logo
রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ৫ আশ্বিন ১৪২৭

  আবুল কাশেম চৌধুরী   ২৯ আগস্ট ২০২০, ০০:০০  

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা জরুরি

প্রায় খাদ্যদ্রব্য ভেজালে ভরপুর নামকরা কোম্পানির উৎপাদিত খাদ্যে একই অবস্থা। ভেজালখাদ্য খেয়ে মানুষ রোগাক্রান্ত হচ্ছে আর ভেজালকারীরা অর্থ কামাচ্ছে ওজনে কম দিয়ে। চালসহ সব ধরনের খাদ্যদ্রব্য জনমানুষের জন্য বিষে পরিণত হয়েছে। সামান্যতম নীতি-নৈতিকতা দেশের মানুষের নেই। এজন্য কি ৩০ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধে? এটা কি সুশাসনের নমুনা?

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা জরুরি
দেশের কোথাও শান্তি ও স্বস্তি নেই। অরাজকতা অনিয়ম সর্বত্র বিদ্যমান। কি গ্রাম কি শহর দুর্নীতি সমাজের সর্বত্র বিরাজমান। দুর্নীতি ও অনিয়ম যেন নিয়ম! কোথাও অভিযোগ করার জায়গা নেই, অভিযোগ করেও প্রতিকার পাওয়া যায় না। সরকারি কর্তারা যেন জনসাধারণের প্রভু। আইন মেনে চলতে কেউ অভ্যস্ত নই। বিশেষ করে সরকারি কর্তা, বিত্তবান, শিক্ষিত সমাজ আইন মেনে চলে না। নীতি-নৈতিকতার কোনো বালাই নেই। কে কাকে ঠকাবে সে প্রতিযোগিতা চলছে এই রোগের সমাধান প্রয়োজন। তা সমাধান দিতে পারে একমাত্র আইনের শাসন, আইনের শাসনের বিকল্প নেই। জবাবদিহিতা নিশ্চিত আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ ছাড়া এমন অবস্থার পরিত্রাণ নেই।

সরকার বড় বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে মোটা অঙ্কের বাজেট বরাদ্দ হয় প্রকল্পে জনগণ যথার্থ সুফল পায় না। গুড়ের লাভ পিঁপড়ায় খায় সেই অবস্থা আর কি? কোথাও জবাবদিহিতা নেই। মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের ৪৯ বছর পার হতে চলল আজও জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বাংলাদেশের মানুষ যেন স্বাধীন নয়- পরাধীন, মানুষের চলনে-বলনে-কথনে মানুষের আচরণে তা প্রমাণ হচ্ছে না স্বাধীন দেশের মানুষ বলে। বাংলাদেশে স্বাধীন বলতে যাদের বোঝায় তারা হচ্ছে রিকশাচালকসহ সব পাবলিক গাড়ির চালক ও সহকারী এবং মসজিদের ইমাম তারা যা চায় তা করতে ও বলতে পারে। কোথাও তাদের লাগাম নেই দেশের মানুষ যেন তাদের কাছে জিম্মি।

সম্প্রতি প্রায় দেখা যাচ্ছে, ধর্ষণের ঘটনা বেড়েই চলেছে এত বাড়ল কেন? এই রকম অবস্থা আগে কি ছিল না? ধর্ষণ কর্মকান্ড ভালো করে তলিয়ে দেখা দরকার মেয়েদের বিনা সম্মতিতে এই অপরাধ কর্ম ঘটতে পারে না। যখন মেয়েরা ধরা পড়ে যায় তখন ধর্ষণ বলে চালিয়ে দেয়। এককভাবে ছেলেদের দায়ী করা কতটুকু সমীচীন ভেবে দেখা দরকার। ব্রিটিশ শাসনামলের ঘটনা পশ্চিম ভারতে একটি মামলার কথা উলেস্নখ করা যায়। ধর্ষককে আদালত জিজ্ঞাসা করছে 'তুমি কি ধর্ষণ করেছ' আসামি কোনো প্রকার উত্তর দেয় না- কিছুক্ষণ পর আসামির আইনজীবী আদালতকে বলেন আমার মক্কেল কিছুই শুনতে পাচ্ছে না কারণ তার কান ফেটে গেছে মেয়েটির চিৎকারে। তখন মেয়েটি বলল আমি চিৎকার করিনি, আইনজীবী বলল তা হলে তোমার সম্মতিতে কর্মটি ঘটেছে নিশ্চয়, আমি বলছি না সব ঘটনা এরকম। ঘটনা ভিন্নভাবে ঘটতে পারে, অপরাধ তো অপরাধই এবং অপরাধকে প্রতিরোধ করতে হবে বিচার করতে হবে। ধর্ষণকে ইসলাম ধর্মে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে। দেশে আইনের শাসনের অভাবে অপরাধ কর্ম ঘটে চলেছে। বিচারব্যবস্থা ঢিলে-ঢালা ন্যায়-বিচার নিভৃতে কাঁদে। আইনের শাসন ন্যায়-বিচার ছাড়া দেশের উন্নতি হয় না।

রেল একটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ পথ জনমানুষের যাতায়াতব্যবস্থা রেলের ভাড়াও যথেষ্ট পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। কোনো আন্তঃনগর রেলে সামান্যতম সেবা পাওয়া যায় না। প্রায় গাড়ির টয়লেট ব্যবহারের অনুপযোগী টয়লেটের দরজা বন্ধ করা যায় না মহিলাদের জন্য বিব্রতকর অবস্থা। প্রতিটি আসনের সামনে টি টেবিল থাকতো; কিন্তু আজকাল ওই টি টেবিলের অস্তিত্ব নেই। নিয়মের বাইরে রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে যাবে আন্তঃনগর রেল মানুষজন ওঠানামা করবে গাড়ির গতি কমে যায় যা বলার মতো নয়। যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে যাত্রীরা সেবা পাবে না? ঢাকাসহ সারা দেশে গণপরিবহণে কি অরাজক অবস্থা বলার মতো নয়। চট্টগ্রামে গণপরিবহণের কাছে জনগণ জিম্মি গাড়িচালকদের ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করে চলেছে।

প্রায় খাদ্যদ্রব্য ভেজালে ভরপুর নামকরা কোম্পানির উৎপাদিত খাদ্যে একই অবস্থা। ভেজালখাদ্য খেয়ে মানুষ রোগাক্রান্ত হচ্ছে আর ভেজালকারীরা অর্থ কামাচ্ছে ওজনে কম দিয়ে। চালসহ সব ধরনের খাদ্যদ্রব্য জনমানুষের জন্য বিষে পরিণত হয়েছে। সামান্যতম নীতি-নৈতিকতা দেশের মানুষের নেই। এজন্য কি ৩০ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধে? এটা কি সুশাসনের নমুনা?

দুর্নীতিবাজ ও নৈতিকতাহীন মানুষ পশুর চেয়েও অধম। নীতি-নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষ ছাড়া জাতির উন্নতি হতে পারে না, তার জন্য চাই আইনের শাসন। সৎ দৃঢ় নেতৃত্ব। সাধারণ গরিব মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন হয়নি একশ্রেণির মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন হয়েছে বটে জনমানুষের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য জবাবদিহিতামূলক আইনের শাসন অতি প্রয়োজন। সরকারপ্রধানসহ সবার দৃষ্টি করে বলতে চাই ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন/রক্ত দিয়েছে সাধারণ গণমানুষ, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী প্রায় ৯০% ছিলেন গরিব সাধারণ মানুষের সন্তান। সাধারণ মানুষকে দিনের পর দিন গরিব করে একশ্রেণির কিছু মানুষকে ধনী বানানো মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে হতে পারে না। সাধারণ গণমানুষের অভাব দিনের পর দিন বেড়ে চলেছে তাদের বাঁচার পথ দিক-নির্দেশনা সরকারকে দিতে হবে। গরিবি দূর করতে কর্মসংস্থানের প্রয়োজন।

চিকিৎসাব্যবস্থা একেবারে নাজুক। দেশের মানুষ গরিব হওয়ার প্রধানতম কারণ চিকিৎসাব্যবস্থা। কোনো হাসপাতালে সাধারণ মানুষ যথার্থ চিকিৎসা পাচ্ছে না। ডাক্তার/হাসপাতালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আচার-আচারণ গ্রহণযোগ্য নয়। প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা করার মতো আর্থিক অবস্থা কয়জনের আছে? বেশির ভাগ ওষুধ মানসম্পন্ন নয়। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি করতে তাদের বিবেকে বাধা দেয় না। ডাক্তাররা ওষুধ লিখে চলেছেন কমিশনের লোভে রোগীদের চিকিৎসা ডাক্তারদের কাছে মুখ্য বিষয় নয়- তাদের মূল লক্ষ্য অর্থ কামানো। ওষুধ উৎপাদনকারী কোম্পানিরা নিম্নমানের ওষুধ তৈরি করে মানুষকে প্রতারিত করছে প্রতিনিয়ত, স্বাধীন দেশের মানুষ আরও ঠকবে? চিকিৎসকরা সরকারি খাত থেকে বেতন-ভাতা নেবে, রোগীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করবে না, উপযুক্ত চিকিৎসা দেবে না? কমিশনের লোভে প্রেসক্রিপশনে বেশি বেশি ওষুধ লেখা কী উচিত? নীতি-নৈতিকতা কোথায়? সুশাসনের যেমন অভাব তেমন নৈতিকতারও বড় অভাব।

কর্মসংস্থানের বড় অভাব যোগ্যতায় চাকরি হয় না টাকা লাগে, ঘুষ-দুর্নীতি জনমানুষের জীবনকে করে তুলেছে অতিষ্ঠ, ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ করা না হলে জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়। ১৯৭১ সালের রক্ত বৃথা হয়ে যাবে কি? বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, এত রক্ত দিয়ে কোনো জাতি স্বাধীনতা কেনে নাই। পুলিশ যদি সততার সঙ্গে কাজ করে দুর্নীতি প্রায় কমে যাবে। আমি দেখেছি একজন বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত কর্মীর পুলিশ 'ভেরিফিকেশন'-এর জন্য পাঠানো হলে ৬ মাস ধরে একজন এসআই ধরে রাখে নথিটি অবশেষে প্রার্থী সরাসরি যোগাযোগ করলে ৪ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে কিছু কম দিয়ে দফারফা হয় কেন এই রকম হবে?

সরকারের প্রধানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই আর মেগাপ্রকল্প আর নয়- দেশ ও জাতির কল্যাণে সুশাসন/আইনের শাসন চাই। দ্রম্নত বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত চাই। ন্যায়-বিচার প্রতিষ্ঠা চাই। কারাগারে হাজার হাজার মানুষ বিনা বিচারে আটকে আছে তাদের বিচার দ্রম্নত সম্পন্ন করা প্রয়োজন। বিডিআরের মামলা সমাপ্ত করা প্রয়োজন বিচারে যা হবে তা হোক বিনা বিচারে মামলা পড়ে থাকা সমীচীন নয়। বর্তমান সরকার অনেক উন্নয়ন করেছে তাতে জনমনে শান্তি ও স্বস্তি নেই অরাজকতা ও অপশাসনের কারণে মিথ্যা প্রতারণা সমাজের রন্ধে রন্ধে- দুর্নীতি সমাজকে খেয়ে ফেলেছে। এই দূর অবস্থা থেকে জাতির মুক্তির পথ রচনা করতে হবে সে পথ একমাত্র জননেত্রী শেখ হাসিনা করতে পারেন, তার প্রতি জনগণের বিশ্বাস আছে সে বিশ্বাস নষ্ট হলে আর কিছু থাকবে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলা হচ্ছে তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না? মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ জনগণের চাহিদা। আইনের শাসন ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে খুঁজে পাওয়া যাবে না।

\হবঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছিলাম চিকিৎস্বার্থে হঠাৎ বৃষ্টিতে এলিফ্যান্ট রোডে একটি দোকানে আশ্রয় গ্রহণ করি। দোকানের কর্মচারীসহ কয়েকজন আলোচনা করছিল আমি ছিলাম শ্রোতা একজন কমবয়সি একটি ছেলে বলল স্বাধীনতা অর্জন করে কী লাভ হলো? একশ্রেণির লোক লুটপাট করে টাকাওয়ালা হয়েছে গরিব তো গরিব থেকে গেছে ও গরিবের কথা কেউ ভাবে না সব সরকারের আমলে একই অবস্থা। স্বাধীনতা পেয়ে আমাদের কোনো লাভ হয়নি গরিবের সংখ্যা বাড়ছে তো বাড়ছেই। আমরা মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি মুক্তিযোদ্ধাদের দেখেছি। আসল মুক্তিযোদ্ধারা কষ্ট করে রিকশা চালায়, ভিক্ষা করে। কমবয়সি একজন বলল, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ২ হাজার টাকা ভাতা বাড়ানো হয়েছে, বয়স্ক এক লোক বলল কেন ৫ হাজার টাকা বাড়ার কথা ছিল। মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা অনেক বেশি বাড়ানো উচিত ছিল, কারণ আমরা কিছু না পেলেও রাজনৈতিক নেতাসহ অনেকেই অনেক কিছু পেয়েছে রাষ্ট্রপতি/প্রধানমন্ত্রী এমপি-মন্ত্রী কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সুবিধা দেওয়া হয় না। সবাই যদি সুযোগ-সুবিধা পায় মুক্তিযোদ্ধারা পাবে না কেন?

মুক্তিযোদ্ধাদের দুর্ভাগ্য তাদের পক্ষে কথা বলার জন্য সরকারে কেউ নেই এবং মুক্তিযোদ্ধা এমপি-মন্ত্রীরা সবাই দলকানা তারা ৭১ সাথীদের কথা ভুলে গেছে এবং মুক্তিযোদ্ধা বলতে নিজেদের লজ্জাবোধ করে? মুক্তিযুদ্ধের ফসল হিসেবে তারা মন্ত্রী এমপি/উপদেষ্টা হতে পেরেছেন? ৪৮ বছর পার হলো, মুক্তিযোদ্ধারা কষ্টকর মানবেতর জীবনযাপন করবে কেন? সরকারে থাকা মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযোদ্ধাদের স্বার্থ দেখে না সে দুঃখ সাধারণ মুক্তিযোদ্ধারা কোথায় রাখবে? অনেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে দলবাজি করে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করে। মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অমুক্তিযোদ্ধা নাম চরম অন্যায়। দলের কর্মীদের মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে রাষ্ট্রীয় অর্থে সহায়তা করা অপরাধ সে কারণে রাজনৈতিক দল ও নেতাকে ইতিহাসের কাটগড়ায় দাঁড়াতে হবে, ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না ইতিহাসের কিছু নিষ্ঠুরতা জাতি প্রত্যক্ষ করেছে।

সহযোদ্ধাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে মাসিক ভাতা দিয়ে আসছে ১৯৭৩ সাল থেকে সরকার। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হলে আমরা লেখনীর মাধ্যমে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা দেওয়ার জন্য লিখতে থাকি এবং আহাদ চৌধুরীর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা রাজপথে মিছিল করে। আহাদ ২২ দফা মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ কর্মসূচি প্রধানমন্ত্রীর হাতে অর্পণ করেন ১৯৯৯ মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনা করে ১৮ দফা গ্রহণ করে সরকার। প্রধানমন্ত্রী বাস্তবায়নের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। ২০০১ সালে মার্চ মাসে শেখ হাসিনা সরকার ৪১ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে ৩০০ টাকা হারে মাসিক ভাতা চালু করেন বাকি ১৭ দফা হিমাগারে পাঠায়।

২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরাজিত হলে বিএনপি সরকার গঠন করে, খালেদা জিয়ার সরকার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ৩০০ থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করে এবং ৫ বছরে ভাতাভোগীর সংখ্যা ১ লাখে বৃদ্ধি করে। এই সময়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিলের (মরহুম) নির্দেশে মাহবুব ভাই (বীর-বিক্রমের) নেতৃত্বে আমরা ৩৫ জন মুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক শক্তির জোট গঠনে কার্যক্রম শুরু করি সফলতার সঙ্গে প্রাথমিক কাজ সমাপ্ত করি। ১৪ দলীয় নেতারা ২০০৪ সালে ১০ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে বরেণ্য নেতাদের উপস্থিতে ২৬ দফা কর্মসূচির ইশতেহার পাঠ করেন হাসানুল হক ইনু যার একটি বর্ণও কার্যকর করা হয়নি। ইতিমধ্যে সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খানও মুক্তিযোদ্ধাদের নামে ১৫ দফা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন ফলাফল শূন্য।

২০০৮ সালে জোটগতভাবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হলে মুক্তিযোদ্ধারা আশাবাদী হয়ে ওঠে সরকারপ্রধানসহ সরকারি দলের নেতাদের প্রতিশ্রম্নতির বন্যা বইতে থাকে প্রতিশ্রম্নতি বাস্তবায়ন নেই। চিকিৎসা, বাসস্থানসহ অনেক প্রতিশ্রম্নতি। মুক্তিযোদ্ধা কোটাও তুলে দেওয়া হলো। ১৯ বছরে বাজেটে ২ হাজার টাকা বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকায় বৃদ্ধি করে ভাতা। অন্যদিকে রাষ্ট্র ও দলীয় সহযোগিতায় মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অমুক্তিযোদ্ধার তালিকা দীর্ঘতর হচ্ছে। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা মর্যাদাহীন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করে চলেছে। পৃথিবীর অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থা একেবারে ম্স্নান হয়ে গেছে। মুক্তিযোদ্ধারা সিংহভাগ হতাশ। উন্নয়নের রোড মডেল বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ভাতা ২০ হাজার টাকা করে অন্যান্য সুযোগ বাড়ালে কি হতো? তা হলে জাতি মর্যাদাবান হতো এবং নকল মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া জরুরি।

আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছে আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি কিছু নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে। অমুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে দেওয়া সরকারপ্রধান চাইলে তা সহজ হবে ও তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা। মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবিধানিক/আইনি স্বীকৃতি প্রদান করা। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রম্নতি বাস্তবায়ন করা। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী, মুক্তিযোদ্ধাদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত, অমুক্তিযোদ্ধাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে মুক্তিযোদ্ধা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা। এই কাজগুলো আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতা থাকতে করা না হলে আওয়ামী লীগের অবর্তমানে অবস্থা ভিন্ন হলে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে খুঁজে পাওয়া যাবে না তার জন্য কে দায়ী হবেন? ক্ষমতা কারও চিরস্থায়ী নয় এই জন্য বঙ্গবন্ধুর কন্যাকে অপবাদের শিকার হতে হবে যা কারও কাম্য নয়।

কয়েকটি প্রশ্ন তুলে ধরছি- মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন না হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতির পিতার আসন অলংকৃত করতে পারতেন? বেগম জিয়া/শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসতে পারতেন? জিয়া ও এরশাদ রাষ্ট্রপতির পদে বসে শাসন করতে পারতেন? বাঙালিরা সেনা বাহিনীতে জেনারেল হতে পারতেন? সেনাবাহিনী/নৌবাহিনী/বিমানবাহিনীর প্রধান হতে পারতেন? আমলারা বড় বড় পদে অধিষ্ঠিত হতে পারতেন? এমপি-মন্ত্রী হওয়ার সুযোগ কজনের হতো? হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক কতজন হতে পারত? সবই তো সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান তাকি কেউ অস্বীকার করতে পারবেন?

স্বাধীনতা মানে সব মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন কিছু লোকের নয়। এই প্রশ্নের উত্তর কেউ দিতে পারবেন কি? যদি তাই হয় সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের অবহেলা ও অবমূল্যায়ন কেন? তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে