রিচির সঙ্গে কিছুক্ষণ

রিচি সোলায়মান- ছোটপর্দার এক সময়ের আলোচিত অভিনেত্রী, মডেল, নৃত্যশিল্পী ও প্রযোজক। তবে বিয়ের পর স্বামী-সন্তানসহ যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার পর শোবিজের সব শাখা থেকে অনেকটাই সরিয়ে রেখেছেন নিজেকে। মাঝে মধ্যে যখন দেশে আসেন, তখনই কেবল দুয়েকটা নাটকে অভিনয় কিংবা টিভিতে সাক্ষাৎকারে দেখা মেলে। ক্যারিয়ারের দুই দশকেরও বেশি সময় পার করেছেন এই অভিনেত্রী। সম্প্রতি ফের দেশে এলেও এবার কোনো নাটক-টেলিফিল্মে অভিনয় করছেন না। দেখা করছেন না এক সময়ের সহকর্মীদের সঙ্গেও। শত ব্যস্ততার মধ্যেও এক ফাঁকে তারার মেলার সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

প্রকাশ | ১৩ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০

মাসুদুর রহমান
উদ্দেশ্য এবার ভিন্ন... \হ দেশের শোবিজ অঙ্গনে যশখ্যাতি থাকলেও আমেরিকায় স্থায়ী হয়েছেন ছোটপর্দার আলোচিত অভিনেত্রী রিচি সোলায়মান। সেখানে স্বামী-সন্তান নিয়ে ভালোই চলছে তার সংসার। স্বপ্নের দেশে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাস করলেও প্রতিবছর ফিরেন নিজের দেশে। আপনজনদের সঙ্গে কিছু দিন সময় কাটিয়ে পাড়ি জমান সুদূর আমেরিকায়। তার আসা-যাওয়ার বিষয়টিও প্রকাশ পায় খবরের পাতায়। কিছু দিন আগে এই অভিনেত্রী সপরিবারে দেশে ফিরেছেন। অনেকটা হুট করে আসার কারণে খবরটি গণমাধ্যমও জেনেছে পরে। তবে এবারে আসার উপলক্ষটি ভিন্ন। ছোট ভাই ফাহিম সোলায়মানের বিয়ে। ৪ জানুয়ারি রাজধানীর গল্প গার্ডেনে ফাহিম ও সিনথিয়ার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রিচির স্বামী রাসেক মালিকও। বিয়ে নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত ছিলেন রিচি। বিয়ের পর ভাইয়ের শ্বশুরবাড়ি, সেখান থেকে সিলেট, এরপর ঢাকা। এজন্য তাকে মুঠোফোনে পাওয়াটাও অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। অবশেষে ক্ষুদে বার্তায় জানান কথা হবে পরের দিন। রিচি বলেন, 'ছোট ভাইয়ের বিয়ে এবং বিয়ের পরের নানা আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। ছোট ভাইয়ের শ্বশুরবাড়ি শরীয়তপুর এবং সিলেট ঘুরে এখন ঢাকায়। আসলে আমার বাবা বেঁচে নেই। বড় ভাই আর আমাকে এই বিয়ে নিয়ে অনেক ব্যস্ত থাকতে হয়েছে।' রিচির ছোট ভাই ফাহিম কিছু দিনের মধ্যেই একটি এয়ারলাইনসে পাইলট হিসেবে যোগদান করবেন। শরীয়তপুরের মেয়ে রিহাম আলম সিনথিয়ার সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করলেন ফাহিম। তাদের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন রিচি। লাইট, ক্যামেরা থেকে দূরে... প্রতিবার দেশে ফিরেই টিভি চ্যানেলের সাক্ষাৎকারমূলক অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে কিংবা নতুন নাটকে অভিনয় করে দর্শকের সামনে আসেন রিচি। ছোটপর্দায় তার চাহিদা থাকায় দেশে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে নির্মাতারা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। নতুন নাটকের ফ্রেমে ফ্রেমে বন্দি করেন রিচির অভিনয়-সংলাপ। কিন্তু এবার দেশে ফিরে এসব নিয়ে একেবারে নিশ্চুপ রিচি। কয়েকজন শীর্ষ নির্মাতা কাজের প্রস্তাব নিয়ে গেলেও ফিরিয়ে দিয়েছেন এই অভিনেত্রী। স্বভাব-সুলভ ভঙ্গিমায় বললেন, 'এবারের আসাটা মূলত ছোট ভাইয়ের বিয়ের কারণে। সেজন্য অন্যদিকে মনোযোগ দিতে পারিনি। কয়েকজন গুণী নাট্যনির্মাতা নাটকের প্রস্তাব নিয়ে আসলেও ফিরিয়ে দিতে হয়েছে। তবে যাত্রায় নাটক করা না হলেও আবার যখন আসব তখন অবশ্যই অভিনয় করব। আমি যখনই বাংলাদেশে এসেছি প্রতিবারই তো অভিনয় করেছি। এবার না হয় বাদ থাক।' চাই যা চ্যালেঞ্জিং চিত্রনাট্য... সাধারণত ঈদের সময়টাতে দেশে আসেন রিচি সোলায়মান। তাই ঈদের বিশেষ নাটক ও নানা টিভি অনুষ্ঠানে দেখা মেলে লাস্যময়ী এই অভিনেত্রীর। এ বছরে ঈদ আসতে এখনো কয়েক মাস বাকি। লম্বা এই সময়ে ব্যবধানে আবার দেশে ফেরা হবে কি না তাও নিশ্চিত নন তিনি। রিচি বলেন, 'এবার খুব বেশি দিন থাকা হচ্ছে না, চলে যাব। তবে ঈদের আগে আবার আসা হবে কি না এখনই বলতে পারছি না। তখন যদি আসা হয় তখন ভালো কাজের প্রস্তাব পেলে লাইট-ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে আপত্তি থাকবে না। ভালো লাগে দর্শকরা আমাকে স্মরণ করেন, ভালোবাসেন। তাদের ভালোবাসার জন্যই দেশে ফিরলে অভিনয় করা করি, আবারও করব। তবে গতানুগতিক গল্পের সমাহারে বিরক্ত লাগে। এমন চিত্রনাট্যে কাজ করতে চাই যা চ্যালেঞ্জিং, এক্সক্লুসিভ। এ ধরনের কাজ ভালো লাগে। অভিনয় শুধু করলে হয় না পরিতৃপ্তির একটা বিষয় আছে।' আসবে আবার সুদিন... অভিনয় জীবনে অসংখ্য নাটকে নানান চরিত্রে নিজেকে বারবার প্রমাণ করেছেন রিচি। সেসময়ের টিভি পর্দায় অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল তার উপস্থিতি। সময়ের পালা বদলে পাল্টে গেছে দর্শকের রুচি, নাটকের গল্প, চরিত্র এবং আরও অনেক কিছু। নাটকের মান নিয়ে নানা অভিযোগ। এই নিয়ে রিচি বলেন, 'আগের মতো দর্শকের মনে এখনকার নাটকের গল্প ও চরিত্র স্থায়িত্ব পাচ্ছে না। ভালো চিত্রনাট্যের অভাব। বৈচিত্র্যও নেই। গল্প, চরিত্র, শিল্পী এসব যেন একই ছকে ঘুরপাক খাচ্ছে। বাজেট কমসহ নানা সমস্যা। এসব নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। বিষয়গুলো আমরা সবাই জানি। আমাদের বলেও কোনো লাভ হচ্ছে না। নাটকসংশ্লিষ্টদের এ নিয়ে ভাবতে হবে। সবাই চেষ্টা করলে আমার বিশ্বাস নাটকের সুদিন আসবে। নাটকের পরিবেশ ভালো হবে।' প্রযোজনা পরিকল্পনায় রিচি... প্রতিটি মানুষেরই তার নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা থাকে। নিজের সংস্কৃতিকে ভুলতে পারে না। আমেরিকা প্রবাসী হলেও দেশ ও দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত রিচি। তাই সেখানে থেকেও ভাবেন দেশের নাটক-চলচ্চিত্র নিয়ে। এজন্য প্রযোজনার পরিকল্পনা করে রেখেছেন এই তারকা। বলেন, 'চলচ্চিত্র প্রযোজনার পরিকল্পা আমার অনেক আগের। যে চলচ্চিত্র আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে, সম্মান বয়ে আনবে। আমি বিশাল বাজেট কিংবা তারকাবহুল চলচ্চিত্রের পক্ষপাতী নই। এখন ভালো গল্প, ভালো নির্মাণ মাথায় রেখেই কাজ করতে চাই। এজন্য আমি একটু একটু করে প্রস্তুতি নিচ্ছি। চিত্রনাট্যও দেখছি। সময় হলে আমি সবাইকে জানিয়েই কাজ শুরু করব।'