ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চক্ষু বিশেষজ্ঞ নেই ॥ চোখের অপারেশন বন্ধ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চক্ষু বিশেষজ্ঞ নেই ॥ চোখের অপারেশন বন্ধ

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে দীর্ঘ দুই বছরেরও অধিক সময় ধরে চক্ষু বিশেষজ্ঞ সার্জন নেই। ফলে হাসপাতালটিতে বন্ধ রয়েছে চোখের অপারেশন। এতে করে দুভোর্গে পড়েছে সাধারণ ও গরীব রোগীরা। কবে নাগাদ হাসপাতালে চক্ষু বিশেষজ্ঞ সার্জন পদায়ন করা হবে তা বলতে পারছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশ এলাকা থেকে প্রায় এক থেকে দেড় হাজার রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে।

অভিযোগ রয়েছে দিন দিন রোগীর সংখ্যা বাড়লেও কাঙ্খিত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেনা রোগীরা। অনেক সময় দালালদের খপ্পরে পড়ে রোগীরা দুর্ভোগ পোহায়। দালালরা কমিশনের লোভে রোগীদেরকে বিভিন্ন বে-সরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যায়। এতে রোগীদেরকে বিপুল পরিমান অর্থ গুনতে হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানের মাধ্যমে ১/২জন দালালকে সাঁজা দিলেও সাজা খেটে দালালরা আবারো চলে আসে হাসপাতাল চত্বরে।

এদিকে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ সার্জনের অভাবে প্রায় দুই বছরেরও অধিক সময় ধরে হাসপাতালে বন্ধ রয়েছে চোখের অপারেশন। হাসপাতালে একজন চক্ষু ডাক্তার ও দুইজন প্যারামেডিক থাকলেও চক্ষু সার্জনের অভাবে ছানিসহ চোখের কোন অপারেশন করানো যায়না। ফলে রোগীদেরকে বিপুল অর্থের বিনিময়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে চোখের অপারেশন করাতে হচ্ছে। গরীব ও অসহায় রোগীরা পড়ছে ভোগান্তিতে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ সার্জন ডাঃ ইয়ামলি খান প্রায় আড়াই বছর আগে বদলি হয়ে গেলে বন্ধ হয়ে যায় হাসপাতালে চোখের অপারেশন। ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসের শেষ দিকে চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সার্জন মোঃ আলামিন হাসপাতালে যোগদান করলেও মাত্র ১ সপ্তাহ পরে তিনিও অন্যত্র বদলি হয়ে যান।

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চক্ষু বিশেষজ্ঞ না থাকায় রোগীরা বাধ্য হয়ে বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে চোখের চিকিৎসা করান।

সদর উপজেলার সুহিলপুর গ্রামের রজব আলী নামক এক ব্যক্তি জানান, হাসপাতালে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ না থাকায় তিনি তার চাচাকে বে-সরকারি ক্লিনিকে চোখের অপারেশন করিয়েছেন। এতে তার অনেক টাকা খরচ হয়েছে।

রমিজা খাতুন নামে এক বৃদ্ধা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে চোখের ছানি রোগে ভুগছেন। বে-সরকারি ক্লিনিকের চিকিৎসক জানিয়েছেন তাকে চোখের ছানি অপারেশন করতে হবে। কিন্তু টাকার অভাবে তিনি চোখের অপারেশন করতে পারছেন না। তিনি অতি সত্ত্বর হাসপাতালে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেয়ার জন্য দাবি জানান।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ শওকত হোসেন বলেন, হাসপাতালে বর্তমানে একজন চক্ষু ডাক্তার ও দুইজন প্যারামেডিক আছে। তারা চোখের চিকিৎসা করলেও একজন বিশেষজ্ঞ সার্জনের অভাবে চোখের ছানি অপারেশন বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, চক্ষু বিশেষজ্ঞ সার্জন নিয়োগ দিতে আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কয়েকদফা চিঠি দিয়েছি। কিন্তু বিষয়টি এখনো সুরাহা হয়নি।

যাযাদি/ এস

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে