বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৯ মাঘ ১৪২৯
walton1

জাবিতে অপ্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ

জাবি প্রতিনিধি
  ০৭ নভেম্বর ২০২২, ১৪:০১
ফাইল ছবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকদের আপত্তি সত্বেও নতুন দুইজন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রোববার (৬ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সিন্ডিকেট সভায় ওই দুই শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিভাগীয় সভার সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে অপ্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিভাগের অন্যান্য শিক্ষকরা। এ সম্পর্কে সাংবাদিকদের কাছে এক প্রতিবাদলিপি পাঠিয়েছেন আপত্তি তোলা শিক্ষকরা।

প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়েছে, গত বছরের ৩০ নভেম্বর অস্থায়ী প্রভাষক পদে নতুন দুই শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেন বিভাগের তৎকালীন সভাপতি অধ্যাপক মো. নুহু আলম। তবে সে সময় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি বিভাগীয় সিদ্ধান্ত ছাড়া প্রকাশ করায় আপত্তি জানান বিভাগের শিক্ষকরা।

শিক্ষকদের আপত্তির মুখে পরবর্তীতে চলতি বছরের ২ জানুয়ারি পুনরায় বিভাগীয় একাডেমিক কমিটির বিশেষ সভার দুই নং আলোচ্যসূচিতে পুনঃবিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিদ্ধান্তে বলা হয়, গত ৩০ নভেম্বরের বিজ্ঞাপিত দুইটি অস্থায়ী প্রভাষক পদে নিয়োগের জন্য উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের কোন ব্রাঞ্চ (যে বিষয়ে পড়াবেন) উল্লেখ না থাকায় ব্রাঞ্চ উল্লেখপূর্বক পুনঃবিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসনের কাছে সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হলো।

প্রতিবাদলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিভাগে নতুন সভাপতি দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ২৩ অক্টোবর বিভাগীয় একাডেমিক কমিটির বিশেষ সভায় অস্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের পদক্ষেপ বাতিল করা হয়। পাশাপাশি বিভাগের চাহিদা অনুযায়ী ব্রাঞ্চ উল্লেখপূর্বক পুনরায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে সর্বসম্মতিক্রমে উপাচার্যকে অনুরোধের সিদ্ধান্ত হয়।

তবে সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে গত বছরের নভেম্বরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী দুটি অস্থায়ী প্রভাষক পদে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে বিভাগের শিক্ষকরা অত্যন্ত অপমানিত ও মর্মাহত হন। একই সাথে এই নিয়োগের কারণে বিভাগে শান্তি বিনষ্ট হলে বিভাগের শিক্ষকরা দায়ী থাকবেন না বলেও প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক ছালেহ আহাম্মদ খান বলেন, ‘বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে কোন ডিসিপ্লিনে শিক্ষক প্রয়োজন সেদিকে নজর দেওয়া হয়। কয়েকটি ডিসিপ্লিনে মাত্র এক বা দুই জন কোর্স শিক্ষক রয়েছেন। কিন্তু তৎকালীন সভাপতির ডিসিপ্লিনে চারজন শিক্ষক থাকার পরেও তিনি আবারও নিজের ডিসিপ্লিন থেকেই নিয়োগ দিয়েছেন, যা অপ্রয়োজনীয়। আর এক ডিসিপ্লিনের শিক্ষক অন্য ডিসিপ্লিনে পড়াতে পারেন না। এতে কোর্স বন্টনে আমাদের সমস্যা হবে।’

তিনি আরও বলেন, নিয়োগপ্রাপ্ত দুই জনের মধ্যে একজন অনেক বেশি সিনিয়র। দীর্ঘদিন যাবৎ পড়াশোনার বাইরে থেকে এখন শিক্ষার্থীদের যথাযথ পাঠদান করতে পারবেন কি না এ বিষয়েও সন্দেহ থেকেই যায়। আর সাধারণ নিয়মে কোন বিজ্ঞাপনের মেয়াদ ছয় মাস অতিক্রান্ত হলে পুনরায় বিজ্ঞাপন দিতে হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে ১১ মাস পূর্বের বিজ্ঞাপন অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তবে বিভাগের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক মো. নুহু আলম বলেন, নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নতুন সভাপতি দায়িত্বে আসার পর একটি বিশেষ সভা করেছে। সেই সভার সিদ্ধান্ত পরবর্তী সভায় পাশ করতে হয়, কিন্তু তিনি তা করেননি। পাশ না হওয়া একটি সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে কিভাবে নতুন বিজ্ঞাপন দেওয়া যায়?

নিয়োগের ব্যাপারে তিনি বলেন, নিয়োগের ভাইভা বোর্ডে সভাপতি ও কয়েকজন এক্সপার্ট ছিলেন। আবেদনকারী মোট ২১ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬ জন অনুপস্থিত ছিল। তাদের মধ্যে যারা ভাল করেছে তাদেরকেই নিয়োগবোর্ড সুপারিশ করেছে। স্বচ্ছতার সাথেই এ নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। ডিসিপ্লিন যেহেতু উল্লেখ ছিল না, তাই সার্বিক দিক বিবেচনায় নিয়োগ করা হয়েছে। আর উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের যেকোন শিক্ষার্থী বিভাগের যেকোন কোর্স ভালভাবেই পড়াতে পারেন। এ বিষয়ে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা আমাকে হেয় করার জন্যই করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল আলম বলেন, ‘বিভাগের সভাপতি প্রয়োজন অনুযায়ী বিজ্ঞাপন দেন এবং তা সেই অনুযায়ীই বিজ্ঞপিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অনুযায়ী, নিয়োগের ব্যাপারে অন্য কারও সাথে আলোচনার প্রয়োজন নেই। এখানে যেই অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সঠিক নয়। কারণ নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এখানে কোন প্রক্রিয়াগত ত্রুটি নেই।’

যাযাদি/ সোহেল
 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে