সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৩ মাঘ ১৪২৯
walton1

যেভাবে বুঝবেন শরীরে ক্যানসার বাসা বেধেছে

নতুনধারা
  ৩০ নভেম্বর ২০২২, ০০:০০
ক্যানসার নিয়ে বারবার লেখার একটাই উদ্দেশ্য ক্যানসার রোগ ও এর সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তোলা ও ক্যানসার রোগটি সম্পর্কে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। কেননা, ক্যানসার রোগের প্রতিরোধই হলো সর্বোৎকৃষ্ট চিকিৎসা। মনে রাখতে হবে শরীরের কোনো অংশে টিউমারের মতো ফোলা মাংসপিন্ড দেখা দিলেই আঁতকে ওঠার কিছু নেই, অবহেলাও করবেন না। দ্রম্নত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং পরীক্ষা করিয়ে রোগ শনাক্ত করুন। শরীরে সাধারণত দুই ধরনের টিউমার হয়ে থাকে বেনাইন বা নন-ম্যালিগনেন্ট টিউমার ও ম্যালিগন্যান্ট টিউমার। অনেক সময় জন্ম থেকে অথবা ছোট বয়স থেকে শরীরের কোনো অঙ্গে বেনাইন টিউমার থাকে। আবার শরীরের চামড়ার নিচে এ ধরনের টিউমার থাকে। এতে ভয়ের তেমন কোনো কারণ নেই। বেনাইন টিউমারে ক্যানসারের প্রবণতা থাকে না। এটি যে স্থানে হয় তার চারপাশের কোষ অথবা শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে না। কিন্তু এই বেনাইন ক্যানসারও গুরুতর হতে পারে যদি সেটি শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে যেমন রক্তের কোষে অথবা স্নায়ুতে হয়ে থাকে। অনেক সময় আবার বেনাইন টিউমারের চিকিৎসারও দরকার হয় না। ম্যালিগন্যান্ট টিউমার প্রাথমিক পর্যায়ে সারিয়ে ফেলা যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে একবার টিউমার বের করে দিলে পুনরায় তা ফিরে আসার সম্ভাবনা কম। আর ম্যালিগন্যান্ট টিউমার থেকেই ক্যানসার হয়। এই ধরনের টিউমারগুলো ধীরে ধীরে তার চারপাশের কোষ ও শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। \হ টিউমার থেকে ক্যানসার বোঝার সহজ উপায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ম্যালিগন্যান্ট টিউমার থেকেই ক্যানসার হয়। ম্যালিগন্যান্ট টিউমারে কোষ বিভাজন হয়। তাই এই টিউমারের আকৃতি বৃদ্ধি পেতে দেখলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বিভিন্ন কারণে শরীরের কোনো জায়গায় আঘাত পেলেও অনেক সময় ফোলা বা কাটা জায়গা থেকে ক্যানসার হতে পারে। অনেক ধরনের ক্যানসার ত্বকের মাধ্যমে অনুভূত হয়। এই ক্যানসারগুলো সাধারণত স্তন, অন্ডকোষ বা শুক্রাশয়, নিঃসারক এবং শরীরের নরম কলাতে বেশি দেখা যায়। টিউমার বা যে কোনো ধরনের ফোলা মাংসপিন্ড ক্যানসারের প্রাথমিক অথবা শেষ পর্যায়ে হতে পারে। প্রাথমিকভাবে ম্যালিগন্যান্ট টিউমারে কোনো ব্যথা অনুভূত হয় না। ফলে ম্যালিগন্যান্ট টিউমারের প্রাথমিক পর্যায়ে সেভাবে কোনো নির্দিষ্ট উপসর্গ দেখা না গেলেও কিছুদিনের মধ্যে ওজন হ্রাস, অ্যানিমিয়া ইত্যাদি লক্ষণ চোখে পড়ে। যতই সেই ক্যানসার আক্রান্ত টিউমারের আকৃতি বাড়তে থাকে, ততই তা আশপাশের স্নায়ু এবং পেশিগুলোতে চাপ দেয়। আর তখনই ব্যথা বা যন্ত্রণা অনুভূত হয়। উপসর্গ- ১) ফুসফুস ক্যানসার: শুকনো বা দীর্ঘদিনের কাশি, কাশতে কাশতে প্রায়ই কফের সঙ্গে রক্ত বেরোনো, বুকে ব্যথা, ওজন হ্রাস, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া ইত্যাদি। ২) লিম্ফোমা ক্যানসার: লসিকার আকৃতি বৃদ্ধি, দুর্বলতা, ওজন হ্রাস। ৩) স্তন ক্যানসার: স্তনে টিউমার বা মাংসপিন্ড, স্তন বৃন্ত থেকে রক্ত নিঃসরণ, স্তন ও স্তনবৃন্তের আকার এবং ধরনের পরিবর্তন। ৪) প্রস্টেট ক্যানসার: সাধারণভাবে প্রস্রাবে সমস্যা হলেও কখনো কখনো কোনো উপসর্গই বোঝা যায় না। তবে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়লে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। ৫) বোসাল সেল ক্যানসার: মূলত, মুখ এবং গলার মতো যেসব অংশে সূর্যের আলো পড়ে এমন জায়গায় একটি সাদা টিউমার অথবা বাদামি রঙের ছোপ দাগ দেখা যায়। ৬) মেলানোমা স্কিন ক্যানসার: শরীরের যে কোনো অংশে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি অথবা শরীরের কোনো আঁচিলের আকারের পরিবর্তন। ৭) কোলন ক্যানসার: এটি ক্যানসারের স্থান এবং আকৃতির উপর নির্ভর করে। সাধারণত মলত্যাগে সমস্যা, মলের সঙ্গে রক্ত বের হওয়া এবং পেটে অস্বস্তি বোধ হওয়া। ৮) লিউকিমিয়া: ধীর গতিতে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত এই ক্যানসারের রোগীদের অনেক সময় কোনো উপসর্গ দেখতে পাওয়া যায় না দ্রম্নত বৃদ্ধি পেলে দুর্বলতা, ওজন হ্রাস, সহজে রক্তক্ষরণ, মাথাব্যথা, ঘাম হওয়া, অনবরত শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ক্ষত হওয়া, নিঃশ্বাসে কষ্ট, ত্বকে লাল লাল ফুসকুড়ি ইত্যাদি। ৯) এছাড়া ম্যালিগন্যান্ট টিউমার থেকে আরও বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার হতে পারে। তবে সাধারণভাবে হঠাৎ করে খিদে কমে যাওয়া, ওজন হ্রাস, রক্ত স্বল্পতা, মলের সঙ্গে রক্ত ইত্যাদি যে কোনো কিছু ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে এইচপিভি ভাইরাস থেকে জরায়ুর ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল থাকে। তাই এই ধরনের কোনো উপসর্গ শরীরে হলে দ্রম্নত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ক্যানসার প্রতিরোধে করণীয় দ্ব তামাক জাতীয় পণ্য বা নেশা জাতীয় পণ্য পরিহার করুন। দ্ব স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাত্রা মেনে চলুন। দ্ব সাধারণ টি'র পরিবর্তে গ্রিন টি পান করুন। দ্ব খাদ্য তালিকায় পেঁয়াজ, রসুন ও আদা রাখুন। দ্ব দীর্ঘদিনের সংরক্ষণ করে রাখা খাবার বর্জন করুন। দ্ব পস্নাস্টিকের পাত্র ব্যবহার করবেন না। দ্ব নির্দিষ্ট বয়সে নারীদের এইচপিভি ভাইরাসের টিকা নেয়া। দ্ব নারীদের নিয়মিত ব্রেস্ট ক্যানসার হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করা উচিত। ক্যানসার নিয়ে ভুল ১) ক্যানসার মানেই মৃতু্য নয়। শুরুর পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে ক্যানসার সেরে যায়। এর জন্য সঠিক সময়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে গিয়ে পরীক্ষা করতে হবে। ২) ক্যানসার ৫% বংশগত। তাই অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। ৩) ক্যানসারে অপারেশন করা উচিত নয়, এই ধারণা একেবারেই ভুল। বায়োপসি করলে ছড়িয়ে পড়ে, এমনটা ভাবাও ঠিক নয়। কিছু নিয়ম অনুসরণ করলে প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যানসার নির্মূল করা সম্ভব। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মানুষ ভয় পেয়ে অনেকটা দেরি করে ফেলেন। ফলে ততদিনে ক্যানসারের আকারও বেড়ে যায় এবং পরিণতিতে মৃতু্যবরণও করতে হয়। য় সুস্বাস্থ্য ডেস্ক
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে