শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২০ মাঘ ১৪২৯
walton1

মধুপুরে হারিয়ে যাচ্ছে মৃৎশিল্প

মো. নজরুল ইসলাম মধুপুর (টাঙ্গাইল) থেকে
  ১০ নভেম্বর ২০২২, ১১:৪৫

মনের আনন্দে হাটির জিনিসপত্র তৈরির জৌলুস হারিয়ে ফেলছেন টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার পালেভিটা গ্রামের মৃৎশিল্পীরা। এক সময়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত বৈশাখীর মেলার চাহিদা মিটিয়ে মৃৎশিল্পীরা তাদের মাটির তৈরী জিনিসপত্র দেশের বিভিন্নস্থানে বাজারজাত করতে পরিবারের সবাইকে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করত। তারা মনের মাধুরী মিশিয়ে বিভিন্ন মাটির তৈরী খেলনার আকৃতি দিতেন। চাকার মাধ্যমেও মাটিকে বিভিন্নভাবে আকৃতি দেয়া হতো। তারপর সেই মাটির জিনিস পত্রগুলো আগুনে পুড়িয়ে শক্ত করা হতো।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বৈশাখী মেলায় নিজেদের হাতের তৈরী মাটির বিভিন্ন জিনিসপত্রের পসরা সাজতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে পালপাড়ার মৃৎশিল্পীরা। কেউ বা মাটি দিয়ে বিভিন্ন প্রকারের হাড়ি-পাতিল, কেউবা বিভিন্ন পশু-পাখিসহ বিভিন্ন প্রাণীর আকৃতি তৈরীতে ব্যস্ত, কেউবা তুলি নিয়ে মনের মাধুরী দিয়ে রংয়ের কাজে ব্যস্ত। অনেকেই আবার কাঁচা মাটির খেলনাগুলো রোদে শুকাচ্ছে। এবারের বৈশাখী মেলাকে ঘিরে স্কুল কলেজ পড়–য়া ছেলে-মেয়েরা তাদের বাবা-মাকেও নানা ভাবে এ কাজে সাহায্য করছে। পালপাড়ার সবাই এখন ব্যস্ত। কার চেয়ে কে বেশি খেলনা তৈরী করতে পারে। এখানে কেউ মাটি গুড়– করে কাঁদা তৈরী করছেন, কেউ চাকায় কাঁদা বসিয়ে হাঁড়ি-পাতিল তৈরী করছেন। পাশাপাশি তুলসী পাল, উজ্জল পাল, নির্মল পাল, বাসনা পাল, অর্চনা পাল, রেখা পাল, বাণী পাল ও সন্ধ্যা রানী পাল এসব খেলনা-পাতিল ডিজাইন করা, রং করা, রোদে শুকানো, আগুনে পোড়ানোসহ সকল কাজেই ব্যস্ত।

পালপাড়ার গোবিন্দ্র পাল জানান, এবারের বৈশাখী মেলায় মাটিগুলো তারা বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করেছেন। এছাড়া এ এলাকার মৃৎশিল্পীদের উৎপাদিত মাটির পণ্যগুলো বিভিন্ন মার্কেটেও সরববাহ করা হয়ে থাকে। আমরা এ বছর হরিণ, গরু, ঘোড়া, হাতি, খরগোশ, উটপাখি, হাঁস, বক, টিয়া, গন্ডারসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাণীর আকৃতি তৈরী করেছি। একই এলাকার বয়োঃবৃদ্ধ সুমিতি রানী পাল কাঁপা হাতে ব্যস্ত খেলনা তৈরীতে। তিনি বলেন, আমরা এ বছর সোনালী রংয়ের পাতিল, ঢোল, মগ, কারি বল, জগ, লবণ বাটি, শালকি (বসনা), তরকারির বাটি তৈরী করেছি। এছাড়াও তৈরী করা হয়েছে মাটির সাধারণ ফলের টপ। আধুনিক নানা ধরনের খেলনাও। রাসায়ানিক কোন পদার্থ ছাড়াই তৈরী করা হয় মাটির এসব পণ্য। পণ্যের রং করা হয় প্রাকৃতিক উপায়ে। আর এসব রং সংগ্রহ করা হয় নানা ধরনের গাছের কষ থেকে। যা পরিবেশের কোন ক্ষতি হয় না।

ইসলামপুর পালপাড়া গ্রামের বাবলু, নিতাই, রাম ও প্রদীপ চন্দ্র পাল বলেন, কঠোর প্ররিশ্রমের মাধ্যমে বাপ-দাদার পেশাকে আমরা ধরে রেখেছি। আমাদের পণ্যের অনেক সুনাম রয়েছে। এই পহেলা বৈশাখেই আমাদের বেচা সবচেয়ে বেশি হয়। এবারের বৈশাখে দেশের বিভিন্ন মেলায় এ মাটির তৈরী পণ্য সরবরাহ করবেন তারা। 

যাযাদি/ সোহেল
 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে