বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

তাপমাত্রা ছাড়াচ্ছে পুরনো রেকর্ড

ফাতেমা ইরাজ
  ৩০ মে ২০২২, ১৫:৪৬

বিগত কয়েক বছর ধরেই তাপমাত্রা দিন দিন তার পুরনো রেকর্ড ছাড়াচ্ছে। প্রচন্ড ভ্যাপসা গরম মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে বিগ্ন ঘটাচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত নিম্নবিত্তের জন্য এই সমস্যা যেন অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। অবশ্য এসব পরিস্থিতির জন্য আমরা মানুষেরাই দায়ী। দিন দিন আমাদের জনসংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। যার জন্য বন জঙ্গল, গাছ পালা কেটে উজার করে দিচ্ছি। আর সেখানে গড়ে উঠেছে বসতি কিংবা কর্মস্থানের চাহিদায় কল- কারখানা। একে তো বন জঙ্গল কমছে তার উপর কলকারখানার বর্জ, তাপ পরিবেশে জন্য ডেকে আনছে এক চুড়ান্ত বিপর্যয়। তাছাড়া আমাদের আরো ছোটখাটো উদাসীনতার কারণেও প্রকৃতিতে তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে।

 

 বিশেষ করে দেখা যায়, শহরে গাড়ির যানযটে কিংবা সিগন্যালে দাড়াতে হবে জেনেও গাড়ির ইঞ্জিন চালু রাখি আমরা। রান্নার শেষে অনেকেই চুলা নেভাতে অলসতা করে থাকি। কিংবা দুটো রান্না মাঝে ফাঁকা সময় থাকলে চুলা অনেকেই নিভান না। হয়তো কেউ অলসতা করে, কেউবা লাইটারের সাশ্রয়ের কথা ভেবে। তাছাড়া গ্রামেও দেখা যায় রান্নার শেষে চুলাকে পুরোপুরি নেভানো হয় না। আর আমাদের সকলের এই ছোট ছোট বেখেয়াল থেকেই অনেক তাপ সৃষ্টি হয় প্রকৃতিতে। তাই ব্যপারে আমাদের সচেতন হওয়া জরুরি। সিগন্যালে গাড়ির ইঞ্জিন অফ করে রাখলে পরিবেশের সাথে সাথে গাড়ির প্রেট্রোলেরও সাশ্রয় হবে। তেমনি রান্নার শেষে চুলাটা ভালো ভালো নিভিয়ে দেয়া তা হোক শহর কিংবা গ্রামের মাটির চুলা। এতে করে অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদের ঝুঁকিও এড়ানো সম্ভব। আর অতিরিক্ত তাপমাত্রা থেকেও।

 

এছাড়াও আমাদের কর্তব্য প্রত্যেকের নিজ নিজ অবস্থান থেকে বনকে রক্ষা করা, অপ্রয়োজনে গাছ না কাটা, নতুন করে গাছ লাগানো। এবার অনেকেই বলতে পারে যে তারা শহরে থাকে এখান থেকে কিভাবে সম্ভব গাছ লাগানো। কথায় আছে ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়। সত্যিই যদি ইচ্ছা থাকে তাহলে শহরেও গাছ লাগানো সম্ভব। যদিও শহরে গ্রামের মতো বিস্তর বাগান করা সম্ভব না হলেও আমরা ছাদ বাগানে উদ্ভদ্দ হতে পারি। যারা ভাড়া বাসায় থাকি ছাদে সম্ভব না হলে বারান্দায় অন্তত একটা দুটো গাছ রাখতে পারি সেটা হতে পারে ফুল কিংবা সবজি গাছ। তাছাড়া ঘরের মধ্যেও কিছু ইনডোর প্ল্যান্ট রাখতে পারি। আসলে ইচ্ছে করলেই ঘরের মধ্যে ছোট ছোট চার পাঁচটা ইনডোর প্ল্যান্ট রাখাই যায়। তাছাড়া যাদের বাসায় রোদের সমস্যা তারাও ইনডোর প্ল্যান্টের মাধ্যমে নিজের জায়গা থেকে ভুমিকা রাখতে পারে পরিবেশকে ঠান্ডা রাখতে। আমার এই পুরো কথাগুলো আপনাদের কাছে হাস্যকর লাগতে পারে, হয়েতো মনে মনে ভাবতে পারেন, " দুটো ইনডোর প্ল্যান্ট দিয়ে কি আর পরিবেশ রক্ষা করা যায়? " তাহলে আপনাকে মনে করিয়ে দিতে চাই সেই দুই লাইন কবিতার কথা, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বালুকনা, বিন্দু বিন্দু জল গড়ে তোলে মহাদেশ সাগর অতল।

 

ভেবে দেখুন একটা ভবনে যদি ত্রিশটা পরিবার থাকে আর প্রত্যেকের ঘরে যদি দুটো করেও গাছ থাকে তবুও তো ষাট গাছ। হোক সে ছোট কিংবা বড়। এছাড়া স্কুল, অফিস পর্যায়ে বৃক্ষরোপন সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। নানান ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে মানুষের দারে পৌঁছে দিতে হবে গাছের প্রয়োজনীয়তা। স্কুলের ফাঁকা জায়গায় গড়ে উঠতে পারে ছোট বাগান, কিংবা শহরের স্কুলের বাউন্ডারির মধ্যে, করিডোরে, শ্রেনী কক্ষে, লাইব্রেরি, অফিস রুমে রাখা যেতে পারে গাছ। অফিসের করিডোর কিংবা ডেস্কেও রাখা যেতে পারে ছোট কোনো বনসাই কিংবা ইনডোর প্ল্যান্ট। আমার মনে হয় এভাবেই সচেতনতাটা মৌলিক পর্যায়ে হওয়া উচিত। প্রত্যেকটা মানুষ যেন নিজ নিজ জায়গায় সচেতন হয়। যে যার জায়গা থেকে চেষ্টা করে যেমন: অকারণে চুলা জ্বালানো থেকে বিরত থেকে, সিগন্যালে গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ রেখে, শহুরে বাসায় অন্তত দুটো গাছ রেখে ইত্যাদির মাধ্যমে পুরো না হলেও আশা করি কিছুটা হলেও বেড়িয়ে আসতে পারবো এই তাপদাহ থেকে।

 

যাযাদি/ এম

 

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে