মোশাররফ করিমের মুকুটে নতুন পালক

মোশাররফ করিমের মুকুটে নতুন পালক
'মহানগর' ওয়েব সিরিজে ওসি হারুন চরিত্রে মোশাররফ করিম

অভিনয়ের জাদুকর মোশাররফ করিম। যেকোনো চরিত্রে অভিনয় করে দর্শককে মাতিয়ে রাখার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে তার। মোশাররফের হাতের মুঠোয় যেন অভিনয়ের সব কলাকৌশল। মোশাররফ করিমের অভিনয় মানেই ভিন্ন ধাঁচের অন্যকিছু। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য চরিত্রে সাবলীল অভিনয়ে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন তিনি। দেশের গন্ডি পেরিয়ে তার অভিনয়ের সৌরভ ছড়িয়ে গেছে ওপার বাংলায়। অভিনয়ের কারিশমা দেখিয়ে মাত করেছেন কলকাতার দর্শকদের। সিনেপর্দার পর এবার ঝড় তুলেছেন ওটিটি পস্ন্যাটফর্মে। সম্প্রতি ভারতীয় হইচই ওটিটি পস্ন্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে মোশাররফ করিম অভিনীত ওয়েব সিরিজ 'মহানগর'। এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছেন মোশাররফ করিম।

ভারতের একাধিক গণমাধ্যমে 'মহানগর' রিভিউ লিখতে গিয়ে মোশাররফ করিমের অভিনয়কে এ সিরিজের সম্পদ হিসেবে অভিহিত করেছে। তারা সেখানে লেখেছে, মোশাররফ করিম সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলার নেই। তার অভিনয় এখানে জীবন্ত এবং গোটা সিরিজের প্রধান আকর্ষণ। 'মহানগর' মুক্তির পর মোশাররফ করিম সবচেয়ে বেশি প্রশংসিত হচ্ছেন ভারতীয় ইউটিউবারদের কাছ থেকে।

স্টার গল্প নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে মহানগরের রিভিউ করতে গিয়ে মোশাররফ করিমকে নিয়ে বলা হয়েছে 'যে মানুষটা এই সিরিজের প্রাণ, তিনি আসলেই মোশাররফ করিম। গ্রে ক্যারেক্টারে মোশাররফ করিম কেমন পারফর্ম করেন, সেটা নিয়ে সবারই প্রবল আগ্রহ ছিল। সত্যি বলছি মোশাররফ করিম তার ক্যারেক্টারটা যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছে সেটা দেখে আপনাদের সবারই গা জ্বালা করতে বাধ্য। তার ওপর একটা বিরক্তি চলে আসবে। আর এটাই তো একটা দক্ষ অভিনেতার গুণ। পুরোপুরি ক্যারেক্টারের সঙ্গে মিশে যাওয়া। এ কারণে তার যত প্রশংসা করি ততই কম হয়ে যাবে।' মোশাররফ করিমের মুখে যেকোনো ডায়ালগ ডেলিভারি ব্যাপারটাকে অন্য লেভেলে নিয়ে যায় বলেও মন্তব্য করেছেন কোনো কোনো ইউটিউবার। রূপম নামের একজন ইউটিউবার তার রিভিউতে আগেকার দিনে থিয়েটারে অভিনেতার ওপর রেগে জুতা ছুড়ে মারার ঘটনার রেশ টেনে বলেন, 'একজন অভিনেতা তখনই সার্থক যখন কেউ তার অভিনয় দেখ রাগে বিরক্ত তার ওপর আক্রমণ করে বসতে চায়। মহানগরে মোশাররফ করিমের অভিনয় দেখলে আপনাদের তেমনই মনে হবে। মাথা গরম হয়ে যাবে। হাতের কাছে পেলে মারতে ইচ্ছা করবে।' এছাড়া প্রতিটি ডায়ালগ ডলিভারি, প্রতিটি শট কত ভালো, কেন ভালো, সেসব আলোচনা করেন তিনি।

অসংখ্য দর্শক তার অভিনয়ের প্রশংসা করে স্যালুট জানানোর পাশাপাশি সময়ের কিংবদন্তি অভিনেতা বলে মন্তব্য করেছেন। অনেক দর্শক কলকাতার চলচ্চিত্রে আবীর চট্টোপাধ্যায়, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষদের পাশাপাশি মোশাররফ করিমকেও নিয়মিত দেখতে চেয়েছেন।

শুধু ভারতীয় মিডিয়ার সাধারণ দর্শকই নয়, মোশাররফ করিমের অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন ভারতের শোবিজ তারকারাও। সবাই প্রশংসায় ভাসান মোশাররফ করিমকে। তার পারদর্শিতার কথা উলেস্নখ করে নানা জনে নানান মন্তব্য করেন। মোশারফ করিমের অভিনয়ে মুগ্ধ হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত অভিনেতা প্রসেনজিৎ। তার মুগ্ধতা এতটাই প্রবল হয়েছে যে, মহানগর চলচ্চিত্রের পরিচালক আশফাক নিপুণকে ফোন দিয়েছেন স্বয়ং প্রসেনজিৎ। এ নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে পশ্চিমবঙ্গের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা।

প্রতিবেদনে উলেস্নখ করা হয়, হইচই ফেলে দেওয়া ওয়েব সিরিজ 'মহানগর'। পরিচালক আশফাক নিপুণ এই মুহূর্তে সর্বত্র প্রশংসিত। এর মধ্যেই সাফল্যের মুকুটে যুক্ত হলো নতুন পালক। ওপারে বাংলা ছবির তারকা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় প্রায় ১৫ মিনিট কথা বলেন পরিচালকের সঙ্গে। মহানগর-এর গল্প বলার ধরন ও প্রতিটি অভিনেতার পারফর্মেন্সে মুগ্ধ প্রসেনজিৎ। বিশেষ করে ওসি হারুন চরিত্রে মোশাররফ করিমের অভিনয় নিয়ে দারুণ প্রশংসা করেন। সেই সঙ্গে পরিচালক নিপুণকে চলচ্চিত্র বানানোর প্রতি উদ্বুদ্ধ করেন। প্রসেনজিৎ সাংবাদিকদের বলেছেন, ??মহানগর সিরিজটা দেখে আমি অভিভূত। অসম্ভব ভালো লেগেছে। তাই নিপুণের ফোন নাম্বার জোগাড় করে তাকে ফোন করেছিলাম। এর প্রতিটা দৃশ্য আমাকে স্পর্শ করেছে। প্রত্যেকের অভিনয় এত ভালো, বিশেষ করে মোশাররফ করিম। তার কাজ আগে দেখেছি। দুই বাংলা মিলিয়ে এ রকম একজন অভিনেতা আছেন, এটা ভেবেও আমি গর্বিত।এর আগেও ওপার বাংলায় 'ডিকশনারি' চলচ্চিত্র দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন মোশাররফ করিম। মুক্তির আগে তুমুল সাড়া ফেলে চলচ্চিত্রটি। কলকাতার প্রধান প্রধান রাস্তার গুরুত্বপূর্ণ বিলবোর্ডে শোভা পায় 'ডিকশনারি'। পোস্টারে ছেয়ে যায় অলিগলি। মুক্তির আগে ছবির লুক ও ট্রেইলারের দারুণ প্রশংসা করে দর্শক। মুক্তির আগের দিন কলকাতার মাল্টিপেস্নক্সে অনুষ্ঠিত হয় এ সিনেমার প্রিমিয়ার।

গত ১২ ফেব্রম্নয়ারি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ৪০টিরও বেশি সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছিল 'ডিকশনারি'। এ চলচ্চিত্রে মকরক্রান্তি চট্টোপাধ্যায়ের চরিত্রে অভিনয় করে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছেন বাংলাদেশের এই অভিনেতা। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন ব্রাত্য বসু। মোশাররফ করিম এই সিনেমার মাধ্যমে প্রথম কলকাতার লোকাল চলচ্চিত্রে অভিনয় করলেন। তার অভিনয়ের ভূয়সী প্রশংসা করে ভারতীয় মিডিয়া। মোশাররফ করিমের অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে পরিচালক ব্রাত্য বসু তার পরের সিনেমাতেও মোশাররফ করিমকে রাখতে চান।

কলকাতার প্রযোজনায় কাজ করার আগ থেকেই ওপার বাংলায় দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন মোশাররফ করিম। সেখানকার প্রযোজনায় মোশাররফ করিমের কাজ দেখার অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন অগণিত দর্শক। 'ডিকশনারি'র শুটিংয়ের জন্য ১০ দিন কলকাতায় ছিলেন মোশাররফ কিরম। শুটিং ইউনিটের পাশজুড়ে মোশাররফ করিমকে দেখার জন্য বিশাল ভিড় জমিয়েছিল ভক্তরা। তার মধ্যে ছিলেন কলকাতা রেলওয়ে কর্মকর্তা সায়ন দত্ত। এ সময় স্থানীয় একটি পত্রিকাকে সায়ন দত্ত বলেন, 'আমাদের এখানেও মোশাররফ দাদা তুমুল জনপ্রিয়। এখানে ফেসবুকে দাদার ফ্যান ক্লাব আছে। তিনি এখানে শুটিং করছেন, তাই অনেকেই দেখা করতে চেয়েছিল। আমরা দু'দিনে প্রায় ৩০ জনকে দেখা করাতে পেরেছি। এখানে দাদার এমন ভক্ত আছেন, যারা শুধু মোশাররফ দাদার সঙ্গে দেখা করতে ঢাকায় গিয়েছেন। মোশাররফ দাদা কলকাতা আসায় আমদের মধ্যে পূজার আনন্দ বিরাজ করছে।'

কলকাতার প্রযোজনার কাজ নিয়ে এতদিন ব্যস্ত থাকলেও মোশাররফ বর্তমানে কাজ করছেন ঈদের নাটকে। বরাবরের মতো এবারও ঈদের উলেস্নখ সংখ্যক নাটকে দেখা মিলবে তার। ঈদের আনন্দকে আরও একটু বাড়িয়ে দেবে ছোটপর্দায় মোশাররফ করিমে উপস্থিতি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে