বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

বোরো মৌসুমে ভালো ফলন দেবে বিনা ধান-২৫

বোরো মৌসুমে অঞ্চলভেদে নভেম্বর মাসের ৩য় সপ্তাহ থেকে ডিসেম্বরে ৩য় সপ্তাহ পর্যন্ত রোপণ করা যাবে। প্রতি হেক্টর জমি চাষের জন্য ২৫-৩০ কেজি বা এক একর জমির জন্য ১০-১২ কেজি এবং বিঘাপ্রতি ৩-৪ কেজি বীজ প্রয়োজন হয়। ভালো ফলন নিশ্চিত করতে হলে ভালো, পুষ্ট ও রোগবালাইমুক্ত বীজ বাছাই করতে হবে। বপনের আগে বীজ শোধন করা ভালো
ম কৃষিবিদ সুমিত দেব সাহা
  ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০
বোরো মৌসুমে ভালো ফলন দেবে বিনা ধান-২৫। ধানটি উন্নত ও গুণাগুণসম্পন্ন উচ্চফলনশীল, আলোক অসংবেদনশীল ও স্বল্প মেয়াদি বোরো ধানের জাত। এ জাতের ডিগপাতা খাড়া, সরু ও মধ্যম, রং গাঢ় সবুজ। ধান পরিপক্ব হওয়ার পরও ডিগাপাতা গাঢ় সবুজ এবং খাড়া থাকে। এ জাতের গাছ লম্বা হয় কিন্তু শক্ত, হেলে পড়ে না। পূর্ণ বয়স্ক গাছের উচ্চতা ১১৬ সেন্টিমিটার। প্রতি গাছে ১০ থেকে ১২টি কুশি থাকে। ছড়ার দৈর্ঘ্য গড়ে ২৭.০ সেন্টিমিটার লম্বা। প্রতি শীষে পুষ্ট দানার পরিমাণ ১৫০ থেকে ১৫৫টি। ১০০০টি পুষ্ট ধানের ওজন গড়ে ১৯.৭ গ্রাম। ধানের দানায় অ্যামাইলোজের পরিমাণ শতকরা ২৫.১ ভাগ এবং প্রোটিনের পরিমাণ শতকরা ৬.৬ ভাগ। ভাত সাদা, ঝরঝরে ও সুস্বাদু- ফলে বাজারমূল্য বেশি এবং রপ্তানি উপযোগী। বেলে দো-আঁশ এবং এটেল দো-আঁশ জমি এই জাতের চাষের উপযোগী। লবণাক্ত এলাকা ছাড়া দেশের সব উঁচু ও মধ্যম উঁচু যেখানে দীর্ঘ দিন পানি জমে থাকে না এমন জমিতে এ জাতটি চাষ উপযোগী। জাতটির চাষাবাদ পদ্ধতি অন্যান্য উচ্চফলনশীল বোরো জাতের মতই। বোরো মৌসুমে অঞ্চলভেদে নভেম্বর মাসের ৩য় সপ্তাহ থেকে ডিসেম্বরে ৩য় সপ্তাহ পর্যন্ত রোপণ করা যাবে। প্রতি হেক্টর জমি চাষের জন্য ২৫-৩০ কেজি বা এক একর জমির জন্য ১০-১২ কেজি এবং বিঘাপ্রতি ৩-৪ কেজি বীজ প্রয়োজন হয়। ভালো ফলন নিশ্চিত করতে হলে ভালো, পুষ্ট ও রোগবালাইমুক্ত বীজ বাছাই করতে হবে। বপনের আগে বীজ শোধন করা ভালো। বীজ শোধনের জন্য প্রতি ১০ কেজি বীজে ২০-২৫ গ্রাম প্রোভ্যাক্স অথবা ভিটাভ্যাক্স-২০০ বা ব্যাভিস্টিন ২ গ্রাম হারে ব্যবহার করা যেতে পারে। বীজ শোধনের জন্য মাত্রানুযায়ী ছত্রাকনাশক মিশিয়ে একটি বদ্ধ পাত্রে ৪৮ ঘণ্টা রাখা আবশ্যক। উর্বর ও স্বল্প উর্বর জমিতে বীজতলা তৈরি করে কোনোরূপ সার প্রয়োগের প্রয়োজন হয় না। অনুর্বর ও স্বল্প উর্বর জমিতে কেবল দুই কেজি পচা গোবর বা আবর্জনা সার প্রয়োগ করলেই চলে। রোপার জন্য জমি তৈরির শেষ চাষের আগে সম্পূর্ণ টিএসপি, এমওপি, জিপসাম ও জিংক সালফেট জমিতে সমভাবে ছিটিয়ে চাষের মাধ্যমে মাটির সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। ইউরিয়া সারের এক-তৃতীয়াংশ পরিমাণ চারা রোপণের ৭-১০ দিন পর, এক-তৃতীয়াংশ পরিমাণ ইউরিয়া চারা রোপণের ১৫-২০ দিন পর এবং বাকি এক-তৃতীয়াংশ ইউরিয়া চারা রোপনের ২০-২৫ দিন পর জমির উর্বরতার ওপর নির্ভর করে প্রয়োগ করতে হবে। চারা রোপণের পর থেকে জমিতে ৩-৫ সে.মি. এবং গাছ বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পানির মাত্রা বাড়িয়ে দিতে হবে। জমিতে অধিক পানি জমে গেলে মাঝে মাঝে পানি বের করে জমি শুকিয়ে নিতে হবে এবং পরে আবার পানি দিতে হবে। তবে ধান গাছে থোড় আসার সময় অবশ্যই জমিতে ৩-৫ সে.মি. পানি থাকা প্রয়োজন। ধান পাকার ১০ থেকে ১২ দিন আগে জমি থেকে পানি বের করে দিতে হবে। চারা রোপণের পর থেকে শুরু করে ৩৫-৪০ দিন পর্যন্ত জমিকে আগাছামুক্ত রাখতে হবে। হাত দিয়ে অথবা নিড়ানি যন্ত্র ব্যবহার করে দু'বার আগাছা পরিষ্কার করতে হবে এবং মাটি নরম করে মালচিং করে দিতে হবে। বিনা ধান-২৫ জাতে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ প্রচলিত জাতের তুলনায় অনেক কম। এ জাতটি মাজরা পোকার আক্রমণ মধ্যম প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন। পোকার আক্রমণ বেশি হলে ভালো ফলনের জন্য অবশ্যই বালাইনাশক প্রয়োগ করা প্রয়োজন।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে