মাল্টিপয়েন্ট টাচস্ক্রিন ডিভাইস উন্নয়নের আরেক ধাপ

মাত্র এক দশক আগেও টাচস্ক্রিন ছিল সাইন্স ফিকশন বা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর মতোই। টাচস্ক্রিন বা স্পর্শ পর্দা হলো একটি ইনপুট ডিভাইস। সাধারণত একটি তথ্য প্রক্রিয়াকরণ সিস্টেমের বৈদু্যতিক দৃশ্যনীয় ডিসপেস্নর উপরের স্তর এটি। একজন ব্যবহারকারী একটি বিশেষ লেখনী বা এক বা একাধিক আঙুল দিয়ে স্ক্রিন স্পর্শ করে। সহজ বা বহুস্পর্শ অঙ্গভঙ্গিগুলোর মাধ্যমে ইনপুট সরবরাহ করতে পারে বা তথ্য প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
মাল্টিপয়েন্ট টাচস্ক্রিন ডিভাইস উন্নয়নের আরেক ধাপ

বর্তমান সময়ে বহুল ব্যবহৃত একটি শব্দ টাচস্ক্রিন যা আমাদের নিত্যদিনের জীবনযাত্রার সঙ্গে মিশে আছে। অথচ মাত্র এক দশক আগেও টাচস্ক্রিন ছিল সাইন্স ফিকশন বা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর মতোই।

টাচস্ক্রিন বা স্পর্শ পর্দা হলো একটি ইনপুট ডিভাইস। সাধারণত একটি তথ্য প্রক্রিয়াকরণ সিস্টেমের বৈদু্যতিক দৃশ্যনীয় ডিসপেস্নর উপরের স্তর এটি। একজন ব্যবহারকারী একটি বিশেষ লেখনী বা এক বা একাধিক আঙুল দিয়ে স্ক্রিন স্পর্শ করে। সহজ বা বহুস্পর্শ অঙ্গভঙ্গিগুলোর মাধ্যমে ইনপুট সরবরাহ করতে পারে বা তথ্য প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কিছু সেন্সর সাধারণ বা বিশেষভাবে কাজ করার জন্য ব্যবহার করা হয় এবং অন্যরা শুধু বিশেষ লেখনী বা কলম ব্যবহার করে কাজ করতে পারে।

টাচস্ক্রিনটি মাউস, টাচপ্যাড বা অন্য ডিভাইসগুলো প্রদর্শিত করে। টাচস্ক্রিন গেম কনসোল, ব্যক্তিগত কম্পিউটার, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন এবং পয়েন্ট অফ সেল (চঙঝ) সিস্টেম প্রভৃতি ডিভাইসগুলোতে দেখা যায়। কম্পিউটারগুলোতে বা নেটওয়ার্কগুলোতে টার্মিনাল হিসেবে সংযুক্ত থাকে। টাচস্ক্রিন ক্লাসরুমে ও কলেজ ক্যাম্পাসগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

স্মার্টফোন, ট্যাবলেট এবং অনেক ধরনের তথ্য যন্ত্রপাতির জনপ্রিয়তা স্থানান্তরযোগ্য এবং কার্যকর ইলেকট্রনিক্স দ্রব্যগুলোর জন্য টাচস্ক্রিনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়চ্ছে। টাচস্ক্রিন চিকিৎসা ক্ষেত্র, ভারী শিল্প, স্বয়ংক্রিয় টেলার মেশিন (এটিএম) এবং জাদুঘর প্রদর্শন বা রুম অটোমেশন হিসেবে পাওয়া যায়।

ইংল্যান্ডের মালভার্নে অবস্থিত রয়াল রাডার এস্টাবিস্নশমেন্টের সদস্য এরিক জনসন, ১৯৬৫ সালে তার প্রকাশিত একটি ছোট প্রবন্ধে ক্যাপাসিটিভ টাচস্ক্রিনের কাজ বর্ণনা করেন। তারপর ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত আরেকটি প্রবন্ধে ফটোগ্রাফ ও ডায়াগ্রামসহ সম্পূর্ণরূপে বর্ণনা করেন। ১৯৭০ দশকের প্রথম দিকে ইউরোপীয় নিউক্লিয়ার রিসার্চ অর্গানাইজেশনের ইঞ্জিনিয়ার ফ্রাঙ্ক বেক এবং বেন স্ট্যাম্পে, ১৯৬০-এর দশকের প্রথম দিকে স্ট্যাম্পের একটি টেলিভিশন কারখানাতে কাজের ওপর ভিত্তি করে স্বচ্ছ টাচস্ক্রিন প্রস্তুত করেন। এটি ১৯৭৩ সালে ব্যবহার করা হয়। আমেরিকার উদ্ভাবক জর্জ স্যামুয়েল হার্স্ট একটি প্রতিরোধক টাচস্ক্রিন তৈরি করেন ১৯৭৫ সালের ৭ অক্টোবর। প্রথম সংস্করণটি ১৯৮২ সালে হয়েছিল।

পরবর্তী সময়ে ১৯৯১-৯২ সালে সান স্টার৭ প্রোটোটাইপ পিডিএ আঁঠালো স্ক্রলিংয়ের সঙ্গে একটি টাচস্ক্রিন প্রয়োগ করেছিল। ১৯৯৩ সালে আইবিএম প্রথম টাচস্ক্রিন ফোন আইবিএম সাইমনকে বাজারে ছাড়ে। ক্যাপাসিটিভ টাচস্ক্রিনসহ প্রথম মোবাইল ফোনটি এলজি প্রাদা ২০০৭ সালের মে মাসে বাজারে ছাড়া হয়।

২০০৭ সালে ৯৩% প্রতিরোধী টাচস্ক্রিন প্রেরণ করা হয় এবং শুধু ৪% প্রোজেক্টড ক্যাপাসিট্যান্স ছিল। ২০১৩ সালে প্রেরিত ৩% টাচস্ক্রিন প্রতিরোধী ছিল এবং ৯০% প্রজেক্টেড ক্যাপাসিট্যান্স ছিল।

টাচস্ক্রিন ডিজাইনের দিকনির্দেশগুলো প্রথম দিকে ১৯৯০-এর দশকে তৈরি করা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে গবেষণা এবং পুরনো সিস্টেমগুলোর প্রকৃত ব্যবহার অর্থাৎ সাধারণত ইনফ্রারেড গ্রিডগুলো ব্যবহার করে- যা ব্যবহারকারীর আঙুলের আকারের ওপর নির্ভরশীল ছিল। ২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে, স্মার্টফোনের অপারেটিং সিস্টেম প্রস্তুতকারকদের মানগুলো প্রবর্তিত হয়। তবে এটি নির্মাতাদের ওপর নির্ভর করে এবং প্রযুক্তি পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে উলেস্নখযোগ্য পরিবর্তনের অনুমতি দেয়।

মাল্টিপয়েন্ট টাচস্ক্রিনগুলোর উন্নয়নের ফলে পর্দায় একাধিক আঙুলের অনুসরণকে সহজতর করে তোলে। এই ডিভাইসগুলো একাধিক ব্যবহারকারীদের একযোগে টাচস্ক্রিনের সঙ্গে ইন্টারঅ্যাক্ট করার অনুমতি দেয়। টাচস্ক্রিনের ক্রমবর্ধমান ব্যবহারে, টাচস্ক্রিন প্রযুক্তির খরচটি নিয়মিতভাবে অন্য পণ্যগুলোর মধ্যে শোষিত হয়ে তা বিলুপ্তির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। টাচস্ক্রিন প্রযুক্তি নির্ভরযোগ্যতা প্রদর্শন করেছে এবং এটি বিমান, অটোমোবাইল, গেমিং কনসোল, মেশিন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, যন্ত্রপাতি এবং সেলফোনসহ হ্যান্ডহেল্ড ডিসপেস্ন ডিভাইসগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে। আঙুলের চাপ, আঙুলের গিঁট এবং নখ কোনটি ইনপুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে সেটি চিহ্নিত করতে ট্যাপসেন্স ঘোষণা করা হয় ২০১১ সালের অক্টোবরে। এটি বিভিন্ন উপায়ে ব্যবহার করা যেতে পারে, উদাহরণস্বরূপ, কপি এবং পেস্ট করতে, অক্ষরগুলো বড় করতে, বিভিন্ন অঙ্কন মোড ইত্যাদি সক্রিয় করতে।

টাচস্ক্রিনে ডিসপেস্নর ওপর আঙুলের ছাপ থেকে কিছু সমস্যার সম্মুখীন হয়। আঙুলের ছাপের দৃশ্যমান প্রভাবগুলো হ্রাস করার জন্য নকশাকৃত অপটিক্যাল কোটিংগুলোর সাহায্যে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে। বেশির ভাগ আধুনিক স্মার্টফোনগুলোতে অলিফোবিক কোটিং রয়েছে- যা তেলের অবশিষ্টাংশকে কমিয়ে দেয়। আরেকটি বিকল্প হলো- একটি ম্যাট-ফিনিশ অ্যান্টি-গেস্নয়ার স্ক্রিন প্রটেক্টর ইনস্টল করা- যা সামান্য অমসৃণ পৃষ্ঠ তৈরি করে- যা ময়লা দাগগুলোর আবরণকে ধরে রাখে না।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

সকল ফিচার

ক্যাম্পাস
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
হাট্টি মা টিম টিম
কৃষি ও সম্ভাবনা
রঙ বেরঙ

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে