রোববার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১৫ মাঘ ১৪২৯

হেমন্তেই শীতের দেখা ইবির আঙিনায়

ম নাজমুল হুসাইন
  ১২ নভেম্বর ২০২২, ০০:০০
বর্ষার বারিধারা শেষে প্রকৃতিতে হেমন্ত আসে শীতের আগমনি বার্তা নিয়ে। কার্তিক এবং অগ্রহায়ণ মিলে আবেগ ছড়ানো এই ঋতুতে প্রকৃতি সাজে এক নতুন রূপে। প্রতিবারের ন্যায় এবারও আগমনী ছোঁয়া লেগেছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সৌন্দর্যের অনন্য লীলাভূমি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসেও। দূর্বা ঘাসে কিংবা গাছের কচি পাতায় মুক্তার মতো আলো ছড়িয়েছে ভোরের শিশির যখন জানান দেয় হেমন্তের অনুভূতি, ঘন কুয়াশা ভেদ করে পূর্ব দিগন্তে সূর্য যখন উদিত হয় আপন ঢঙে, কিংবা মিষ্টি রোদের তাপে বিকেল পেরিয়ে যখন সন্ধ্যা নামে ক্যাম্পাসের আঙিনায় তখন অস্ফুট কণ্ঠে জীবনানন্দের কবিতা মনে পড়ে প্রেমিক মনে- 'এদেহ অলস মেয়ে পুরুষের সোহাগে অবশ চুমে লয় রৌদ্রের রস হেমন্ত বৈকালে উড়ো পাখ-পাখালির পালে উঠানে পেতে থাকে কান, শোনে ঝরা শিশিরের ঘ্রাণ অঘ্রাণের মাঝরাতে।' প্রত্যেক ঋতুই নিয়ে আসে অপরূপ সৌন্দর্য। সাজিয়ে তোলে প্রকৃতি। সাজিয়ে তোলে পুরো বাংলা। তারই ছোঁয়া লেগেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় ক্যাম্পাসের পথ-ঘাট, বিস্তীর্ণ খেলার মাঠ এবং শহীদ মিনার। শিশিরস্নাত সকাল, পাখির কলকাকলি ভরা ভেজা সন্ধ্যা আর মেঘমুক্ত আকাশে জোছনা ডুবানো আলোকিত রাত হেমন্তকালকে যেন আরও রহস্যময় করে তোলে সবার চোখে; প্রকৃতিতে এনে দেয় ভিন্নমাত্রা। হেমন্তের এ মৌনতাকে ছাপিয়ে বাংলার মানুষের জীবনে নবান্ন প্রবেশ করে জাগরণের গান হয়ে। হেমন্তের শিশিরভেজা সকালে চারুকলা বিভাগের প্রভাষক রাইহান উদ্দিন ফকির বলেন, শীতকাল আসার আগেই ক্যাম্পাসে ভালোই শীত নেমেছে। সবচেয়ে ভালো লাগে সকালের দৃশ্য। শিশিরস্নাত সকাল আর পাখির কলকাকলিতে মুখরিত থাকে পুরো ক্যাম্পাস। শিশির বিন্দু ঝরার টুপটাপ শব্দ আর মৃদু শীতলতা জানান দেয় ঋতু পরিবর্তনের খবর। শিশিরস্নাত ভোরকে বিদায় জানিয়ে সূর্য আসে কাঁচাসোনা রোদ নিয়ে। উপভোগ্যের পাশাপাশি দৃষ্টিনন্দন এই দৃশ্য যেন সবাইকে ব্যাকুল করে দেয়। ঘাসের ডগায় জমাট বাঁধা স্নিগ্ধ শিশির ঝলমল করে ওঠে রোদের আলোয়। কুয়াশাজড়ানো এই ক্যাম্পাস তখন স্বর্গীয় রূপ ধারণ করে।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে