​ গুগলের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

​  গুগলের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

ভারতে গুগলের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অপারেটিং সিস্টেমের দিক থেকে বাজারের শীর্ষে থাকা গুগল বিপুল অর্থ ব্যবহারের মাধ্যমে অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের অবৈধভাবে আঘাত করেছে বলে তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে। দুই বছর ধরে এ তদন্ত চলে আসছিল। খবর রয়টার্স।

কম্পিটিশন কমিশন অব ইন্ডিয়ার (সিসিআই) তদন্ত বিভাগের জুনের প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের অনেক স্মার্টফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অ্যান্ড্রয়েডের পুরনো ভার্সন ব্যবহার করে ফোন বিক্রি করত। কিন্তু গুগল প্রতিষ্ঠানগুলোকে এভাবে হ্যান্ডসেট বিক্রির সুযোগে বাধা দিয়েছে।

এক বিবৃতিতে মার্কিন এ প্রযুক্তি জায়ান্ট জানায়, অ্যান্ড্রয়েড কীভাবে বাজার ব্যবস্থায় আরো প্রতিযোগিতা ও উদ্ভাবনের দ্বার উন্মোচন করেছে সে বিষয়ে তারা সিসিআইয়ের সঙ্গে একত্রে কাজ করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। তবে গুগল এখনো এ তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পায়নি বলে এ বিষয়ে অবগত সূত্রে জানা গেছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে সিসিআই কোনো মন্তব্য দিতে রাজি হয়নি। এ বিষয়ে অবগত আরেকটি সূত্র জানায়, চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে সিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পুনরায় প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করবেন এবং আত্মপক্ষ সমর্থনে গুগলকে আরেকটি সুযোগ দেবেন। সবকিছু যাচাই-বাছাই শেষে গুগলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে। তবে যেকোনো রায়ের বিপরীতে গুগল ভারতের আদালতে আপিল করতে পারবে বলেও জানা গেছে।

ভারত ছাড়াও ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও গুগলের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই অ্যান্ড্রয়েডের কাস্টমাইজড ভার্সন বন্ধের অভিযোগে গুগলকে ১৮ কোটি ডলার জরিমানা করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার অ্যান্টিট্রাস্ট রেগুলেটর।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্ত চলাকালীন গুগল নিজেদের সমর্থনে ২৪ বার উত্তর দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি তারা সামগ্রিক প্রতিযোগিতার বাজারে কোনো বিরূপ প্রভাব ফেলেনি। গুগলের বিরুদ্ধে তদন্ত চলাকালীন মাইক্রোসফট, অ্যামাজন, অ্যাপলসহ, স্মার্টফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান স্যামসাং, শাওমিসহ ৬২টি প্রতিষ্ঠান সিসিআইয়ের প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছিল।

কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের তথ্যানুযায়ী, ভারতে ৫২ কোটি স্মার্টফোন রয়েছে। যার মধ্যে ৯৮ শতাংশই অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম সংবলিত। ২০১৯ সালে যখন সিসিআই তদন্তে শুরুর আদেশ দিয়েছিল, তখন প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল, গুগল তার মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমের বিকল্প সংস্করণ বা আগের অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ বেছে নেয়ার জন্য ডিভাইস নির্মাতাদের ক্ষমতা হ্রাস করার জন্য তার আধিপত্যকে কাজে লাগিয়েছে। সে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের ফোনে জোরপূর্বক গুগল অ্যাপ ইনস্টল করতে বাধ্য করেছিল।

এর আগে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের ‘কাস্টমাইজড’ সংস্করণ ব্লক করা এবং বাজারে নিজেদের একচেটিয়া অবস্থানের অপব্যবহারের কারণে গুগলকে ২০ হাজার ৭০০ কোটি ওন বা প্রায় ১৮ কোটি ডলার জরিমানা করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার তদারককারী সংস্থা। সম্প্রতি কোরিয়া ফেয়ার ট্রেড কমিশন (কেএফটিসি) জানায়, ডিভাইস নির্মাতাদের দেয়া শর্তাবলি গুগলের বাজার আধিপত্য বিস্তারী অবস্থানের হয়রানিতে পরিণত হয়েছে, যা মোবাইল ওএস বাজারের প্রতিযোগিতাকে সীমিত করছে।

রায়ের পর পরই গুগল আপিল করার কথা বলেছে। পাশাপাশি জানিয়েছে, রায়টি অ্যান্ড্রয়েডের অন্য প্রোগ্রামের সঙ্গে সামঞ্জস্যের সুবিধার বিষয়টি এড়িয়ে গেছে এবং গ্রাহকের সুবিধা উপভোগ করার বিষয়টি তুলে ধরেনি। দক্ষিণ কোরিয়ার ‘টেলিকমিউনিকেশন বিজনেস অ্যাক্টে’র নতুন সংশোধনী ‘অ্যান্টি-গুগল’ আইন আখ্যা পেয়েছে। সংশোধনীটি যেদিন কার্যকর হলো, সেদিনই জরিমানার মুখে পড়ল গুগল।

যাযাদি/ এমডি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে