বৈরী আবহাওয়ায় সরিষার ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা

বৈরী আবহাওয়ায় সরিষার ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা

বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে হলুদের সমারোহ জানান দিচ্ছে ব্যাপক সরিষা আবাদের কথা। গত বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এ বছর জেলাজুড়ে ব্যাপক হারে সরিষার আবাদ হয়েছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় সরিষার কাঙ্ক্ষিত ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে জেলার কৃষকরা। তাছাড়া সরিষার ফলন যেমনই হোক সরকারিভাবে বিক্রির সুযোগ না থাকায় পাইকারদের কাছে সরিষা বিক্রি করে খুব বেশি লাভের মুখ দেখা হয় না কৃষকদের।

বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ জুড়ে হলুদ ফুলের সমারোহ আর মৌ মৌ গন্ধই জানান দিচ্ছে জামালপুরে ব্যাপক হারে সরিষার আবাদ হয়েছে। চলতি বছরের ভয়াবহ বন্যা ও অতি বৃষ্টিতে আমন ধানসহ সজবি ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে জেলাজুড়ে এ বছর প্রচুর পরিমাণে সরিষা আবাদ করেছে কৃষকরা। তবে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে আশানুরূপ ফলন না পাওয়ার আশঙ্কা করছে কৃষকরা। হঠাৎ করে তীব্র শৈতপ্রবাহের কারণে সরিষার ফুল পরিপুষ্ঠ হতে পারছে না। তাছাড়া ফুল ফুটলেও ঝরে যাচ্ছে, সরিষার দানা আকারে বড় হচ্ছে না। এসব সরিষা দানা আকারে ছোট ও পরিমাণে কম হওয়ায় লোকসানের আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় রয়েছে কৃষকরা। ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত আবহাওয়া যদি বিরূপ থাকে তবে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে কৃষকরা। এছাড়াও কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি অফিসের কেউ তাদের কোনো প্রকার পরামর্শ দিচ্ছে না। মেলান্দহ উপজেলার সবিলাপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল গফুর জানান, চলতি মৌসুমে অন্য কোনো ফসল না হওয়ায় প্রতিবারের মতো এবারও তিনি সরিষার আবাদ করেছেন। কিন্তু শীত ও কুয়াশার কারণে ফলন ভালো না হওয়ায় লাভ তো দূরের কথা খরচের টাকাই উঠবে না।

জামালপুর সদর উপজেলার কম্পুপুর গ্রামের কৃষক মুসা মিয়া জানান, দেড় বিঘা জমিতে সরিষা আবাদ করতে ৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, গত বছর ১৫ হাজার টাকার সরিষা বিক্রি করতে পারলেও এবার ফুল ও সরিষা দানা কম হওয়ায় আর্থিক ক্ষতি হবে। কৃষক আব্দুল করিম অভিযোগ করেন, পাইকাররা ইচ্ছামতো সরিষার দাম নির্ধারণ করায় কৃষকরা আশানুরূপ লাভ করতে পারে না। সরকার যদি ধান-চালের মতো সরিষা ক্রয়ের উদ্যোগ নেয় তাহলে কৃষকরা তাদের প্রকৃত লাভের মুখ দেখতে পারবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে