পুষ্টিগুণে ভরপুর বাদাম

পুষ্টিগুণে ভরপুর বাদাম

বাদাম পুষ্টিগুণে ভরপুর খাবার। বাদাম বিভিন্ন জাতের রয়েছে। যেমন— চিনা বাদাম, কাজু বাদাম, কাঠ বাদাম, পেস্তা বাদাম ইত্যাদি। বাদাম ভেজে নিলে এর ক্যারোটিনের মান কমে গেলেও বাকিসব উপাদান প্রায় সমানই থাকে। এখানে কয়েক জাতের বাদামের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা তুলে ধরা হলো—

চিনা বাদাম : এ জাতের বাদামে আছে প্রোটিন, ফাইবার, ক্যালসিয়াম, আয়রন, সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ভিটামিন-এ, বি, সি। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা চিনা বাদামে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট ৬০ গ্রাম, প্রোটিন ৫৩.৩ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ৫৬৬ কিলোক্যালরি, ক্যালসিয়াম ৯০ মিলিগ্রাম, আয়রন ৩৫০ মিলিগ্রাম, ক্যারোটিন ৩৭ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামিন বি১ ০.৯০ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি২ ০.৩০ মিলিগ্রাম। চিনা বাদামের ভিটামিন ই এবং ক্যারোটিন ত্বক ও চুল সুন্দর রাখে। ত্বকে বলিরেখা বিলম্বিত করে। এতে রয়েছে প্রচুর ক্যালসিয়াম, যা হাড় গঠনে সাহায্য করে।

আখরোট: আখরোট জাতের বাদামে ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাসিয়াম, ফসফরাস, সোডিয়াম, ওমেগা-৩, ফ্যাটি এসিড ছাড়াও আছে ভিটামিন। যা আমাদের দেহের হাড় শক্ত করে এবং মস্তিষ্কে পুষ্টি জোগায়।

পেস্তা বাদাম: এ জাতের বাদামে ফসফরাস, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, কপার, ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন বেশি পরিমাণে থাকে। যা রক্ত শুদ্ধ করার পাশাপাশি লিভার ও কিডনি ভালো রাখে।

কাজু বাদাম: কাজু বাদাম বেশ মুখরোচক। এ জাতের বাদামে আছে আয়রন, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন ‘এ’। ফলে অ্যানিমিয়া ভালো হয় এবং ত্বক উজ্জ্বল করতে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ক্যালসিয়াম শোষণের জন্য আমাদের হাড়ে দৈনিক ৩০০-৭৫০ গ্রাম ম্যাগনেসিয়াম প্রয়োজন। কাজু বাদাম ম্যাগনেসিয়ামে সমৃদ্ধ, যা শক্ত হাড়ের জন্য, মাংসপেশী ও স্নায়ুর সঠিক কাজের জন্য প্রয়োজনীয়। কাজু বাদামে থাকা সেলেনিয়াম এবং ভিটামিন ‘ই’ ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এতে প্রচুর জিংক থাকে বলে ইনফেকশনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে থাকে। কাজুতে থাকা উচ্চমাত্রার কপার এনজাইমের পাশাপাশি হরমোন উত্পাদনে এবং মস্তিষ্কের কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কাজুতে উচ্চমাত্রার ক্যালরি থাকে, তাই প্রতিদিন ৫-১০টি কাজু বাদাম খাওয়াই যথেষ্ট। তবে অ্যালার্জি এবং মাইগ্রেনের সমস্যায় না খাওয়াই ভালো।

কাঠ বাদাম: এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ‘বি’, ‘ই’, ‘ডি’ এবং উপকারী ফ্যাট। কাঠ বাদামে থাকা ভিটামিন ‘বি’ মস্তিষ্কের কোষগুলোকে উন্নত করতে এবং স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। শিশুদের প্রতিদিন কাঠ বাদাম খাওয়ালে তাদের স্মৃতিশক্তি বেশ প্রখর হয়। তবে এক্ষেত্রে পানিতে ভিজিয়ে খোসা ছাড়িয়ে খাওয়ালে বেশি উপকার পাওয়া যায়। চুলপড়া, চুলের রুক্ষতা এবং মাথার ত্বকের সুস্থতায় কাঠ বাদামের তেলের জুড়ি নেই। কাঠ বাদামের ভিটামিন ‘ডি’ ও ম্যাগনেসিয়াম চুলপড়া রোধ করে এবং মাথার ত্বক উন্নত করে। চুলে সরাসরি এই তেল মেখে ঘণ্টাখানেক রেখে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। এতে থাকা ভিটামিন ‘ই’ ত্বকের রুক্ষতা ও শুষ্কতা দূর করতে বেশ কার্যকর। কাঠবাদাম বেটে নিয়ে দুধ বের করা যায় সহজেই। এই দুধ ত্বকের জন্য প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে। এই দুধ সরাসরি ত্বকে ব্যবহার করলে ত্বক মসৃণ, সুন্দর ও উজ্জ্বল হয়। কাঠ বাদাম কয়েক ধরনের ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে। এছাড়া কাঠ বাদামে থাকা প্রচুর আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

যাযাদি/এসএইচ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে