বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৯ মাঘ ১৪২৯
walton1

কথাসাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেনের জন্মবার্ষিকী আজ

সোহেল মিয়া, রাজবাড়ী থেকে
  ১৩ নভেম্বর ২০২২, ১০:২৬

ঊনবিংশ শতাব্দীর বিস্ময়কর মুসলিম প্রতিভা বাংলা সাহিত্যের অমর দিকপাল কালজয়ী উপন্যাস বিষাদ সিন্ধ রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেনের ১৭৫ তম জন্মবার্ষিকী আজ রোববার (১৩ নভেম্বর)

 

দিবসটি ঘিরে বাংলা একাডেমি দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। বিষয়টি যায়যায়দিনকে নিশ্চিত করেছেন মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতিকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ ফয়সল আমীন। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসন, মীর মশাররফ হোসেন সাহিত্য পরিষদ, মীর মশাররফ হোসেন ডিগ্রী কলেজ, আলোর পথের যাত্রী ঐক্য পরিষদসহ স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় উদযাপন করবে।

 

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির নবাবপুর ইউনিয়নের পদমদী গ্রামে মীরের সমাধিস্থল মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতিকেন্দ্রে এই আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানমালায় রয়েছে আলোচনা সভা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

 

বাংলা একাডেমির আমন্ত্রণপত্র সূত্র জানা যায়, ১৩ নভেম্বর সোমবার সকালে মীর মশাররফ হোসেনের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাবে  বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মুহম্মদ নূরুল হুদাসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে থাকবেন রাজবাড়ী- আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা জিল্লুল হাকিম।

 

রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আবু কায়সার খানের সভাপতিত্বে  সকাল ১১ টায় স্বাগত ভাষণ প্রদান করবেন বাংলা একাডেমির পরিচালক ডা. কে. এম. মুজাহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি থাকবেন বাংলা একাডেমির সচিব . এইচ. এম. লোকমান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আবুল কালাম আজাদ।

 

আলোচনা সভার প্রধান বক্তা বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। প্রাবন্ধিক পাঠ করবেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক . আবুল আহসান চৌধুরী। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবেন বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আম্বিয়া সুলতানা।

 

সন্ধ্যায় স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা সফল করতে সবধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতিকেন্দ্রটি সাজানো হয়েছে প্রকৃতির নান্দনিক সাজে। রঙ-বেরঙের সবুজ পাতাবাহার দৃষ্টিনন্দন করছে পুরো স্মৃতিকেন্দ্রটি।

 

উল্লেখ্য, ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন মীর মশাররফ হোসেন। জন্মের পর বালিয়াকান্দিতেই বেড়ে ওঠেন তিনি। ১৯১১ সালে ১৯ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করলে তাঁকে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির নবাবপুরের পদমদীতেই সমাহিত করা হয়।

 

বাংলা সাহিত্যের এই অমর দিকপাল বাংলা ভাষার অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ। কারবালার যুদ্ধকে উপজীব্য করে রচিত বিষাদ সিন্ধু তার সবচেয়ে জনপ্রিয় সাহিত্যকর্ম। এখন পর্যন্ত মীর মশাররফ হোসেনের মোট ৩৬টি বইয়ের সন্ধান পাওয়া যায়।

 

জমীদার দর্পণ, গোরাই-ব্রিজ অথবা গৌরী-সেতু, বসন্তকুমারী নাটক, বিষাদ-সিন্ধু, বেহুলা গীতাভিনয়, উদাসীন পথিকের মনের কথা, তহমিনা, টালা অভিনয়, নিয়তি কি অবনতি, গাজী মিয়াঁর বস্তানী, মৌলুদ শরীফ, মুসলমানদের বাঙ্গালা শিক্ষা, বিবি খোদেজার বিবাহ, হযরত ওমরের ধর্মজীবন লাভ, মদিনার গৌরব, বাজীমাৎ সহ নানা বিখ্যাত গ্রন্থের কারুকার তিনি।

 

যাযাদি/সাইফুল

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে