বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

মুগ্ধতা ছড়ানো কোনাল

মাতিয়ার রাফায়েল
  ০৬ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০
যত দিন গড়াচ্ছে ততই যেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত গায়িকা কোনালের জাদুকরী কণ্ঠের মুগ্ধতা বাড়ছে। এই মুগ্ধতা ছড়াতে ছড়াতে কবে এক যুগ পেরিয়েও গেলেন কোনাল। একজন ভার্সেটাইল শিল্পী বলতে যা বোঝায় কোনাল যেন তারই ষোলো আনা জুড়ে বসে আছেন। উচ্চতর পড়াশোনা করছেন মিউজিক থেরাপি নিয়ে। গান গাওয়ার সঙ্গে গান নিয়ে গবেষণাও করছেন এই গায়িকা। বর্তমানে পেস্ন-ব্যাক, ইউটিউব, মৌলিক গান ও স্টেজ নিয়ে বেশ ব্যস্ততার সঙ্গেই দিন পার করছেন কোনাল। তার গায়কি ঢং সব ধরনের শ্রোতাদের মুগ্ধ করছে। সম্প্রতি পিজিত মহাজনের সঙ্গে একটি দ্বৈত গান করেছেন তিনি। গানটির বিষয়ে কোনাল বলেন, 'গাঙচিলের ব্যানারে বড় আয়োজনে একটা এক্সক্লুসিভ গান করেছি। গানটিতে আমার সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন মার্সেল। গানটির কথা লিখেছেন লুৎফর রহমান ও সংগীতায়োজন করেছেন মার্সেল। এরই মধ্যে গানের মিউজিক ভিডিও করা হয়েছে। আশা করি, শ্রোতাদের গানটি অনেক ভালো লাগবে।' দেখতেও বেশ নজরকাড়া কোনাল। তার লাস্যময়ী রূপ দেখে জীবদ্দশায় নায়করাজ রাজ্জাক তো তাকে সিনেমাতে নায়িকাই করতে চেয়েছিলেন। বেঁচে থাকলে হয়তো সেটা তিনি দেখিয়েও ছাড়তেন। গানের জগতে কোনালের বড় গুণ হচ্ছে তার মধ্যে অহমিকা বলতে একদমই নেই। অনেক গানের শিল্পীই আছেন যারা এই অহমিকার কারণে দর্শকপ্রিয়তা পেয়েও একপর্যায়ে ছিটকে পড়েন। তখন তাদের আর খুঁজেই পাওয়া যায় না। এই যেমন অনেকেই আছেন যারা তাদের ক্যারিয়ারের শুরুতেই জাতীয় স্বীকৃতি পেয়েছেন। সেক্ষেত্রে তেমন স্বীকৃতি পেতে কোনালকে দীর্ঘ এক যুগ অপেক্ষা করতে হয়েছে। প্রথমবারের মতো পুরস্কার পেয়েছেন 'বীর' সিনেমার 'তুমি আমার জীবন আমি তোমার জীবন' গানের জন্য। যদিও গানটি নিয়ে যথেষ্ট বিতর্কেরও সৃষ্টি হয়েছিল। অভিযোগে প্রকাশ হয়েছিল ১৯৮৯ সালে মুক্তি পাওয়া 'অবুঝ হৃদয়' ছবির 'তুমি আমার জীবন আমি তোমার জীবন' গানের মূল লাইনগুলো নিয়ে লেখা হয়েছে। এ নিয়েও তখন কোনাল কোনো মন্তব্য করেননি। সেখানে তার মন্তব্য করার কী-ই বা ছিল। তিনি তো গানে কণ্ঠই দিয়েছেন শুধু আর কিছু করেননি। যদি গানের কথায় অন্য কোনো গানের সঙ্গে হুবহু মিল থাকে সে দোষ তো গীতিকারের। সুরও যদি হুবহু একই হয় সে দোষ তো সুরকার বা সংগীতায়োজকের। সেদিক থেকে কোনাল বেশ বুদ্ধিদীপ্তও। একজন শিল্পী হিসেবেও রয়েছে তার সিনিয়রদের প্রতি অটুট শ্রদ্ধাশীলতা। মনোযোগ দিয়ে শোনেন সিনিয়ররা নতুনদের গান নিয়ে কে কি মন্তব্য করছেন। এ প্রসঙ্গে কোনাল বলেন, 'নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের গান নিয়ে সিনিয়রদের মতামতকে আমি পজিটিভলিই গ্রহণ করি। সিনিয়র শিল্পীরা আমার ভুলটা যদি ধরিয়ে না দেন আমি কীভাবে অগ্রসর হব? আমি সব সময়েই আমার সিনিয়রদের মতামত নিয়ে সচেতন থাকি। কারণ, তারা জানেন, কোনটা ঠিক কোনটা ঠিক নয়। সেক্ষেত্রে সিনিয়র শিল্পীরা আমাদের বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে মৌন থাকলে আমারই খারাপ লাগে।' স্টেজে সব সময় মুখর থাকলেও কোনালকে টিভি লাইভে কম দেখা যায়। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কোনাল বলেন, 'টেলিভিশন লাইভ শোগুলোতে একই গান রেকর্ড করে বারবার প্রচার করা হচ্ছে। টিভির জন্য গাওয়া গান তাদের ইউটিউব ও সোশ্যাল মিডিয়ার পেজেও ছাড়ছে। এ জন্য তো শিল্পীর সম্মতি নিতে হবে। কিন্তু সেজন্য সাইনও নেয় না তারা। এই ডিজিটাল রাইট কি শিল্পী দিয়েছে? ডিজিটাল রাইট, রি-ব্রডকাস্টিং রাইট একজন শিল্পী কি পায়?' এই কারণে কোনালকে লাইভে পাওয়া যায় না বলে জানালেন তিনি। গান নিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি এমন প্রশ্নে কোনাল জানান, একটা পরিকল্পনা তো আছেই। আমি এখন মিউজিক থেরাপির ওপর পড়াশোনা করছি। এই থেরাপি দিয়ে শিশুদের সার্বিক বিকাশ ঘটাতে চাই। গান নিয়েই তো আমাদের মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। সেজন্য এ নিয়েই পড়াশুনা করছি। তবে কোনো এনজিও পরিকল্পনা থেকে নয় এটা। কারণ, গানকে ভালোবেসেই কুয়েত থেকে এসেছি আমি। গানের জন্য আমার মধ্যে এক ধরনের প্যাশন কাজ করে। আজীবন গানটা করতে চাই। গানের মধ্যেই থাকতে চাই।' ভার্সেটাইল শিল্পী হলেও নিজে কেমন ধরনের গান পছন্দ করেন- এমন প্রশ্নের জবাবে কোনাল বলেন, 'আমি মূলত মেলোডিয়াস গান করতেই ভালোবাসি। গত দুই ঈদে আটটি নাটকে গান করেছি। গানগুলো বিভিন্নভাবেও জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। এখন তো বেশির ভাগ নাটকে এটি করে থাকে। ভালোই লাগে আমার এসব।' নতুন কোনো পেস্ন-ব্যাকে কণ্ঠ দিলেন কিনা জানতে চাইলে কোনাল বলেন, একটি পেস্ন-ব্যাক নিয়ে আলোচনা চলছে। শিগগিরই একটি সিনেমায় কণ্ঠ দেব।' সে সিনেমার নাম কী এটা জানাতে বলা হলে তিনি বলেন, 'সিনেমার নাম অবশ্য এখনো চূড়ান্ত হয়নি।'
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে