মাঠ সংগঠকের পথিকৃৎ জেসমিন সুলতানা

শ্রেণি বিভেদকে তোয়াক্কা না করে সততা, নিষ্ঠার সঙ্গে নিজ কমের্ক প্রাধান্য দিয়ে কমের্ক্ষত্রে অনন্য দৃষ্টান্ত রাখাও সম্ভব। ইচ্ছাশক্তি আর আন্তরিকতায় কমের্ক্ষত্রে এমনই স্বাক্ষর রেখে চলেছেন জেসমিন সুলতানা নামে এক নারী।

প্রকাশ | ২৩ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

এম আর মাসুদ, ঝিকরগাছা, যশোর
জেসমিন সুলতানা বিআরডিবির ইরেসপোর শ্রেষ্ঠ মাঠসংগঠক
ইচ্ছাশক্তি আর আন্তরিকতা মানুষকে অনেক দূরে নিয়ে যেতে পারে। হতে পারে সফলকাম। দৃষ্টান্ত রাখতে পারে সমাজ ও রাষ্ট্রে। শ্রেণি বিভেদকে তোয়াক্কা না করে সততা, নিষ্ঠার সঙ্গে নিজ কমের্ক প্রাধান্য দিয়ে কমের্ক্ষত্রে অনন্য দৃষ্টান্ত রাখাও সম্ভব। ইচ্ছাশক্তি আর আন্তরিকতায় কমের্ক্ষত্রে এমনই স্বাক্ষর রেখে চলেছেন জেসমিন সুলতানা নামে এক নারী। তিনি বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোডের্র (বিআরডিবি) আওতাধীন যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার দরিদ্র মহিলাদের জন্য সমন্বিত পল্লী কমর্সংস্থান সহায়ক প্রকল্পের (ইরেসপো) মাঠসংগঠক। এ বছর তিনি দেশের শ্রেষ্ঠ মাঠসংগঠক হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন। গত ২৮ জুন রাজধানীর বিসিএস প্রশাসনিক ভবনে এই নারীকে দেশসেরা মাঠ সংগঠকের সম্মাননা স্মারক ও উপঢৌকন প্রদান করা হয়েছে। এ সময় জেসমিন সুলতানাকে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব এসএম গোলাম ফারুক দেশসেরা মাঠ সংগঠকের সম্মাননা স্মারক, সনদপত্র ও ২০ হাজার টাকার প্রাইজবন্ড হাতে তুলে দেন। ৮ জুলাই বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোডের্র (বিআরডিবি) যশোর জেলা প্রকল্প পরিচালকের কাযার্লয়েও জেসমিন সুলতানাকে সংবধর্না দেওয়া হয়। অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেসমিন সুলতানা মাঠ সংগঠক হিসেবে বøকভুক্ত মোট সমিতির সংখ্যা ছিল ১৭টি, উপকারভোগীর সংখ্যা ৫৫৬ জন, মোট সঞ্চয় আদায় ২১ লাখ ২২ হাজার টাকা। তিনি গত এক বছরে উঠান বৈঠক করেছেন ৮৪০টি, গৃহীত প্রকল্পে মোট ঋণ আদায় ৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা যা ঋণ আদায়ের শতভাগ। তিনি দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে ১৭টি মহিলা সমিতির সভাপতি, ম্যানেজার ও উপকারভোগীদের সঙ্গে নিবিড় সম্পকর্ গড়ে তোলার মাধ্যমে কাযর্ক্রম পরিচালনা করে আসছেন। নিয়মিত উঠান বৈঠকে উপস্থিত হয়ে উপকারভোগীদের উদ্বুদ্ধকরণসহ সব সামাজিক ও পরিবেশগত সমস্যা সম্পকের্ অবহিত এবং এসব সমস্যা সমাধানে তাদের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি পুরুষশাসিত এই সমাজ ব্যবস্থায় একজন মহিলাকমীর্ হয়েও নিজ ব্যয়ে স্কুটি ক্রয় করে নিজে চালিয়ে এসব কমর্কাÐের সঙ্গে গ্রামীণ পরিবেশে সাহসিকতার সঙ্গে একজন মাঠসংগঠক হিসেবে দক্ষতা দেখিয়েছেন। দরিদ্র মহিলাদের জন্য সমন্বিত পল্লী কমর্সংস্থান সহায়ক প্রকল্পের (ইরেসপো) ঝিকরগাছা উপজেলা সহকারী পল্লী উন্নয়ন কমর্কতার্ শহীদুল্লাহ লিমন বলেন, জেসমিন সুলতানা একজন দক্ষ ও যোগ্য মাঠসংগঠক। তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে আজ দেশসেরা নিবাির্চত হয়েছেন। জেসমিন সুলতানা শুধু ঝিকরগাছার নয় সারাদেশের দৃষ্টান্ত হতে পারে। জেসমিন সুলতানা যশোর জেলার শাশার্ উপজেলার শিকারপুর গ্রামে ১৯৭৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ১৫ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা কোরবান আলী, মাতা কোহিনূর বেগম দু’জনই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। দুই ভাইবোনের মধ্যে তিনি বড়। ১৯৯৩ সালে শাশার্র বুরুজবাগান পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে এসএসসি, ১৯৯৫ সালে নাভারন কলেজ থেকে এইচএসসি, ১৯৯৭ সালে একই কলেজ থেকে বিএ পাস করেন এবং ২০০২ সালে খুলনা বিএল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে ইতিহাসে কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতকোত্তর করেন। ২০০০ সালে ফেব্রæয়ারি মাসে তিনি এই প্রকল্পে মাগুরা জেলার সদর উপজেলায় মাঠসংগঠক হিসেবে কমর্জীবন শুরু করেন। শুরুতে কমের্ মন না বসলেও একপযাের্য় তিনি এটিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে মনস্থির করেন। শুরু হয় আন্তরিকতার সঙ্গে জেসমিন সুলতানার কমর্জীবন। তারপর ২০০১ সালে তিনি বদলি সূত্রে একই প্রকল্পে ঝিকরগাছার মাঠসংগঠক হিসেবে কাজ শুরু করেন। সেই থেকে এখনো সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার কারণে তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। কমর্দক্ষে বনে গেছেন একজন দক্ষ সংগঠক, একজন দক্ষ কমীর্। সততা, নিষ্ঠা, কমর্ঠ এই নারী সংগঠক পুরুষশাসিত সমাজের নারী অগ্রযাত্রাকে যেন এগিয়েছে আরও এক ধাপ। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ২ সন্তানের জননী। স্বামী শাহীন-উল-কবীর, ঝিকরগাছা সম্মিলনী মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক। জেসমিন সুলতানার মূল লক্ষ্য গ্রামের পিছিয়ে পড়া নারীগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করে প্রকল্পের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা। তিনি বাল্যবিয়ে, যৌতুকসহ যাবতীয় অসংগতির বিরুদ্ধে সোচ্চার।