গ্রহাণু আর ধুমকেত

প্রকাশ | ০৩ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

সাইফুল ইসলাম ও মোরিন আহমেদ
সারা বিশ্বের বিজ্ঞানমহল ও কৌত‚হলী আমজনতা। সূযের্র কাছে বহিঃমÐলে গমনের পর নিখেঁাজ ছিল আইসন। সূযের্র তীব্র আলোয় ঢাকা পড়ে যাওয়া আইসনকে নাসার ৮টি টেলিস্কোপ তন্ন তন্ন করেও খুঁজে পায়নি। আর ৩০০ বছরে এমন উজ্জ্বলতর আকাশ ঝাড়– দেখার সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেল? গত ২৮ নভেম্বর গভীর রাত পযর্ন্ত নাসার অবজারভেটরি থেকে কোনো খবর দেয়া হয়নি। যেন আশার প্রদীপ নিভে গেল। পরে আশার আলো দেখালেন মাকির্ন নৌ সেনা একদল জ্যোতির পদার্থবিদ। আরিজোনা বিশাল নৌ সেনার বড় ল্যাবের সৌর টেলিস্কোপে ধরা পড়েছে আলোর বিন্দুর মতো নড়াচড়া করছে এমন কিছু ছবি। তারা মনে করছেন সূযর্ নিঃশেষ করতে পারেনি আইসনকে। মহাজাগতিক এই খবরে বিজ্ঞানীরা মনে করছেনÑ যা আইসনের অংশবিশেষ হতে পারে। পরে ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি (ইএসএ) বলেছে আবার দেখা যেতে পারে আইসনকে। তাই ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নজর রাখতে বলছে নাসা। আকাশ পরিষ্কার থাকলেÑ এই সময় পূবর্-দক্ষিণ বা পূবর্ আকাশে দেখা যাবে আইসনকে। সূযর্ যখন অস্ত যাবে, সে সময় ফের পশ্চিম বা দক্ষিণ-পশ্চিম আকাশে দেখা যাবে এটাকে। আর এটা আবিষ্কার হয়েছে মাত্র ১৪ মাস আগে, এর মধ্যেই অপমৃত্যুর ছোবলে পড়ে আইসন। নেপচুনের পুরোট ক্লাউড গগনের তুষারআবৃত অংশে জন্ম হয়েছিল এই ‘কমেট অফ দ্য সেঞ্চুরির’। ভেঙে গেলেও তা থেকে যে তথ্য পাওয়া যাবে তা দিয়ে সৌরমÐলের অনেক অজানা রহস্য আবিষ্কার করা যাবে। ফিনিক্সের (মঙ্গল যান) মতো যদি আগুনের হলকা থেকে বেঁচে যায়, তাহলে বের হয়ে আসবে আকাশ দীপাবলী। ইতোমধ্যে যার লেজের দৈঘর্্য হয়েছিল ৮০,০০০০০ মাইল বা ১,২৮,৮০,০০০ কিলোমিটার। যা ছিল মহাকাশে আলোর ফুলঝুরি। যা আগে দেখেননি বিজ্ঞানীরা। এই বাতার্ই ইমেলে জানিয়েছেন নাসার কমর্কতার্ কালর্ বাট মাসর্। কী ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছিল? তা জানার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছেন তারা। মহাকাশের টেলিস্কোপগুলো নিরন্তন নজর রেখে চলেছে এর গতিপ্রকৃতির ওপর। আইসন সূযের্র টান এড়াতে পারলে ডিসেম্বরে তার ওপর নজরদারি চালাবে সদ্য পাঠানো একটি টেলিস্কোপ। মিস করলে, আগামী ৩০০ বছরে এ রকম ধূমকেতু আসার আর কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না বিজ্ঞানীরা। এই উজ্জ্বল ধূমকেতুকে বলা হচ্ছে কমেট অফ দ্য ইয়ার। আবিষ্কারের পর আইসনকে প্রথমবারের মতো পৃথিবী থেকে দেখা গেল ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে। পৃথিবী থেকে তখন দূরত্ব ছিল ৮৩.৮ কোটি কিলোমিটার। এর উৎপত্তি হয়েছিল নেপচুন পুঞ্জের ক্লাউড থেকে। এর নামকরণ করা হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল সায়েন্টিফিক অপটিক্যাল নেটওয়াকের্র নামে (আইসন)। এই ল্যাবের ১৬ ইঞ্চি ব্যাসের টেলিস্কোপে প্রথম ধরা পড়ায় এর নাম রাখা হয় আইসন। গ্রহাণু পৃথিবীতে আঘাত করার ঘটনাটি দুলর্ভ হলেও এর প্রতিক্রিয়া হতে পারে বেশ খারাপ। এর মানে হলো, আমাদের যেমন বেশি উদ্বিগ্ন হওয়া যাবে না, তেমনি ব্যাপারটাকে এড়িয়েও যাওয়া যাবে না। নাসার গবেষণায় দেখা যায়, পৃথিবীর নিকটবতীর্ প্রায় ৯০ শতাংশ গ্রহাণুর ব্যাস হলো ১ কিলোমিটারের বেশি। তবে এর খুব কমই বায়ুমÐল ভেদ করে পৃথিবীতে আছড়ে পড়তে পারে। এ ব্যাপারে প্রয়োজন আরো অনেক গবেষণা এবং সাবর্ক্ষণিক লক্ষ্য রাখতে হবে এদের ওপর। ঘঊঙপধস নামের এক নতুন স্পেস টেলিস্কোপ তৈরির প্রস্তাব করা হচ্ছে, যার সাহায্যে এসব গ্রহাণুর ওপর নজর রাখাটা সহজ হবে। নাসার তথ্য অনুযায়ী মোটামুটি প্রতি পঁাচ হাজার বছরে একবার, ফুটবল মাঠের সমান আকৃতির কোনো বস্তু পৃথিবীকে আঘাত করে আর বেশ বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়। এদিকে একটি ধূমকেতুর ওপর অবতরণের জন্য ১০ বছর আগে, একটি মহাকাশযানকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। আড়াই বছর ধরে বন্ধ রাখার পর তাকে আবার মহাকাশেই সক্রিয় করে তোলা হয়েছে। এই মহাকাশযানটির নাম হবে রোজেটা। প্রাচীন মিশরীয় সাংকেতিক লিপি হায়ারোগ্লিফিকসের জনক রোজেটা স্টোনের নাম অনুসারে এটার নামকরণ করা হয়েছে রোজেটা। আবার এই ধূমকেতুটির নাম রাখা হয়েছেÑ ৬৭৬-পি। এটার আরো একটা নাম আছে তাহলোÑ চুরিমফ গেরাসিমিয়েঙ্কো। এই যানটি প্রেরণ করেছিল ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি। যার কাজ ছিল-সৌরজগতের আশপাশে থাকা ধূমকেতুতে অবতরণ করে, তার গতিপ্রকৃতি সম্পকের্ তথ্য সংগ্রহ করা। চলতে চলতে পথেই যাতে ব্যাটারির চাজর্ শেষ না হয়ে যায় সেই জন্য মহাকাশযানটিকে বিগত আড়াই বছর ধরে বন্ধ রাখা হয়েছিল। গত কয়েক দিন আগে সেই যানটিকে আবার সক্রিয় করে তোলা হয়েছে। পৃথিবীতে বসেই বিজ্ঞানীরা সক্রিয় করার কাজটি করেছেন। ধূমকেতু সম্পকের্ আমরা খুব একটা জানি না। রোসেয় যে ক্যামেরা বসানো আছে তা দিয়ে ধূমকেতুটাকে বের করা হবে। তার অবস্থান নিভুর্লভাবে চিহ্নিত করা হবে। রোজেটা তারপর তার দিকে ধাওয়া করে উড়ে যাবে। তার ওপর অবতরণের চেষ্টা করবে। ওই ধূমকেতু মাথাটার ব্যাস ৪ কিলোমিটার। এই যানটা যখন ধূমকেতুর চারদিকে ঘুরতে থাকবে। তখন আরো অনেক কিছু জানা যাবে। ধারণা করা হচ্ছে- আগামী জুলাইনাগাদ ধূমকেতু থেকে পৃথিবীতে ছবি পেঁৗছাতে শুরু করবে। আর তখনই এর গতিবিধির মানচিত্র তৈরি করা যাবে। এই পৃথিবী থেকে ৫০ কোটি কিলোমিটার দূরে ১টি ধূমকেতুর খুব কাছে থেকে পযের্বক্ষণের চেষ্টায় বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে ইউরোপীয় মহাকাশযান রোজেটা।