রোববার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১৪ মাঘ ১৪২৯

নবম বর্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাব

ম মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ/ ইউছুব ওসমান
  ২৬ নভেম্বর ২০২২, ০০:০০
প্রগতিশীলতা, অসাম্প্রদায়িকতা, নিরপেক্ষতা এই স্স্নোগান সামনে রেখে গুটি গুটি পায়ে পথচলার নবম বর্ষে পদার্পণ করল প্রগতিশীল সাংবাদিকদের সংগঠন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাব। দীর্ঘ আট বছরের পথচলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরব, ঐতিহ্য, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো তুলে ধরার মাধ্যমে সংগঠনটি এরই মধ্যে ক্যাম্পাসে আস্থার প্রতীক হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। 'আপস করিনি কখনোই, এই হলো ইতিহাস'-এই স্স্নোগান নিয়ে জবি প্রেস ক্লাবের অষ্টম বর্ষপূর্তি উদযাপিত হয়েছে। দীর্ঘ এই পথচলায় অনেকেই জবি প্রেস ক্লাবের পাশে সব সময় ছায়ার মতো ছিলেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আস্থা, বিশ্বাস ও ভালোবাসায় এগিয়ে যাচ্ছে সংগঠনটি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী এই সংগঠনটি ২০১৪ সালের ৩ অক্টোবর কয়েকজন সদস্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর সংগঠনটির নিজস্ব কোনো কার্যালয় ছিল না। সে সময় প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যরা ক্যাম্পাসে ঘুরে ঘুরে সংবাদ সংগ্রহ করে কাঁঠালতলা বা মাসুক চত্বরে বসে কার্যক্রম পরিচালনা করত। পরবর্তী সময়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ ও দক্ষ নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে জায়গা করে নেয় জবি প্রেস ক্লাবের সদস্যরা। এরপর থেকে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করে সংগঠনটি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের সদস্যরা ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সাংবাদিকতা উপভোগ করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশির ভাগ সময় ক্লাস, পরীক্ষা লেগেই থাকে। এই একাডেমিক ব্যস্ততার মধ্যেই গোয়েন্দাদের মতো আমাদের ২৪ ঘণ্টা চোখ-কান খোলা রেখে ক্যাম্পাসে পূর্ণ নজরদারি রাখতে হয়। ক্যাম্পাসে সাংবাদিকতায় এক অন্যরকম আনন্দ আছে, জীবনকে উপভোগ করা যায়। চ্যালেঞ্জিং হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা যায়। নিজেকে দক্ষ, সৎ এবং সাহসী হিসেবে গড়ে তোলার অন্যতম পন্থা হচ্ছে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা। সংবাদ সংগ্রহ, নির্বাচন কিংবা লেখায় আনাড়িপনার ছাপ থাকলেও সাংবাদিকতার প্রতি অপরিসীম ভালোবাসা থেকেই একজন নিজেকে ক্যাম্পাস সাংবাদিক হিসেবে গড়ে তোলেন। সেই ভালোবাসা বা টান থেকেই নানা সংকটের মধ্যে থেকেও একঝাঁক তরুণ শিক্ষার্থীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাব সব সময় জবির সব সংবাদ পাঠকের কাছে সবার আগে পৌঁছে দেয়। সাংবাদিকতা শেখার জন্য সর্বোৎকৃষ্ট সময় হচ্ছে ক্যাম্পাসের সময়টা, এখানে সব জায়গায় পারদর্শিতা অর্জনের সুযোগ থাকে। এই সুযোগটাই জবি প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকরা নিয়েছে। ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন থেকে শুরু করে সব নিউজেই জবি প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের রয়েছে অকল্পনীয় ভূমিকা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাব একটি পরিবারের মতো। এখানে দুই সপ্তাহ পরপর একটি কার্যকরী মিটিং হয়ে থাকে। সেখানে শুধু যে সাংবাদিকতা নিয়ে আলোচনা হয় তা নয়, পেশাদারিত্বের ছাপ থেকে বেরিয়ে এসে সমসাময়িক বিষয়সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়। ক্যাম্পাসে সংবাদ সংগ্রহের ফাঁকে কখনো সবাই মেতে ওঠে আড্ডায়। আর সেই আড্ডা চলে ক্যাম্পাসের মাসুক চত্বর কিংবা কাঁঠালতলায়। আড্ডার ছলে কথা হয় ক্যারিয়ার নিয়ে, কখনো বা টিএসসিতে চা খেতে খেতে নিছকই চলে আড্ডা। আবার কখনো গানে গানে ছড়িয়ে পড়ে তারুণ্যের উন্মাদনা। কখনো আমরা বেরিয়ে পড়ি নতুন কিছু দেখতে। কখনো বা দলবেঁধে খাওয়া-দাওয়া করা হয়। আবার কখনোবা চলে যায় এক দিনের টু্যরে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের সদস্যরা সাংবাদিকতার পাশাপাশি অন্যান্য সামাজিক কাজ-কর্মের সঙ্গেও জড়িত রয়েছেন। সামাজিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে পাশে দাঁড়াচ্ছেন অসচ্ছল মানুষের পাশে। সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি থেকে শুরু করে সব ধরনের সামাজিক কর্মকান্ডে যুক্ত আছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের সদস্যরা। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকরা বলিষ্ঠতা এবং দৃঢ়তা ধরে রেখে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর মো. ইমদাদুল হক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্পণ হিসেবে কাজ করবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাব। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের সমস্যা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও সাফল্যের কথা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরবে। বস্তুুনিষ্ঠ সংবাদের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে তুলে ধরছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাব। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতিতেও সহায়ক ভূমিকা রাখছে। বিভিন্ন সময় অনেক সমস্যা আমাদের চোখে পড়ে না সাংবাদিকদের জন্য সে সমস্যাগুলো সামনে উঠে আসে আর আমরাও তা সমাধান করতে পারি। আমি আশা করি প্রেস ক্লাবের প্রতিটি সাংবাদিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদগুলো তুলে ধরবে। জবি প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে উপাচার্য বলেন, 'বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা দেশের উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কর্মকান্ড তোমাদের সুন্দর, বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর লেখার মাধ্যমে ফুটে ওঠে। সৎ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সংবাদকর্মী তৈরি করো এবং সেই সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে আগামীর পথে এগিয়ে চলো।' কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডক্টর কামালউদ্দীন আহমদ বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকরা তাদের বলিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশজুড়ে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরছেন। সামনে সংগঠনটির হাত ধরে দৃঢ় ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা আরও বাড়বে বলে আশা করছি। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোস্তাকিম ফারুকী বলেন, 'সাংবাদিকরা দেশের দর্পণ হিসেবে কাজ করে। জাতির উন্নয়নে সাংবাদিকদের সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন খুবই জরুরি। সৎ ও বস্তুুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে প্রেস ক্লাব ইতিমধ্যে যে সুনাম অর্জন করেছে তার ধারা অব্যাহত থাকবে। সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিয়ে যাব।'
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে