কে হচ্ছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী উপাচার্য?

কে হচ্ছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী উপাচার্য?

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড.মীজানুর রহমানের দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১৯ মার্চ। এই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কে হচ্ছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী উপাচার্য এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে শুরু হয়েছে আলোচনা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রাজধানীর মধ্যে থাকায় এই বিশ্ববিদ্যালয় অনেকের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হওয়ার জন্য ইতোমধ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শিক্ষা মন্ত্রনালয়, ইউজিসি, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরসহ বিভিন্ন জায়গায় লবিং তদবির শুরু করছেন। বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড.মীজানুর রহমানও তৃতীয় মেয়াদে পুনরায় আসার জন্য লর্বি করছেন বলে শোনা যাচ্ছে অনেকের মুখে। তবে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে উপাচার্য নিজে তৃতীয় মেয়াদে আসতে চাননা জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে।

২০০৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞানের চেয়ারম্যান এ. কে. এম. সিরাজুল ইসলাম খান ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রথম উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর আবু হোসেন সিদ্দিক ২০০৯ সাল এবং মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ ২০১৩ সাল পর্যন্ত দ্বায়িত্ব পালন করেন। ৪র্থ উপাচার্য হিসেবে ২০১৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড.মীজানুর রহমান যোগদান করেন। ২০১৭ সালের ২০ মার্চ তিনি পুনরায় দ্বিতীয় মেয়াদে নিয়োগ পান।

অধ্যাপক ড.মীজানুর রহমানকে তৃতীয় মেয়াদে নিয়োগ দেয়া হবে কিনা এ নিয়ে গুঞ্জন চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে। মীজানপন্থী শিক্ষকরা তাকে পুনরায় তৃতীয় মেয়াদে উপাচার্য হিসাবে নিয়োগ দিতে দেখাচ্ছে বিভিন্ন যুক্তি। তবে সংবাদ মাধ্যমের মারফতে জানা গেছে দুই মেয়াদের বেশি আর কাউকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হবে না- সরকারের নীতিনির্ধারণী মহল এ রকম একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দল পরবর্তী উপাচার্যের জন্য নিজেদের মধ্য থেকে এক ডজনের বেশি একটি নামের তালিকা শিক্ষা মন্ত্রনালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় পাঠিয়েছেন। এ তালিকায় স্থান পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ডিন, সাবেক ডিন, শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, নীল দলের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও কয়েকজন শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষা মন্ত্রনালয়, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নীতিনির্ধারক, রাজনীতিবিদ, মন্ত্রীসহ বিভিন্ন জায়গা লবিং তদবির করছেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ছাত্র নেতাদের দাবি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্য থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দেয়া হোক। তাদের মতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য অনেক যোগ্য ব্যাক্তি আছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে । জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ১০৫ জন অধ্যাপক আছেন। গ্রেড-১ পদমর্যাদায় আছেন ২৪ জন। তাদের মধ্যে অনেকেই ইতোমধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উপ-উপাচার্য, ট্রেজারারসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন।

বর্তমান উপাচার্যের পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে জবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. নূরে আলম আব্দুল্লাহ্ বলেন, বর্তমান উপাচার্য অনেক দক্ষ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক কিছু চিনে ফেলেছেন সরকার যদি তাকে তৃতীয় মেয়াদে দায়িত্ব না দেয় তাহলে জবির শিক্ষকদের মধ্যে থেকেই যেন উপাচার্যের দায়িত্ব দেয়া হয়। ১৫ বছর বয়স এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক সিনিয়র শিক্ষক ও যোগ্য শিক্ষক রয়েছেন উপাচার্য হিসাবে দায়িত্ব নেয়ার।

জবি থেকে উপাচার্য নিয়োগের দাবি জানিয়ে নীল দলের একাংশের সভাপতি অধ্যাপক জাকারিয়া মিয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সাথে আমারাও দাবি থাকবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যেন উপাচার্য নিয়োগ দেয়া হয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষকদের মধ্যে থেকে অনেকে উপাচার্য হওয়ার মত যোগ্য রয়েছেন। সরকার যোগ্যদের থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ দিবেন।

নিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্য নিয়োগ দিলে অধিক উন্নয়ন হবে দাবি করে নীল দলের আরেকাংশের সভাপতি অধ্যাপক ড. কাজী সাইফুদ্দিন বলেন, সরকার যাকে ইচ্ছে তাকেই উপাচার্য হিসাবে নিয়োগ দিবেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক যোগ্য শিক্ষক রয়েছেন। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্য থেকে উপাচার্য নিয়োগ দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিক উন্নয়ন হবে।

উপাচার্য হওয়ার মত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক অধ্যাপক আছেন দাবি করে জবি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তরিকুল ইসলাম বলেন, ১৫ বছরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় অনেক পথ এগিয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শতাধিক অধ্যাপক আছেন যাদের মধ্য থেকে অনেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হওয়ার মত যোগ্যতা রাখেন। তাদের মধ্য থেকেই জবির উপাচার্য নিয়োগ দেয়া হউক। বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্য থেকে নিয়োগ দেয়া হলে তিনি শিক্ষক,শিক্ষার্থী সবার সুখ দুখ বেদনা সমস্যা বুঝতে পারবেন।

যোগ্য ও শিক্ষার্থীবান্ধব উপাচার্য নিয়োগের পরামর্শ দিয়ে জবি ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি কে এম মোত্তাকি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক দক্ষ প্রশাসক ও শিক্ষার্থী বান্ধব শিক্ষক রয়েছেন। তারাও উপাচার্য হওয়ার যোগ্যতা রাখেন। সরকারের উচিৎ হবে যোগ্য ও শিক্ষার্থীবান্ধব একজনকে উপাচার্য হিসাবে নিয়োগ দেয়া।

বর্তমান উপাচার্যের সমালোচনা করে ছাত্র অধিকার পরিষদের জবি শাখার সভাপতি রায়সুল ইসলাম নয়ন বলেন, আমরা আর ভাড়াটে উপাচার্য চাই না। বর্তমান উপাচার্যের সময় আন্দোলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সব অধিকার আদায় করে নিতে হয়েছে। আমরা এ উপাচার্যকে আর চাই না। আমরা জগন্নাথ থেকেই উপাচার্য চাই। কারন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সুযোগ সুবিধা সমস্যা সম্পর্কে অবগত। তারাই শিক্ষার্থীদের সমস্যা ভাল বুঝবেন।

যাযাদি/এসএইচ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে