​৬৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ে তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন

​৬৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ে তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন

তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে সবমেরিন ক্যাবল স্থাপনে সংশ্লিষ্ট অংশের ক্রয় কাজের জন্য রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে ৬৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৬ ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বুধবার (৭ এপ্রিল) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে এ প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকে কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যুক্ত ছিলেন।

বৈঠক শেষে অনুমোদিত প্রস্তাবগুলো বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. শাহিদা আক্তার। তিনি বলেন, ‘আজকের বৈঠকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অধীন বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃক তৃতীয় সবামেরিন ক্যাবল স্থাপন সংশ্লিষ্ট অংশের ক্রয় কাজ রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে জনস্বার্থে এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৬ কনসোর্টিয়ামের নিজস্ব ক্রয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।’

প্রকল্পের মূল কাজ এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৬ কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে নতুন একটি সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন। অন্যান্য কনসোর্টিয়াম ক্যাবলের মতো এসএমডব্লিউ-৬ সাবমেরিন ক্যাবলে প্রধানত দু’টি অংশ রয়েছে। কোর অংশ ও ব্রাঞ্চ অংশ।

কোর অংশ হবে সিঙ্গাপুর থেকে জিবুতি, মিশর হয়ে ফ্রান্স পর্যন্ত বিস্তৃত মূল ক্যাবল এবং ব্রাঞ্চ অংশ (বাংলাদেশ ব্রাঞ্চ) হবে কক্সবাজারের সঙ্গে মূল কোর ক্যাবলের সংযোগস্থল (ব্রাঞ্চিং ইউনিট) পর্যন্ত প্রায় এক হাজার ৮৫০ কিলোমিটার। প্রকল্পের মোট প্রাক্কলন ব্যয় ৬৯৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এরমধ্যে জিওবি ৩৯২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা এবং বিএসসিসিএল এর নিজস্ব অর্থায়ন তিনশ’ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। অনুমোদিত ডিপিপি-এর ক্রয় পরিকল্পনায় পণ্য সংগ্রহের জন্য চারটি ও পূর্ত কাজের জন্য দু’টি প্যাকেজ রয়েছে। পণ্য সংগ্রহের একটি প্যাকেজ ‘সাবমেরিন ক্যাবল ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম’ এর ক্ষেত্রে ক্রয় আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

অনুমোদিত ডিপিপি অনুযায়ী, যার প্রাক্কলিত ব্যয় ৬৫৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা। বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের সমন্বয়ে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে এসডব্লিউ-৬ ক্যাবলটি স্থাপনের কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়ায় প্রকল্পের সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন অংশের ক্রয় প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে কনসোর্টিয়ামের নিজস্ব ক্রয় পদ্ধতিতেই হবে। সে অনুযায়ী এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৬ সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োগের ক্ষেত্রে কনসোর্টিয়ামের সব সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহ করে দরপত্র আহ্বান করা হয়।

জানা গেছে, দরপত্রে চারটি কোম্পানি অংশ নেয়। এক্ষেত্রে কনসোর্টিয়াম নির্ধারিত ক্রয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী আর্থিক ও কারিগরি দিক যাচাই-বাছাই করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করে কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে নির্বাচিত ঠিকাদারের চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে এবং কনসোর্টিয়ামের সদস্যদের মধ্যে কন্সট্রাকশন এবং মেইনটেইন্যান্স চুক্তি স্বাক্ষর হবে।

দেশে বিদ্যমান দু’টি সাবমেরিন ক্যাবলের পূর্বমুখী পূর্ণ ক্ষমতা ২০২২ সালের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে এবং এই পরিস্থিতিতে দেশকে তৃতীয় একটি সাবমেরিন ক্যাবলে সংযুক্ত করা না হলে সাবমেরিন ক্যাবলের পূর্বমুখী (সিঙ্গাপুরমুখী) ব্যান্ডউইথের সংকটের কারণে দেশে ইন্টারনেট সেবার ক্ষেত্রে বিপর্যয় পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশংকা রয়েছে।

যাযাদি/এসআই

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে