মুমূর্ষু ব্যক্তির পাশে স্বজনদের কালেমা পড়ার নিয়ম

মুমূর্ষু ব্যক্তির পাশে স্বজনদের কালেমা পড়ার নিয়ম

রাসলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আমলের ভালো-মন্দ নির্ভর করে তার শেষ অবস্থার উপর।’ মুমূর্ষু ব্যক্তির শেষ আমল কিংবা অবস্থা যদি ভালো হয় তবে তার শেষ পরিণতিও হবে ভালো। মুমূর্ষু ব্যক্তির কাছে অবস্থানকারী স্বজনরা তাকে কালেমার তালকিন দেবেন। কিন্তু কীভাবে দেবেন কালেমার তালকিন? এ সম্পর্কে ইসলামের দিকনির্দেশনাই বা কী?

ঈমানের ওপর অটল ও অবিচল থাকতে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে মুমূর্ষূ ব্যক্তির পাশে থাকা স্বজনদের করণীয় হলো- ‘তাওহিদের কালেমা’র তালকিন দেয়া। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুমূর্ষূ ব্যক্তির অন্তিমযাত্রার সময়টিতে ‘কালেমা’র তালকিন দেয়ার কথা বলেছেন। হাদিসে পাকে এসেছে-

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের মৃত্যুগামী ব্যক্তিদের ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’র তালকিন দাও।’ (মুসলিম)

তালকিন কী?

তালকিন হচ্ছে- মুমূর্ষু ব্যক্তির পাশে বসে একটু উঁচু শব্দে কালেমা ও সুরা ইয়াসিন পড়তে থাকা। যাতে মুমূর্ষু ব্যক্তি পাশের ব্যক্তির কালেমা ও সুরা ইয়াসিন পড়ার শব্দ শুনতে পারে। এতে মুমূর্ষু ব্যক্তির ঈমানি মৃত্যুর পাশাপাশি মৃত্যুর কষ্টও কম হবে বলে হাদিসে এসেছে। তবে মুমূর্ষু ব্যক্তিকে কালেমা পড়ার তাগিদ দেয়া যাবে না।

কালেমার তালকিনের নিয়ম

তালকিন দেয়ার নিয়ম হলো- তার পাশে বসে মৃদু শব্দে কালেমা- ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ পড়তে থাকা। মুমূর্ষু ব্যক্তির পাশে যখন কালেমা পড়া হবে আর তিনি যখন কালেমার শব্দ শুনতে পাবেন; আশা করা যায়- মুমূর্ষু ব্যক্তি নিজেই কালেমা পড়ে নিতে পারেন।

যে ব্যক্তির জীবনের শেষ কথা হবে তাওহিদের কালেমার স্বীকৃতি; তার জন্য জান্নাতের শুভ সংবাদ দেয়া হয়েছে। হাদিসে এসেছে-

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যার শেষ কথা হবে- ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (আবু দাউদ)

সুরা ইয়াসিনের তালকিন

মুমূর্ষু ব্যক্তির পাশে বসে সুরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করার কথাও বলেছেন বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। হাদিসে এসেছে-

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘মৃত্যুপথযাত্রী যারা তাদের পাশে থেকে তোমরা সুরা ইয়াসিন তেলাওয়াত কর।’ (আবু দাউদ, ইবনে হিব্বান)

মুমূর্ষু ব্যক্তির জন্য দোয়া

সহজ ও ঈমানি মৃত্যুর জন্য মুমূর্ষু ব্যক্তির পাশে থাকা স্বজনরা দোয়া করবেন। তবে মুমূর্ষু ব্যক্তির জন্য সহজ ও ঈমানি মৃত্যু কামনায় দোয়া করার ক্ষেত্রে পাশে থাকা আবশ্যক নয়। যে যেখানে আছে, সেখান থেকেও দোয়া করা যায়।

আবার যারা প্রচণ্ড রোগে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী; তাদের সুস্থতার জন্যও দোয়া করা। কেননা কষ্ট দূর হওয়ার জন্য বিশ্বনবি দোয়া করতেন। তাঁর উম্মতকে দোয়া করতে বলতেন। হাদিসে বর্ণিত দোয়াটি হলো-

اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبِ الْبَاسَ وَاشْفِ وَأَنْتَ الشَّافِي لاَ شِفَاءَ إِلاَّ شِفَاؤُكَ، شِفَاءً لاَ يُغَادِرُ سَقَمًا

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা রাব্বান্নাসি আজহিবিল বাসা ওয়াশফি ওয়া আংতাশ শাফি লা শিফাআ ইল্লা শিফাউকা শিফাআন লা ইয়ুগাদিরু সাক্বামা।’ (বুখারি ও মুসলিম)

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! মানুষের প্রতিপালক! তুমি কষ্ট দূর কর এবং আরোগ্য দান কর। তুমিই (যেহেতু) রোগ নিরাময়কারী। তুমি ছাড়া আর কোনো নিরাময় দানকারি নেই, তুমি এমনভাবে রোগ নিরাময় দান কর, যেন তা রোগকে নির্মূল করে দেয়।’

মনে রাখা জরুরি

দুনিয়া ও পরকালের মোহনা হচ্ছে মৃত্যু। এ দুনিয়ায় বান্দার পরকালের শস্যক্ষেত্র। দুনিয়ার জীবনে যে যেমন কাজ করবে, পরকালে তেমন প্রতিফল পাবে। যার দুনিয়ার জীবনের শেষ কাজ ও কথা ভালো হবে পরকালের তার নাজাত তত সহজ হবে। তাই যারা মৃত্যুর সময় কাছে থাকবেন তাদের উচিত, কালেমা ও সুরা ইয়াসিনের তালকিন দেয়া।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসের ওপর আমল করার তাওফিক দান করুন। মুমূর্ষু ব্যক্তির অন্তিম মুহূর্তে কাছে অবস্থানকারীদের কালেমা ও সুরা ইয়াসিনের তালকিন দেয়ার তাওফিক দান করুন। সবাইকে সহজ ও ঈমানি মৃত্যু নসিব করুন। আমিন।

যাযাদি/ এমডি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে