহিনীর ক্যাম্পে পৌঁছে গেল চৌধুরী সাহেবের ছেলে মুক্তি। আমার ছেলেকে না পেলে পুরো গ্রাম তছনছ করে দেবে। এলাকার সবাইকে বাঁচাতে তিন জওয়ান পোলাকে ওদের হাতে তুলে দিলাম। ওই যে বসে আছে রামচন্দ্র, মোহাম্মদ আলী। তাদের ছেলে। আর ইব্রাহীমের ছেলেকে মহিউদ্দিন চৌধুরী বানিয়ে ওদের হাতে তুলে দিলাম। অত্যাচার করে ছেলেগুলোকে মেরে ফেলল। ছেলের মৃত্যুশোকে ইব্রাহীম মারা গেল। আমি সেদিন পাপ করেছি।

রামচন্দ্র, মোহাম্মদ আলী, ইব্রাহীমের পরিবারের কোনো অভাব আমি রাখিনি। কিন্তু ওদের চোখের দিকে তাকাতে পারি না। একটা পাপবোধ আমাকে কুরে কুরে খায়।

যুদ্ধশেষে আমার ছেলে স্বাধীন দেশে ফিরে এলো। এসব ঘটনা জানতে পারল। তার পিতা অপরাধ করেছে। ভুল করেছে। আমার একমাত্র সন্তান মহিউদ্দিন- আমাকে ছেড়ে চলে গেল।

ওরা শহিদ সন্তানের পিতা। আর আমি পুত্র বেঁচে থাকতেও সন্তানহারা পিতা। এটা কী যে কষ্টের, দুর্বিষহ যন্ত্রণার। মৃত্যুপথযাত্রী বউমাকে শেষ দেখাটা দেখতে পারিনি। আমার নাতিকে দেখিনি। ওকে আদর করতে পারিনি। জড়িয়ে ধরতে পারিনি। ওর সঙ্গে খেলতে পারিনি। ওর বন্ধু হতে পারিনি। মাহী, দাদুভাই আমার বুকে আয়।’

যাযাদি/এস

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে