রোববার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১৪ মাঘ ১৪২৯

শিক্ষার্থীদের ভাবনায় শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট ও উত্তরণ

শিক্ষিত জাতি সমাজের সম্পদ। কিন্তু তা যদি ত্রম্নটিপূর্ণ তাহলে সে সমাজ কখনো দেশকে এগিয়ে নিতে পারে না। স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়েও বাংলাদেশে শিক্ষা ব্যবস্থা সংকট। এটি নিয়ে কি ভাবছে শিক্ষার্থীরা তা তুলে ধরছেন তানভীর আহম্মেদ
নতুনধারা
  ২৬ নভেম্বর ২০২২, ০০:০০
নতুন বিশ্ববিদ্যালয় নয় দরকার কারিগরি শিক্ষা জান্নাতুল ফেরদৌস কুমিলস্না বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট দীর্ঘদিনের। স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও কার্যকর কোনো শিক্ষানীতি কিংবা শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হয়নি। করোনা মহামারি আমাদের শিক্ষাভিত্তিক সংকট স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিল। আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আমাদের ত্রম্নটিপূর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থা প্রকৃত জ্ঞান সৃষ্টি ও টিকে থাকাকে বাধাগ্রস্ত করছে। শৈশব থেকেই অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপে থাকায় একটা সময় পড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে শিক্ষার্থীরা। তা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার যথোপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি না করেই নতুন নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। সে তুলনায় কাজের সুযোগ না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হতাশা সৃষ্টির কারখানায় পরিণত হচ্ছে। এখনই সময় শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে ভাবার। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় কারিকুলাম প্রণয়ন করে কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষা থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত মান নিশ্চিত করতে হবে। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের বদলে কারিগরি শিক্ষা নিয়ে ভাবতে হবে। তবেই চলমান এ সংকট কিছুটা হলেও লাঘব হতে পারে। শুধু থিউরি নয়- ব্যবহারিক শিক্ষাচর্চা বাড়াতে হবে তানিউল করিম জীম ৪র্থ বর্ষ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় সংকট হলো ত্রম্নটিপূর্ণ সিলেবাস। পড়ার বিষয়বস্তু ঠিক না রেখেই পড়ানো হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। ফলে শিক্ষার্থীরা কি পড়ে, কেন পড়ে তাই বুঝে উঠতে পারে না। শুধু পড়ার প্রয়োজন তাই পড়ে। প্রকৃত শিক্ষার অভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে জ্ঞানচর্চা। এর ফলে একজন শিক্ষার্থী বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যেমন- ১২ বছর ইংরেজি পড়ে এ পস্নাস পেয়েও ইংরেজিতে কথা বলতে পারে হাতেগোনা কিছু শিক্ষার্থী। আবার বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিট দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা তা মুখস্থ করে পরীক্ষা হলে খাতায় লিখে দিলেই শেষ। ওই বিষয়ে কি শিখলাম বা তা কীভাবে প্রয়োগ করা যাবে, প্রয়োগ করলে কি হবে তা আর তাদের শিখানো হয় না। বাস্তব জ্ঞান সম্পর্কিত কর্মমুখী শিক্ষা আমাদের দেওয়া হয় না। আমরা শুধু শিখেই চলেছি। স্কুল পর্যায় থেকে শিক্ষার্থীদের যদি কর্মমুখী শিক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়। তাহলে এই বীরের জাতি অসাধ্যকে সাধন করে ফেলবে খুব সহজে। এ জন্য প্রয়োজন যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক, ব্যবহারিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করে তোলা এবং সঠিক পর্যবেক্ষণ। তা হলেই তৈরি হবে শিক্ষিত দক্ষ জনশক্তি। গবেষণাভিত্তিক শিক্ষায় মনোযোগ দিতে হবে শাহিনূর সিদ্দিকী রিমি ২য় বর্ষ, গণ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড হলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা মৃতু্যদন্ড। কেননা, দুই যুগ চরম অধ্যবসায় শেষেও এ দেশে যোগ্য ও দক্ষ গ্র্যাজুয়েট খুব একটা তৈরি হয় না। দেশের বড় বড় শিল্প ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজ করে বিদেশিরা। এত বড় ডিগ্রি নিয়েও যে দেশের গ্র্যাজুয়েটরা দেশের উন্নয়নে আসতে পারে না সে দেশে শিক্ষা মৃতু্যদন্ডই। শিক্ষা মানেই শুধু বই-খাতা নিয়ে স্কুলে যাওয়া নয়, পাঠ্য বই মুখস্থ করা বা পরীক্ষার খাতায় জিপিএ-৫ নয়। শিক্ষা হলো অর্জন আর প্রয়োগের বিষয়। যার ধারে কাছে নেই বাংলাদেশ। বর্তমান প্রতিযোগিতার বিশ্বে বাংলাদেশের শিক্ষার মান একদম তলানিতে। এই সংকটের মূল কারণ, বাংলাদেশ উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং উদ্ভাবনে অনেক পিছিয়ে আছে। বিশ্বের উন্নত বা উন্নয়নশীল দেশগুলো যখন বিভিন্ন গবেষণা এবং নতুন কিছু উদ্ভাবনের উদ্দেশ্যে থাকে বাংলাদেশের অধিকাংশ শিক্ষক ও শিক্ষার্থী তখন চাকরির বাজারে অবস্থান তৈরিতে ব্যস্ত। এর জন্য সমানভাবে পুঁজিবাদী রাষ্ট্র ব্যবস্থা দায়ী। এই সংকট উত্তরণের এখনই সঠিক সময়। তাই, শিক্ষার মান বৃদ্ধি করতে হলে রাষ্ট্র, শিক্ষক অথবা শিক্ষার্থী প্রত্যেকেরই গবেষণাভিত্তিক শিক্ষায় মনোযোগ দিতে হবে। চাপমুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা জরুরি তাসনীম হাসনাইন রায়হান বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বলা হয় জাতির ভবিষ্যৎ। কিন্তু সে ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে কোনো কার্যকর শিক্ষা ব্যবস্থাই নেই বাংলাদেশে। অতিরিক্ত, অযৌক্তিক, অবাঞ্ছিত সিলেবাসের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয় ভালো জিপিএ-র লোভ। ফলে, শিক্ষার্থীরা কঠিন পরিশ্রমেও নিজেকে যোগ্যতাবান সম্পন্ন মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ। যা পড়ার প্রয়োজন নেই, যতটুকু পড়ার প্রয়োজন কোনোটাই ঠিকভাবে হয় না। এই অপদার্থ বিষয়গুলোর সঙ্গে আবার জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার ঘটনাও হরহামেশা ঘটছে। শিক্ষার্থীদের নিজ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। বাধ্যগতভাবে গতানুগতিক ভালো ফলাফল এলেও এই শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন কিংবা রাষ্ট্রের কি কাজে লাগবে তা বেশির ভাগেরই অজানা। ত্রম্নটিপূর্ণ শিক্ষায় তৈরি হয়েছে চাকরির বাজারে চরম অনিশ্চিয়তা। যার দরুণ ক্ষেত্রবিশেষে আত্মহত্যাও ঘটছে। তাই ভর্তির পরপরই প্রতিষ্ঠান কর্তৃক শিক্ষার্থীদের মনে শিক্ষার আগ্রহের বীজটুকু বপন করানো জরুরি। বিষয়ভিত্তিক পড়াশোনায় নির্দিষ্ট বিষয়াবলির প্রয়োগ ঘটাতে হবে। শিক্ষার্থীদের চাপ প্রয়োগ নয়, মজার ছলে শেখার ব্যবস্থা রাখতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত নৈতিক, মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক এবং ক্যারিয়ার বিষয়ক সেশন নেওয়া উচিত।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে