বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৯ মাঘ ১৪২৯
walton1
গল্প

রং পেন্সিল

ফারজানা ইয়াসমিন
  ২৭ নভেম্বর ২০২২, ০০:০০
রনি অনেক দিন ধরে বায়না ধরেছে বাবার কাছে একটা রং পেন্সিলের বাক্স চাই। কিন্তু বাবার হাতে নেই টাকা। তাই আর কেনা হয় না। যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরানোর দশা। তাদের কাছে এগুলো অযথা অপচয় ছাড়া কিছু না। রনি জেদ করলে বাবা তাকে শান্ত হতে বলে, আর বলে- টাকা হলেই এনে দেব। একদিন রনি অভিমানে কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে গেল। রাতে তার স্বপ্নে এলো এক পরী। সে রনিকে একটা রংয়ের বাক্স দিল। তাতে বারোটা রং পেন্সিল ছিল। সেগুলো জাদুর রং পেন্সিল। তাই রনি এটা দিয়ে যাই আঁকবে- তাই বাস্তবে পরিণত হবে। শর্ত ছিল কাউকে বলা যাবে না। আর এক দিনে মাত্র তিনটা ইচ্ছা পূরণ করা যাবে। আর একটা শর্ত ছিল পরীর। রনির শুধু নিজের ইচ্ছাই নয়। অন্য কারোর ইচ্ছাও পূরণ করতে হবে। স্বার্থপর হলে এই রংয়ের জাদু থাকবে না। রনি তো রং পেয়ে বেজায় খুশি। সকালে ঘুম থেকে জেগে দেখলো সত্যি সে রং পেন্সিল পেয়েছে। কিন্তু কাউকে বলা যাবে না। তাই- যাই করে লুকিয়ে। যখন যা ইচ্ছা আঁকে আর খুশিতে নাচে। ঠিক ঠিক মনে রাখে শুধু প্রতিদিন তিনটি ইচ্ছা পূরণ হবে। মাঝে মাঝে বন্ধুদের জন্যও এটা ওটা করে। কিন্তু কাউকে বুঝতে দেয় না। বন্ধুরাও মহা খুশি। একদিন এক ছোট্ট ছেলে এসে তার কাছে বায়না করল। তার একটা রঙিন কলম চাই। সেদিন রনির তিনটির মধ্যে দুটো ইচ্ছে পূরণ হয়েছিল। একটি এখনো বাকি। কিন্তু রনির সেদিন খুব চকলেট খেতে ইচ্ছা করছিল। সে তাই আঁকবে। এর মধ্যে এলো এই ছেলে। রনি তাকে বলে দিল, আমার কাছে রঙিন কলম নেই। তুমি অন্য কোথাও দেখ। ছেলেটা কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল। রাতে সে আবারও স্বপ্ন দেখল। পরী এসে তার রং পেন্সিলের জাদু কেড়ে নিল। আর বলে গেল, তুমি স্বার্থপর হলে কীভাবে? বাচ্চাটাকে কেন রঙিন কলম দিলে না? তোমার জাদুর ক্ষমতা আর থাকল না। সত্যি তাই হলো। রনির রং পেন্সিল আছে ঠিকই। কিন্তু জাদু নেই। সে কষ্টে একা একা কাঁদল। স্কুলে যাওয়ার পথে একটা ছোট্ট মেয়ে এসে তার হাতের রং পেন্সিলগুলো দেখতে চাইলো। রনির মন খুব খারাপ ছিল। সে মেয়েটার মুখের দিকে তাকিয়ে রং পেন্সিলগুলো দিয়ে দিল। আর বলল, তোমার বন্ধুদেরও দিও রং করতে। মেয়েটা খুব খুশি হলো। আর আচ্ছা বলে চলে গেল। হঠাৎ রনির মনটা ভালো হয়ে গেল। সে ভাবলো এত দিন তো মনের মতো সব পেয়েছে। আর এই রং পেন্সিল তো তার না। ওটা পরীর দেওয়া ছিল। যাই হোক মেয়েটা অনেক খুশি হয়েছে। আজ রনি সবচেয়ে বেশি আনন্দ পেয়েছে। কাউকে খুশি করতে পারাতে যে আনন্দ আছে। তা সে আজ সত্যিকারে বুঝতে পেরেছে। তার মনের কষ্ট দূর হয়ে গেল। সে গুনগুন করে গান গাইতে গাইতে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে গেল।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে