ভালুকায় কাঁঠালের বা¤পার ফলন! দামও ভালো কাঁঠাল প্রক্রিয়াজাত কারখানা স্থাপনের দাবী

ভালুকায় কাঁঠালের বা¤পার ফলন! দামও ভালো  কাঁঠাল প্রক্রিয়াজাত কারখানা স্থাপনের দাবী

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা জুড়ে পাঁকা কাঁঠালের মৌ মৌ ঘ্রাণে এখন মুখরিত। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালুকায় এবার কাঁঠালের বা¤পার ফলন হয়েছে। বেশির ভাগ গাছে অন্যান্য বছরের তুলনায় সংখ্যার দিক দিয়ে কাঁঠাল বেশি ধরেছে আকারেও বেশ বড়।

এদিকে গ্রামের বিভিন্ন হাট-বাজার ও রাস্তার মোড়ে মোড়ে বসেছে কাঁঠাল বিক্রির হাট। প্রথমদিকে ভালো দাম পেলেও ক্রমেই কমতে থাকে। কাঁঠাল চাষিরা জানান, ভালুকায় একটি কাঁঠালের জুসের কারখানা হলে দ্রুত পচনশীল এই ফলের সঠিক দাম তাঁরা পেতেন। প্রতি মৌসুমে ভালুকার হবিরবাড়ি সিডস্টোর বাজার, আংগারগাড়া বাজার, উথুরা মাহার বাজার, বাটাজোর, কাচিনা, ভালুকা পুরনো বাসস্ট্যান্ড, মল্লিকবাড়ি, চমিয়াদী, রাজৈ, পনাশাইল, কেয়াদী, ভরাডোবা বাসস্ট্যান্ড, পারুলদিয়া, আশকা, জামিরদিয়া মাস্টারবাড়িসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কাঁঠালের হাট বসে।

চাহিদার কথা বিবেচনা করে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা ছুটে আসেন ভালুকার ছোট-বড় ওইসব হাটে, কেনেন প্রচুর কাঁঠাল। সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকদের বাধ্য হয়ে বেশির ভাগ বাগান মালিক কম দামেই বিক্রি করছেন কাঁঠাল। তাঁরা মনে করছেন, ভালুকায় একটি জুস কারখানা হলে তাঁদের এই বিপত্তির মধ্যে পড়তে হতো না। উপজেলার সিডস্টোর বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে কাঁঠলের আমদানি আছে এবং দামও ভালো।

ঠেলাগাড়ি ভর্তি কাঁঠাল নিয়ে এসেছেন এক কৃষক, তিনি ২৭ পিছ কাঁঠাল দুই হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। বাজার ঘুরে দেখা যায় আকারভেদে প্রতিটি কাঁঠাল ৬০-১০০টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এলাকার কৃষক ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে কাঁঠালের দাম ভালো থাকলেও করোনা ও লকডাউনে পরিবহনে সমস্যা হওয়ায় কাঁঠাল দ্রুত পচনশীল রসালো ফল তাই অনেক সময় নষ্ট হচ্ছে। এতে ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন কাঁঠাল চাষিরা।

কাঁঠালের পাইকার আব্দুল লতিফ ফকির বলেন- কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, সিলেট, মুন্সীগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভালুকার কাঁঠালের রয়েছে যথেষ্ট চাহিদা। তবে রাজধানী ঢাকার কাঁঠালের বাজার মন্দা।

নিদিষ্ট সময়ে কাঁঠাল বিক্রি করতে না পারলে তা পচে নষ্ট হয়ে যায়। কাজেই তাঁদের বাধ্য হয়ে কম দামেই দেশের বিভিন্ন স্থানে কাঁঠাল বিক্রি করতে হয়।

উপজেলার পাড়াগাঁও গ্রামের কৃষক হায়দার খান, সাইফুল ইসলাম সাইদুলসহ অনেকেই জানান, চলতি মৌসুমে মাটিতে যথেষ্ট পরিমাণ রস থাকায় কাঁঠালের ফলন হয়েছে অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি। কাঁঠালের আকারও গতবারের চেয়ে তুলনামূলক বড়।

উপজেলার সিডস্টোর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ স¤পাদক মোঃ বিল্লাল হোসেন জানান, গত দু'এক বছর পূর্বেও সিডস্টোর বাজার থেকে প্রতিদিন প্রায় ২০/৩০ লাখ টাকার কাঁঠাল বিক্রি হতো, কিন্তু করোনাকালে তা কমে ৫০ শতাংশেরও নিচে চলে এসেছে। বাজারে আমদানি থাকলেও পাইকাররা কাঁঠাল নিতে চান না। ফলে অনেক কাঁঠাল বাজারেই পচে-গলে নষ্ট হয়।

উপজেলার হবিরবাড়ি গ্রামের কাঁঠাল চাষিরা জানান, সংরক্ষণের অভাবে প্রতিবছর তাঁদের এলাকার লাখ লাখ টাকার কাঁঠাল পচে-গলে নষ্ট হয়। ফলে তাঁরা বঞ্চিত হন কষ্টার্জিত ওই ফসলের উপযুক্ত মূল্য থেকে। তারা কাঁঠালের উপযুক্ত মূল্য পেতে ভালুকা এলাকায় সরকারি উদ্যোগে কাঁঠাল প্রক্রিয়াজাত করন ব্যাবস্থা গ্রহন করে চিপস, জুস, কেক, বিস্কুটসহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রীর কারখানা স্থাপনের দাবি জানান।

কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম বলেন, হবিরবাড়ী ইউনিয়নে প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে কাঁঠাল বাগান রয়েছে। এ এলাকায় খাজা ও গলা এই দুই জাতের কাঁঠাল চাষ হয়। কাঁঠালের উন্নতজাত স্থানীয়ভাবে খুবই অপ্রতুল। বাজারজাত করন ব্যাবস্থাপনা ও সরকারী সহযোগীতা ও উন্নত গবেষনা প্রয়োজন, সেই সাথে কাঁঠাল সংরক্ষনাগার/হিমাগার স্থাপন সময়ের দাবি। কাঁঠাল প্রক্রিয়াজাত করতে হিমাগার স্থাপন করা হলে একেকটি কাঁঠাল চার হাজার টাকা বিক্রয় করা যাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন সম্ভব। যেখানে এখন একটি কাঁঠাল ৫০-১০০ টাকায় বিক্রি করছেন কৃষক।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জেসমিন জাহান জানান, কাঁঠাল গাছের যত্নের প্রতি কৃষকরা সব সময়ই উদাসীন থাকেন। ফলে সময়মতো যত্ন না নেওয়া ও প্রয়োজনীয় সারের অভাবে কাঁঠালের আকার-আকৃতি অনেক সময় ছোট ও বিভিন্ন পোকার আক্রমন হয়। উপজেলার হবিরবাড়ী ও মল্লিকবাড়ি এলাকায় বেশী কাঁঠাল উৎপাদন হয়। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পুরো উপজেলার কাঁঠাল চাষিদের পরামর্শ দিতে আমরা প্রস্তুত।

ভালুকা উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ আবুল কালাম আজাদ জানান, ভালুকায় একটি কাঁঠাল প্রক্রিয়াজাত কারখানা হলে এলাকার কাঁঠাল চাষিরা উপকৃত হতেন। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সাথে সাথে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী হতেন ভালুকার কাঁঠাল চাষিরা।

যাযাদি/ এস

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে