​ মধ্যপাড়া পাথর খনি উৎপাদন বন্ধের আশঙ্কা!

প্রকাশ | ২৮ আগস্ট ২০২১, ১৯:০১

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

 

 

দিনাজপুরের মধ্যপাড়া পাথর খনিটির পাথর উৎপাদন আবারো বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। খনিটির রক্ষানা-বেক্ষনা ও উৎপাদনের দায়িত্বে থাকা বর্তমান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বেলারুষ ভিক্তিক কোম্পানী জার্মানিয়া ট্রাষ্ট কনসোডিয়াম জিটিরি সাথে চুক্তির ম্যয়াদ শেষ হয়ে আসলেও এখনো নতুন করে চুক্তি না হওয়ায় এই আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

এদিকে পাথর উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে, আবারো লোকশানের মুখে পড়বে দেশের একমাত্র উৎপাদনশীল এই পাথর খনিটি, বেকার হয়ে পড়বে খনিতে কর্মরত ৭০০ শ্রমিকসহ পরোক্ষ ভাবে কর্মরত কয়েক হাজার মানুষ। বন্ধ হয়ে পড়বে সেই এলাকার অর্থনীতির চাকাও। এছাড়া পাথর আমদানীতে চাপ পড়বে দেশের বৈদেশির মুদ্রার উপর।

 

এদিকে খনিটির বর্তমান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিটিসির সাথে পুনঃচুক্তি না হলে, বন্ধ হয়ে যাবে জিটিসি কর্তৃক প্রদত্ত খনি শ্রমিকের সন্তানদের উচ্চ শিক্ষা বৃত্তি, খনি এলাকার ননএমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সম্মানী ভাতা ও  খনি এলাকার জনসাধারনের জন্য প্রতিষ্ঠিত ফ্রি চিকিৎসা কেন্ধ জিটিসির চ্যারীটিহোম চিকিৎসালয়।

 

মধ্যপাড়া খনি সুত্রে জানা গেছে ১ সেপ্টেম্বর শেষ হয়ে যাবে বর্তমান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিটিসির সাথে চুক্তির ম্যয়াদ। এখনো নতুন করে চুক্তিন নবায়ন হয়নি প্রতিষ্ঠানটির সাথে, যদিও খনির নিয়মানুসারে চুক্তি শেষ হওয়ার ৬ মাস পুর্বে নতুন চুক্তি করা হয়।

 

খনি সুত্রে জানা গেছে মধ্যপাড়া পাথর খনিটি ২০০৭ সালে উৎপাদন শুরু করলেও খনিটি লাভের মুখ দেখতে পায়নি, উপরোন্ত প্রতি বছরে গুনতে হয়েছে বড় রকমের লোকশান। এরই মধ্যে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে বর্তমান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিটিসি দায়িত্ব নেয়ার পর, নানা প্রতিকুলতা পেরিয়ে প্রতিদিন সাড়ে ৫ হাজার মেটন পাথর উত্তোলন করায়, গত ৩ বছর থেকে খনিটি লাভের মুখ দেখা শুরু করেছে। কিন্তু জিটিসির চুক্তির ম্যয়াদ শেষ হয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত খনি কর্তৃপক্ষ নতুন করে চুক্তি না করায়, আবারো পাথর উৎপাদন বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

এদিকে খনিতে কর্মরত শ্রমিকগণ বলছেন বর্তমান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিটিসি খনিতে পাথর উত্তোলন বৃদ্ধি করার পাশাপাশি, খনিতে কর্মরত শ্রমিকদের সন্তানদের উচ্চ শিক্ষা বৃত্তি, খনি এলাকার ননএমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সম্মানী ভাতা ও খনি এলাকার জনগনের জন্য ফ্রি চিকিৎসা কেন্দ্র জিটিসি চ্যরীটিহোম প্রতিষ্ঠা করেছে। যদি জিটিসির সাথে খনিটির নতুন করে চুক্তি না হয়, তাহলে শ্রনি শ্রমিকদের সন্তানদের উচ্চ শিক্ষার বৃত্তি, ননএমপি শিক্ষকদের সম্মানী ভাতা ও জিটিসি চ্যরীটিহোম ফ্রি চিকিৎসা কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাবে।

 

খনি এলাকার বাসীন্দারা বলছেন, খনিতে পাথর উত্তোলন বৃদ্ধি পাওয়ায়, খনিতে পরোক্ষা ভাবে পাথর লোড, আনলোড, পরিবহনে হাজারের শ্রমিকদের কর্মস্থান সৃষ্টি হয়েছে, একই সাথে খনিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ব্যবসা কেন্দ্র।

 

এদিকে মধ্যপাড়ার পাথর দিয়ে সরকারের মেঘাপ্রকল্পর নির্মান কাজ চলছে, এখন খনিটিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ হয়ে পড়লে বিদেশ থেকে পাথর আমদানী বৃদ্ধি পাবে এতেকরে বৈদেশীক মুদ্রার খরছ বৃদ্ধি পাবে।

 

এই বিষয়ে মধ্যপাড়া গ্রানাইড মাইনিং কোম্পানী লিঃ এর মহা ব্যবস্থাপক (মাইনং) আবু তালহা ফরাজির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, খনিটির উৎপাদনের সার্থে কর্তৃপক্ষ নতুন করে চুক্তি করার প্রস্তুতি নিয়েছে, যে কোন সময় চুক্তি হয়ে যাবে বলে তিনি আশাঁ প্রকাশ করেন।

 

যাযাদি/ এস