বর্ষায় ফোটে কদম্ব

প্রকাশ | ০২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

লায়ন মো. শামীম সিকদার
বিশ্বকবি রবী ঠাকুর বর্ষার রূপ-ঐশ্বর্যে মুগ্ধ হয়ে লিখেছেন- 'বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল করেছ দান, আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান, মেঘের ছায়ায় অন্ধকারে রেখেছি ঢেকে তারে, এই যে আমার সুরের ক্ষেতের প্রথম সোনার ধান।' রবি ঠাকুরের এ গানে বৃষ্টি আর কদম যেন একে অপরের সঙ্গে চিরদিনের বন্ধুত্ব। ষড়ঋতুর মধ্যে বৈশিষ্ট্য ও বৈচিত্র্যে বর্ষাকাল সবচেয়ে আকর্ষণীয়। রূপের গৌরর ও প্রকৃতির সৌন্দর্যের জন্য বর্ষাই প্রকৃতির রানী। বর্ষা নিয়ে রচিত হয়েছে অসংখ্য গান, কবিতা, ছড়া, প্রবন্ধ, গল্প ও উপন্যাস। পলস্নী গায়ের টিনের চালের বর্ষার রিমঝিম শব্দ সবাইকে উদ্বেলিত করে। বাংলাসাহ্যিত্যে নন্দিত কথাসাহিত্যক হুমায়ূন আমহেদ বর্ষার শব্দ শোনার জন্য তার নূহাশপলস্নীতে তৈরি করেছিলেন বৃষ্টি বিলাশ নামে একটি টিনের ঘর। এখানে বসে তিনি নীরবে নিরিবিলি পরিবেশে বর্ষার রূপ অবলোকন করতেন এবং বর্ষার শব্দ শুনতেন। এখানেই বসেই তিনি রচনা করেছেন অনেক জনপ্রিয় রোমান্টিক উপন্যাস। এসব উপন্যাসে তাই বৃষ্টির প্রভাব ছিল অনেক। বর্ষাকালের শুরুতেই ফোটে কদম ফুল। কদম ফুলের সিগ্ধ ঘ্রাণ যুগে যুগে শহর কিংবা গ্রামের সব মানুষকেই মুগ্ধ করে। বর্ষা এলে গাছে গাছে ফোটে কদম ফুল, চোখ ধাঁধিয়ে দেয় ফুল প্রেমিদের। কদম নামটি এসেছে এর সংস্কৃত নাম কদম্ব থেকে। কদম্ব মানে হলো 'যা বিরহীকে দুঃখী করে' প্রাচীন সাহিত্যেও একটি বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে কদম ফুল। এর আদি নিবাস ভারতের উষ্ণ অঞ্চল, চীন ও মালয়ে। কদম ফুলের আরেক নাম হলো নীপ এবং এ ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম অহঃযড়পবঢ়যধষঁং ওহফরপঁং. বর্ষাকাল মানেই এক গুচ্ছ কদম ফুলের মিষ্টি সুবাস। কদম গাছের শাখায়-পাতার আড়ালে ফুটে থাকা অজস্র কদম ফুলের সুগন্ধ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আর এ কারণে কদম ফুলকে বলা হয় বর্ষার দূত। কদম ছাড়াও বর্ষায় আরও ফোটে বকুল, কলমি ফুল, স্পাইডার লিলি, দোলনচাঁপা, সুখদর্শন, ঘাসফুল, শাপলা, সন্ধ্যামালতি, কামিনী, গুল নার্গিস, দোপাটি, অলকানন্দ। বর্ষার ফলগুলো মধ্যে রয়েছে: পেয়ারা, লটকন, আমড়া, জাম্বুরা, জামরুল, ডেউয়া, কামরাঙা, কাউ, গাব ইত্যাদি। পুষ্টিগুণে ভরা থাকে এ ফলগুলো। 'বর্ষার দূত' কদম ফুল ইতোমধ্যে ফুটতে শুরু করেছে। বর্ষার রূপ-ঐশ্বর্যে মুগ্ধ অনেক কবিই বাংলা সাহিত্যকে ঋদ্ধ করেছেন। বর্ষা ঋতু তার বৈশিষ্ট্যের কারণেই স্বতন্ত্র। ঋতুরানী বর্ষার আগমনে অপেক্ষায় থাকে অনেকেই। তারা বর্ষায় নিজের মনকে সতেজ করতে বর্ষাকে উপভোগ করে নানান রঙে। আবার অনেকেই বর্ষা উৎসব আয়োজন করে ঘটা করে। এ সময়ে বর্ষার গান অশান্ত মনকে শান্ত করে দেয়। তাই তো হেমন্ত মুখোপাধ্যায় গাওয়া গানের সুরে বলতে ইচ্ছে হয়- 'এই মেঘলা দিনে একলা ঘরে থাকে না তো মন, কাছে যাব কবে পাব ওগো তোমার নিমন্ত্রণ।' উপদেষ্টা \হজেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম বেতাগী, বরগুনা