পূর্ণিমা এখনও উজ্জ্বল

দিলারা হানিফ পূর্ণিমা। ঢাকাই চলচ্চিত্রের শীর্ষ তারকাদের একজন। ঢাকার চলচ্চিত্র যখন অন্ধকারে নিমজ্জিত হতে থাকে, নায়িকা সংকটে ভোগে, ঠিক তখনই আগমন ঘটে তার। অন্ধকারেও আশার আলো ছড়িয়ে দেন তিনি। প্রথম ছবি 'মনের মাঝে তুমি'র মাধ্যমে ক্যারিয়ারের শুরুটাও যেন উজ্জ্বল করে তোলেন পূর্ণিমা। এরপর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়ে আরও একধাপ উচ্চতায় ওঠেন তিনি। কিন্তু তারপর? তারপরের গল্পটা একেবারেই আলাদা। নাটক, বিজ্ঞাপন এবং চলচ্চিত্রে পূর্ণিমা যখন অপরিহার্য হয়ে ওঠেন, তখনই আচমকা বিয়ে করে সবকিছু থেকে দূরে সরে যান এ নায়িকা। তবে মনের টানেই সংসার, সন্তান সামলে আবারও ফিরে এসেছেন শখের জগতে। আগের মতো আবারও সব মাধ্যমে সরব হয়ে আলো ছড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি।

প্রকাশ | ১৬ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০

রায়হান রহমান
দিলারা হানিফ পূর্ণিমা
২০১৯ সাল জুড়েই ব্যসন্ত ছিলেন তিনি। মাঝে উপস্থাপনা ও বিজ্ঞাপন নিয়ে ছিলেন ব্যস্ত। নতুন বছরের শুরুতেই গেছেন ওমরাহ পালন করতে সৌদিতে গেছেন পূর্ণিমা। এ নিয়ে অবশ্য কানাঘুষা চলছে বেশ। গুঞ্জণ উঠেছে, হজ শেষে অভিনয় জীবনের আনুষ্ঠানিক ইতি টানতে চলেছেন তিনি। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উড়ে বেড়ানো এ তথ্যটি পুরোটাই গুঞ্জন বলে নিশ্চিত করেছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের এ গস্নামার কন্যা। তিনি বলেন, 'বিষয়টি সত্য নয়। অভিনয়ই আমার পেশা। ধর্ম পালন করাটা আমার দায়িত্ব। তাই অভিনয় ছাড়ার কোন কারণ নেই। অনেক আগে থেকেই ইচ্ছা ছিলো পবিত্রভূমি মক্কা-মদিনায় যাবো, ওমরা হজ পালন করবো। অবশেষে ইচ্ছাটা পুরণ হলো।' জাকির হোসেন রাজুর পরিচালনায় ১৯৯৭ সালে রিয়াজের বিপরীতে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় পূর্ণিমার। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কখনো সুপারহিট আবার কখনো ফ্লপ সিনেমাও উপহার দিয়েছেন তিনি। ক্ষুরধার অভিনয় ও গস্নামারাস লুকের কারণে সবসবই তিনি ছিলেন পরিচালক ও দর্শকের চাহিদার শীর্ষে। তার আচ পাওয়া যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। নিজের অ্যাকাউন্টে ছবি আপলোড করলেই, তা হু হু কওে উড়ে অন্তর্জালে। মাঝের বেশ কিছু সময় চলচ্চিত্রে না থাকলেও ছোট পর্দায় তাকে পাওয়া গেছে নিয়মিত। কখনো উপস্থাপনায়, কখনো নাটকে। তবে গত বছরের শেষ দিকে একাধিক চলচ্চিত্র নিয়ে ব্যস্ত হয়ে উঠেন তিনি। পরিচালক নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুলের পরিচালনায় দুটি ছবিতে কাজ করছেন তিনি। একটি 'জ্যাম' আরেকটি গাঙচিল। থেমে থেমে এখনো চলছে শুটিং। তবে বেশির ভাগই শেষ। হয়তো এ বছরের কোন যুতসই সময় মুক্তি পাবে ছবিগুলো। সব ঠিক ঠাক থাকলে দীর্ঘদিন পর এ বছর আবার রূপালী পর্দায় দেখা মিলতে পারে পূর্ণিমার। এ বিষয় পূর্নিমা বলেন, 'দুটি সিনেমারই শুটিং চলছে। একটি সিনেমার নাম জ্যাম। আরেকটি সিনেমার নাম গাঙচিল। পরিচালক নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুল পরিচালনা করছেন দুটি সিনেমা। বেশিরভাগ কাজই শেষ হয়েছে।' চলচ্চিত্রের কাজ নিয়ে কথা বললেও চরিত্র নিয়ে খোলাসা করেন নি তিনি। জ্যামের চরিত্র নিয়ে পূর্ণিমার ভাষ্য, 'আপাতত জ্যাম এর চরিত্রটি নিয়ে কিছু বলতে চাই না। একটু চমক থাকুক। এটুকু বলবো, দর্শকরা নতুন কিছু পাবেন। সুন্দরভাবে কাজটি শেষ হোক এই প্রত্যাশা করছি। তারপর মুক্তির পর প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দর্শকরা গল্পটুকু জেনে নেবেন।' অন্যদিকে গাংচিল সিনেমায় পূর্নিমাকে দেখা যাবে একজন এনজিওকর্মীর চরিত্রে। এ নিয়েও কথা বলেন তিনি। পূর্ণিমার ভাষ্য মতে, 'গাঙচিল সিনেমায় আমি অভিনয় করছি একজন এনজিওকর্মীর চরিত্রে। যে কী না একসময় উপকূলীয় এলাকায় চলে যায় সাহায্য করার জন্য। সেখানে একটি ঝড় হয়। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সাহায্য করতে যায়। তারপর সেখানে পরিচয় ঘটে একজন সাংবাদিকের সঙ্গে। সাংবাদিক চরিত্রটি করছেন ফেরদৌস।' একটা সময় ইদ বা বিশেষ দিবষ এলেই মুক্তি পেতো পূর্ণিমার নতুন নতুন ছবি। পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে থাকতো পাড়ার ওলি-গলি। তবে দীর্ঘধরেই সেসবের দেখা নেই। মনে পড়ে সেসব দিনগুলি? এমন প্রশ্নের উত্তর দিলেন হাসিমাখা মুখে। বলেন, 'মনে পড়বে না কেন? অবশ্যই মনে পড়ে। একটা সময় দিন-রাত এক করে শুটিং করেছি। সারা বছর টার্গেট থাকতো, ঈদ স্পেশাল নিয়ে। তখনও বছরের যেকোন সময়ই ছবি মুক্তি পেতো। তবে ঈদের সময় সংখ্যাটা ছিল বেশি। প্রতিযোগীতা হতো, ঈদে কার ছবি কত ভালো করতে পারবে? ফলে অন্যরকম এক অনুভুতি কাজ করতো। সেসব এখন অতীত। এখনতো এ দুনিয়া থেকে অনেকটাই সরে এসেছি। এটাই বাস্তবতা। মাঝে মাঝে এসব কথা মনে হলে খারাপ লাগে। তবে বাস্তবতা তো মেনে নিতেই হবে।' পূর্ণিমাকে বিশেষ বিশেষ দিবসে পাওয়া গেছে ছোট পর্দায়ও। এ মাধ্যমটি নিয়েও তার রয়েছে বেশ আগ্রহ। তবে শর্ত আছে। মনের মত গল্প না পেলে প্রস্তাবে সাড়া দিবেন না বলেও জানান তিনি। প্রায় দুই দশকের ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা থেকে পূর্নিমা বলেন, 'শুধু আমি কেন, দর্শকরা ভালো গল্প চান। ভালো গল্প হলে দর্শকরা অবশ্যই প্রেক্ষগৃহ ও টিভির সামনে বসবেন। যেসব সিনেমার গল্প স্ট্রং সেসব সিনেমা দেখতে এখনও দর্শকরা প্রেক্ষাগৃহে ভিড় করেন।