চীনে বিদেশি সাংবাদিকদের দমিয়ে রাখতে হয়রানি

চীনে বিদেশি সাংবাদিকদের দমিয়ে রাখতে হয়রানি

বিদেশি সাংবাদিকদের প্রতিবেদন তৈরিতে নানাভাবে বাধা দিয়েছে চীন। আর এ ক্ষেত্রে তারা করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে নেওয়া প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, ভয়ভীতি ও ভিসা–সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতাকে ব্যবহার করেছে। এসব কারণে দেশটিতে ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় দ্রুত অবনতি’ ঘটছে। এমনটাই মনে করছে চীনে কর্মরত বিদেশি সাংবাদিকদের সংগঠন ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাব অব চায়না (এফসিসিসি)।

সোমবার রয়টার্সের খবরে বলা হয়, এফসিসিসি এক বার্ষিক প্রতিবেদনে বলেছে, টানা তিন বছরের মতো গত বছরও কোনো সাংবাদিক তাঁদের কর্মপরিবেশের উন্নতি হয়েছে বলে সংগঠনকে বলেননি। ১৫০ সাংবাদিকের ওপর পরিচালিত জরিপ ও ব্যুরোপ্রধানদের দেওয়া সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে এ প্রতিবেদন।

সংগঠনটির ভাষ্য, বিদেশি সাংবাদিক, তাঁদের চীনা সহকর্মী, এমনকি বিদেশি সাংবাদিকেরা যাঁদের সাক্ষাৎকার নিতে চেয়েছেন, তাঁদের হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখাতে রাষ্ট্রের সব শক্তিকে ব্যবহার করা হয়েছে। করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণের জন্য যে নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল, এ ক্ষেত্রে তা-ও ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে প্রবেশ করে প্রতিবেদন তৈরি করা থেকে সাংবাদিকদের বিরত রাখতে কর্তৃপক্ষ জনস্বাস্থ্যবিষয়ক উদ্বেগকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করায় এবং বাধ্যতামূলকভাবে কোয়ারেন্টিনে রাখার হুমকি দেওয়া হয়। খবর সংগ্রহে বাধা তৈরি করতে সাংবাদিকদের ভিসা–সংক্রান্ত বিধিনিষেধ দিয়ে চাপে রাখা হয়।

এফসিসিসি জানায়, অন্তত ১৩ সাংবাদিককে ৬ মাস বা তারও কম সময়ের জন্য পরিচয়পত্রের বৈধতা দেওয়া হয়। চীনভিত্তিক বিদেশি সাংবাদিকদের সাধারণত এক বছরের ভিসা দেওয়া হয়। এবং প্রতিবছর তা নবায়ন করা হয়। অথচ দেশটি চীনের কূটনৈতিক বিরোধের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ‘দাবার ঘুঁটি’ হিসেবে ব্যবহার করে।

গত বছর চীন বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যমে কাজ করা এক ডজনের বেশি বিদেশি সাংবাদিককে বহিষ্কার করে। ওয়াশিংটন এর আগে দেশটিতে থাকা চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বড় চারটি গণমাধ্যমের সাংবাদিকের সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেয়। এরই জবাবে চীন ওই পদক্ষেপ নেয়। এ ছাড়া একই বছরের সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়া চীন থেকে তাদের দুজন সাংবাদিককে বের হয়ে আসতে সহায়তা করে। তাঁদের চীনের নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রণালয় জেরা করছিল।

গত বছর চীনা কর্তৃপক্ষ চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে কাজ করা অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক চেং লেইকে আটক করে। এরপর হাজে ফ্যান নামের চীনের নাগরিক যিনি ব্লুমবার্গের জন্য কাজ করতেন, তাঁকে আটক করে। জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বিপদজনক এমন আশঙ্কায় দুজনকে আটক করা হয়। তাঁরা এখনো বন্দী আছেন। এফসিসিসি অভিযোগ করে বিশেষ করে চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়াংয়ে কাজ করা সাংবাদিকেরা কর্তৃপক্ষের প্রচণ্ড হয়রানির শিকার হন। জিনজিয়াংয়ে সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস। সেখানে তাঁদের ওপর চীনের ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে প্রবেশ করে প্রতিবেদন তৈরি করা থেকে সাংবাদিকদের বিরত রাখতে কর্তৃপক্ষ জনস্বাস্থ্যবিষয়ক উদ্বেগকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করায় এবং বাধ্যতামূলকভাবে কোয়ারেন্টিনে রাখার হুমকি দেয় তাঁদের। খবর সংগ্রহ না করার ক্ষেত্রে চাপ সৃষ্টি করতে ভিসাসংক্রান্ত বিধিনিষেধও ব্যবহার করে কর্তৃপক্ষ।

২০২০ সালে চীন দেশটি থেকে বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যমে কাজ করা এক ডজনের বেশি বিদেশি সাংবাদিককে বহিষ্কার করে। এ ছাড়া একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে অস্ট্রেলিয়া চীন থেকে তার দুজন বিদেশি সাংবাদিককে বের হয়ে আসতে সহায়তা করে। তাঁদের দুজনকে চীনের নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রণালয় জেরা করছিল।

বিশেষ করে চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়াং থেকে প্রতিবেদন করা সাংবাদিকেরা কর্তৃপক্ষের প্রচণ্ড হয়রানির শিকার হন বলেও অভিযোগ করে এফসিসিসি। জিনজিয়াংয়ে সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস। সেখানে তাঁদের ওপর চীনের ব্যাপকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

যাযাদি/এসএইচ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে