শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

এই পূজায় মিম...

বছর ঘুরে আবারও এলো দুর্গাপূজা। এটি সনাতনীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। পেশাগত জীবনকে পাশ কাটিয়ে এ উৎসবের অনুরণনে অবগাহন করেন অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিমও। ছেলেবেলা থেকেই পূজা এলে খুশিতে নেচে উঠত তার মন। এখনো হইহুলেস্নাড় করে দিব্যি কাটিয়ে দেন পূজার কটা দিন।
এই পূজায় মিম...
বিদ্যা সিনহা মিম

'ঢাকের তালে কোমর দোলে, খুশিতে নাচে মন'- পূজা এলেই পাড়া-মহলস্নায় এমনসব গান বাজে। গানের তালে তালে উৎসব জমে ক্ষীর হয়ে ওঠে। অভিনেত্রী মিমের একইদশা। মহালয়ার দিন থেকেই মিমের বাড়িতে চলত ধুমধাম। আনন্দের লহরি, ধুনচি নাচ আরও কত কি! সেই সঙ্গে পূজা এলেই ভাইবোন মিলে মামাবাড়ি যাওয়া রীতিমতো নিয়ম বানিয়ে ফেলেছেন এই লাক্স তারকা। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মিম বলেন, 'পূজা এলেই ভাইবোন মিলে চলে যেতাম মামাবাড়ি, রাজশাহীতে। আমার পূজার নতুন জামা-জুতা থাকত ডাবল। বাবা-মা দিতেন। মামারাও দিতেন। তাছাড়া চুড়ি, ফিতা, মেকআপ বক্স সবই আমার দু-তিনটে করে হতো।'

লাক্স সুন্দরী নির্বাচিত হওয়ার পর একবার বিসর্জনের দিন নৌকায় উঠেছিলেন মিম। তাকে পেয়ে সে নৌকায় অনেকেই উঠে। নৌকা তো ডুবে যায় যায় অবস্থা। কোনোরকমে সবাই প্রাণে বাঁচে আরকি। এরপর আর কোনো বিসর্জনে যাননি মিম। তবে পূজা মানেই মামা বাড়ি যেতে হবে, এমন একটা অবস্থা। এবারও ইচ্ছা ছিল সেখানে যাওয়ার। করোনাভাইরাসের কারণে সিদ্ধান্তে পরিবর্তন এসেছে। 'আমার আছে জল' খ্যাত এই নায়িকা বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে ইচ্ছা থাকলেও এবার তেমন কিছুই করবো না। বাসাতেই থাকব। আর খুব বেশি হলে পরিবারের সঙ্গে একদিন বের হতে পারি। আশপাশের কোনো মন্ডপে হয়তো যাব। সাধারণত পূজা এলে আমরা মামা বাড়ি যাই। এবারও সে পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু আমি গেলে সেখানে প্রচুর মানুষ হয়। আমি চাইছি এবার গেদারিং এড়িয়ে চলতে। আনন্দ করতে গিয়ে অসুস্থ হওয়া চলবে না। তাই ঢাকাতেই পূজা পালন করব।'

এদিকে পূজায় নতুন জামার সঙ্গে মন্ডপে মন্ডপে ঘুরে বেড়ানোর মজাই আলাদা। ছেলেবেলায় মন খুলে সেই মজাটাই নিতেন 'সাপলুডু'র নায়িকা। তার ভাষায়, 'তখন বয়স অল্প ছিল। সবকিছুতেই মজা পেতাম। আমরা যেখানে থাকতাম, বাসা থেকে মন্দির পর্যন্ত প্রচুর লাইটিং থাকত। প্রায় প্রতিদিনই মন্ডপে গিয়ে বসে থাকতাম। সঙ্গে দৌড়াদৌড়ি তো চলতই। মন্ডপের পাশেই মেলা বসত। সেখান থেকে বিভিন্ন জিনিস কিনতাম। তবে তারকাখ্যাতি পাওয়ার পর পূজা উৎযাপনের আদল পরিবর্তন হয়েছে। এখন চাইলেও মন্ডপে গিয়ে বসে থাকতে পারি না। বন্ধুদের সঙ্গে যেখানে সেখানে ঘুরে বেড়াতে পারি না। তবে মামাবাড়ি গেলে সবাই ঠাকুর দেখার পাশাপাশি আমাকেও দেখতে আসে। এই বিষয়টি বেশ ভালো লাগে। আমি উপভোগ করি।'

কথায় কথায় মিম জানান অভিনয়ে আসার পেছনে পূজার ভূমিকাও নেহাৎ কম নয়। ছোট্ট করে তিনি বলেন, 'পূজা এলে নাচ, গান ও যাত্রা হতো। এগুলো দেখে প্রথম প্রথম আমারও মনে হতো আমিও যাত্রা করব। কিন্তু সাহস করে বলতে পারতাম না। আমার অভিনয় জীবনে পূজার প্রভাব আছে।'

একটা সময় কার জামা দামি, কার জামা সুন্দর; এসব নিয়েও তর্ক করতেন দেশীয় চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত নায়িকা। এখন সেসব কথা মনে পড়লে নস্টালজিক হয়ে পড়েন তিনি। এবার অবশ্য নিজের জন্য তেমন কোনোকিছুই কেনা হয়নি তার। মিম বলেন, 'বিভিন্ন অনলাইন পেজ থেকে ড্রেস কিংবা শাড়ি পাঠিয়েছে। এ পর্যন্ত ২০টির বেশি শাড়ি-জামাকাপড় গিফট পেয়েছি। তাই নিজের জন্য আর কিছু কেনা হয়নি। তবে বাবা, মা ও আত্মীয়দের গিফট দিয়েছি।'

'সাধারণত পূজা নিয়ে আমার অনেক পরিকল্পনার থাকে। যেমন অষ্টমীতে সাদা-লাল শাড়ি পরি। এদিনের বিশেষত্ব হলো কুমারী পূজা। সবচেয়ে জমকালো উৎসবের দিন। নবমীর দিনেও এই বর্ণিল ব্যাপারটা থাকে। নবমীতে সাধারণত সালোয়ার-কামিজ পরতে ভালো লাগে। আর দশমীতে লাল থ্রি-পিস আমার চাই-চাই। সঙ্গে হালকা মেকআপ। তবে এবার হয়তো তেমন কিছুই করব না। পরিস্থিতিটাই কেমন যেন।'- আক্ষেপের সুরে যোগ করলেন মিম।

২০০৭ সালে লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর একই বছর হুমায়ুন আহমেদের 'আমার আছে জল' দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় মিমের। ২০১৪ সালে 'জোনাকির আলো' ছবিটির জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে মৌসুমীর সঙ্গে তিনি যৌথভাবে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার লাভ করেন। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। দেশীয় চলচ্চিত্র ছাড়াও যৌথ ও কলকাতার স্থানীয় প্রডাকশনের ব্যানারে কাজ করেছেন মিম। উপহার দিয়েছেন বেশ কয়েকটি ব্যবসায় সফল ছবি। গত বছর পূজাতে মুক্তি পেয়েছিল তার 'সাপলুড'ু সিনেমাটি। মধ্যম মানের ব্যবসায় করলেও মিমের অভিনয় প্রশংসিত হয়েছিল। এরইমধ্যে শেষ করেছেন রায়হান রাফির 'পরাণ' সিনেমার কাজ। শুটিং বাকি আছে ইত্তেফাকসহ আরও বেশ কয়েকটি ছবির।

এত কিছুর মাঝেও ছোট পর্দার প্রতি তার ভালোবাসা রয়েছে। বিশেষ দিন এলেই নাটকে দেখা যায় তাকে। কদিন আগেই তাহসান খানের সঙ্গে একটি নাটকে অভিনয় করেছেন। তাছাড়া লকডাউনের মধ্যে নিজের প্রডাকশন হাউস থেকে বের করেছেন স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। মিম বলেন, 'নিজের প্রডাকশন হাউস থেকে আরও কিছু কাজ করার ইচ্ছা আছে। চাইছি হাউসটা বড় করতে। কিছু পরিকল্পনা তো আছেই। বাকিটা সময়ই বলে দেবে।' এছাড়া নিজের ইউটিউব চ্যানেলের জন্য নির্মাণ করেছেন 'মিমস কাস্টডি' নামের একটি সেলিব্রেটি টকশো। এতে মিমকে প্রথবারের মতো উপস্থাপিকা হিসেবে পেয়েছেন দর্শক। এর কয়েকটিপর্ব ইউটিউবে প্রচারিত হওয়ার পরই অনুষ্ঠানটি ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। এতে দারুণ খুশি মিম।

অপরদিকে আন্তর্জাতিক পস্নার্টফম নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে মিম ও সোহমের ছবি 'বস্ন্যাক'। এ নিয়েও বেশ উচ্ছ্বসিত তিনি। মিমের ভাষায়, যদিও এটা পাঁচ বছর আগের ছবি, তবে শুনে ভালো লাগছে। জনপ্রিয় একটি আন্তর্জাতিক পস্ন্যাটফর্মে সিনেমাটি নতুন করে মুক্তি পেয়েছে জেনে খুব আনন্দ পেলাম।' এ আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই এলো পূজার আনন্দ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

Copyright JaiJaiDin ©2020

Design and developed by Orangebd


উপরে