• সোমবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২১, ১১ মাঘ ১৪২৭

আলোচনা ব্যর্থ, দিল্লি অবরোধে রাস্তায় আরো কৃষক

আলোচনা ব্যর্থ, দিল্লি অবরোধে রাস্তায় আরো কৃষক

কৃষকদের কাছে কমিটি গঠন করে কৃষি আইন নিয়ে আলোচনা করার প্রস্তাব দিয়েছিল মোদি সরকার। কিন্তু কৃষক সংগঠনগুলো সেই প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছে। কারণ, তাদের মতে, এটা সময় নষ্ট করার একটা প্রয়াস ছাড়া আর কিছু নয়। কৃষকদের দাবি, সরকারকে নতুন কৃষি আইন আগে বাতিল করতে হবে। আর ন্যূনতম সংগ্রহ মূল্য নিয়ে আইন করতে হবে, যাতে বেসরকারিভাবে যারা কৃষকদের কাছ থেকে ফসল কেনেন, তারা এই আইন মানতে বাধ্য থাকেন। সরকার অবশ্য কোনো দাবি মানার ইঙ্গিত দেয়নি। বৃহস্পতিবার আবার বৈঠক হবে।

কৃষকরা এখনো দিল্লি ঘিরে বসে আছেন। দিল্লিতে ঢোকার আরো একটি রাস্তা বুধবার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এই প্রতিবাদীদের দল ভারি করতে পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তর প্রদেশ থেকে আরো কৃষক এসে পৌঁছেছেন, অনেকে পথে আছেন। দিল্লির সীমানায় ট্রাক, ট্র্যাক্টর, অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে কৃষকরা বিক্ষোভ-অবস্থান করছেন। তাদের সঙ্গে দুই মাসের খাবার রয়েছে। সঙ্গে রয়েছে নিজেদের খেতের খড়। রাতে ট্র্যাক্টরের উপর খড় বিছিয়ে তারা শুয়ে পড়ছেন। কেউ শুচ্ছেন রাস্তাতেই। দিল্লির এই প্রচণ্ড ঠান্ডাতেও।

উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, কেরালা ও রাজস্থান থেকে আসা কৃষকরা এভাবেই প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কৃষকদের এই প্রতিবাদের মুখে পড়ে সরকার আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু তারা এখন কোনোভাবে কৃষকদের আন্দোলন বন্ধ করার ও সময় নষ্টের মনোভাব নিয়েছে বলে কৃষকদের অভিযোগ। তাই তারা সরকারের উপর চাপ বিন্দুমাত্র কম করতে রাজি নন।

এ দিন পশ্চিম উত্তর প্রদেশ থেকে কৃষকদের একটা বড় দল এসে দিল্লি ও নয়ডার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। নয়ডা পুলিশ জানিয়েছে, গাড়ি, বাইক, স্কুটার নিয়ে যারা যাতায়াত করেন, তারা যেন ডিএনডি ফ্লাইওভার ও কালিন্দী কুঞ্জের রাস্তায় না আসেন। কারণ, সেটা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। হরিয়ানা থেকে দিল্লিতে ঢোকার দুইটি রাস্তা আগেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদ থেকে দিল্লি ঢোকার অন্যতম প্রধান রাস্তাও আংশিক বন্ধ। ফলে দিল্লিতে ঢোকার তিনটি রাস্তা পুরো ও একটি আংশিক বন্ধ হয়ে গেছে। আর গোটা দুয়েক রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলে দিল্লিতে ঢোকার অধিকাংশ প্রধান রাস্তাই বন্ধ হয়ে যাবে। দিল্লি অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে।

কৃষকরা শুধু যে দিল্লির দোরগোড়ায় এসে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন এবং তাতে সারা দেশে কৃষকদের কাছে একটা সরকার-বিরোধী বার্তা পৌঁছচ্ছে তাই নয়, হরিয়ানা ও রাজস্থানে এর রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়ে গেছে। মোদি সরকার যদি কৃষকদের দাবি না মানে এবং তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে তা হলে হরিয়ানায় রাজ্য সরকার পড়ে যেতে পারে।

হরিয়ানায় বিজেপি-র জোট সরকার। জোটে আছে দুষ্মন্ত চৌটালার দল। দুষ্মন্ত ও তার দল মূলত কৃষক ও বিশেষ করে জাঠদের সমর্থনে জিতেছে। জাঠেরা পুরোপুরি এই আন্দোলনে নেমে পড়েছে। ইতোমধ্যে হরিয়ানার দুই স্বতন্ত্র বিধায়ক সরকারের উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। চৌটালার উপর চাপ প্রচণ্ড বাড়ছে। তিনি এখনো মুখ খোলেননি। কিন্তু অজয় চৌটালা দাবি করেছেন, ন্যূনতম সংগ্রহ মূল্যকে আইন করে বাধ্যতামূলক করতেই হবে।

রাজস্থানে বিজেপি-র শরিক হনুমান বেনিওয়াল জানিয়ে দিয়েছেন, কৃষকদের দাবি মানতেই হবে। না হলে, কৃষকদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হবে। কৃষকদের প্রতি মোদি সরকার যে ব্যবহার করেছে, তা নিয়ে তিনি ক্ষুব্ধ। সেই ক্ষোভ তিনি গোপনও রাখেননি। ফলে বিজেপি-র শরিক দলগুলোর মধ্যেও ক্ষোভ বাড়ছে।

বিরোধী দলগুলোও কৃষকদের পাশে থেকে সরকারকে আক্রমণ করছে।

কংগ্রেসের লোকসভার নেতা অধীর চৌধুরী বলেছেন,‘মোদি সরকারকে ধিক্কার জানাই। তারা কৃষকদের প্রতি যে সংবেদনহীন ব্যবহার করেছে, তা ভাবা যায় না। কৃষকরা কৃষি আইনের বিরোধিতা করছেন। আমরা সকলে তাদের পাশে আছি।’

বামেদের কৃষক সংগঠনও এই বিক্ষোভে সামিল। তাদের ছাত্র ও যুব সংগঠনও কৃষকদের সঙ্গে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। যোগেন্দ্র যাদবের স্বরাজ পার্টিও বিক্ষোভে সামিল হয়েছে। কংগ্রেসও এই বিক্ষোভকে পুরোপুরি সমর্থন করছে। বিক্ষোভরত কৃষকদের সঙ্গে বিরোধী দলগুলোও একজোট হয়ে আন্দোলনে নেমে পড়ছে। সূত্র : ডয়চে ভেলে

যাযাদি/এমএস/৩:৪২পিএম

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে