কোরআনে ফিলিস্তিন ভূমির অনন্য মর্যাদা

কোরআনে ফিলিস্তিন ভূমির অনন্য মর্যাদা

মুসলমানের প্রথম কেবলা মসজিদুল আকসা ও পবিত্র ভূমি ফিলিস্তিনের আলোচনা পবিত্র কোরআনে নানাভাবে উদ্ধৃত হয়েছে। নিম্নে এমন কয়েকটি বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হলো—

১. বরকতময় ভূমি : পবিত্র কোরআনে মসজিদুল আকসা ও তাঁর আশপাশের অঞ্চলকে বরকতময় ভূমি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘পরম পবিত্র ও মহিমাময় তিনি, যিনি নিজ বান্দাকে রাতে ভ্রমণ করিয়েছেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত, যার পরিবেশ আমি করেছিলাম বরকতময়, তাকে আমার নিদর্শন দেখানোর জন্য; তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।’ (সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত : ১)

২. কল্যাণের ভূমি : আল্লাহর নবী সোলায়মান (আ.)-কে আল্লাহ পৃথিবীতে বিশেষ রাজত্ব প্রদান করেছিলেন। তাঁর হাতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল একটি কল্যাণ রাষ্ট্রের। আল্লাহ যেমনটি বলেন, ‘এবং সোলায়মানের বশীভূত করে দিয়েছিলাম উদ্দাম বায়ুকে; তা তার আদেশক্রমে প্রবাহিত হতো সে দেশের দিকে, যেখানে আমি কল্যাণ রেখেছি এবং প্রত্যেক বিষয় সম্পর্কে আমিই সম্যক অবগত।’ (সুরা আম্বিয়াহ, আয়াত : ৮১)

ঐতিহাসিকদের মতে, সোলায়মান (আ.) ফিলিস্তিনের শাসক ছিলেন।

৩. নির্বাচিত ভূমি : আলকুদস তথা ফিলিস্তিন আল্লাহর নির্বাচিত পবিত্র ভূমি। আল্লাহ অসংখ্য নবী-রাসুলের আবাসস্থল হিসেবে এ ভূমিকে নির্বাচিত করেছিলেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে আমার সম্প্রদায়, আল্লাহ তোমাদের জন্য যে পবিত্র ভূমি নির্দিষ্ট করেছেন তাতে তোমরা প্রবেশ করো এবং পিছুপা হয়ো না। হলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ (সুরা মায়িদাহ, আয়াত : ২১)

৪. নবী-রাসুলের বিচরণ ভূমি : আল্লাহ ফিলিস্তিন ও তাঁর নিকটবর্তী অঞ্চলে অসংখ্য নবী ও রাসুল প্রেরণ করেছেন এবং একাধিক নবী এই পবিত্র ভূমিতে আশ্রয় লাভ করেছিলেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘এবং আমি তাঁকে ও লুতকে উদ্ধার করে নিয়ে গেলাম সে দেশে, যেখানে আমি কল্যাণ রেখেছি বিশ্ববাসীর জন্য।’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত : ৭১)

বেশির ভাগ মুফাসসিরের মতে, আয়াতে ফিলিস্তিন ভূমির কথা বলা হয়েছে। অন্যদের মতে, শাম বা সিরিয়ার কথা বলা হয়েছে।

৫. ফিলিস্তিন ভূমির শপথ : পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ প্রাচীন ফিলিস্তিন ভূমির অন্তর্গত ‘সিনাই পর্বত’ ও ফিলিস্তিনের দুটি ফলের শপথ গ্রহণ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘শপথ ত্বিন ও জয়তুনের; শপথ সিনাই পর্বতের।’ (সুরা ত্বিন, আয়াত : ১-৩)

৬. অসহায় মানুষের আশ্রয় ভূমি : যুগ যুগ ধরে ফিলিস্তিন অসহায় ও নিরাশ্রয় মানুষের আশ্রয় ভূমি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। বর্তমানে ইসরায়েলের যেসব অধিবাসী আদি ফিলিস্তিনিদের অবৈধভাবে উচ্ছেদ করছে তারাও ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে ফিলিস্তিনে আশ্রয় নিয়েছিল। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে সম্প্রদায়কে দুর্বল গণ্য করা হতো তাদের আমি আমার কল্যাণপ্রাপ্ত রাজ্যের পূর্ব ও পশ্চিমের উত্তরাধিকারী করি।’ (সুরা আরাফ, আয়াত : ১৩৭) কোরআনের ব্যাখ্যাকাররা বলেন, এ আয়াতে ফিলিস্তিন ও প্রাচীন শামের কথা বলা হয়েছে।

যাযাদি/এসএইচ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে