ধুতাঙ্গ সাধক, মহাপরিব্রক, ভদন্ত শরণংকর থের মহোদয়ের সংক্ষিপ্ত জীবনী

ধুতাঙ্গ সাধক, মহাপরিব্রক, ভদন্ত শরণংকর থের মহোদয়ের সংক্ষিপ্ত জীবনী

কালের বিবর্তনে জগতের মধ্যে বহু জ্ঞানী-গুণী, মহামনীষীর আবির্ভাব হয়েছে যাদের পুণ্যপরশে সমগ্র বৌদ্ধজাতি উপকৃত হয়েছে পুণ্যবান সত্ত্বাগণ লোভ-দ্বেষ-মোহাচ্ছন্ন মানবগণের মুক্তির অমৃত লক্ষ্যে পৌঁছার পথনির্দেশ করবার জন্য ধরাতলে আর্বিভূত হয়ে থাকেন আত্মশোধনের মাধ্যমে আত্মমুক্তি এবং ধর্মপ্রচারের মাধ্যমে পরহিত সাধনই তাঁদের মহান উদ্দেশ্য মহান উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের মাধ্যমেই তাঁরা লাভ করে থাকেন পরম শান্তি তাঁরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান একবিংশ শতাব্দীর বঙ্গীয় বৌদ্ধ সমাজে যে কয়েকজন মহামনীষী ধ্যান-সাধনার মাধ্যমে সদ্ধর্ম প্রচারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন এর মধ্যে অন্যতম পরম পূজনীয় ধুতাঙ্গ সাধক ভদন্ত শরণংকর থের মহোদয় এখানে পূজনীয় ধুতাঙ্গ ভন্তের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি দেয়া হলো

ভারত-বাংলা উপমহাদেশের গিরিমেখলা সাগরকুন্তলা কর্ণফুলীর শাখা হালদার উপকন্ঠে দক্ষিণ চট্টলার হাটহাজারী থানার অর্ন্তগত সমৃদ্ধ বৌদ্ধ জনপদ মধ্যম মার্দাশা গ্রাম জন্মতীর্থ এই গ্রামে ১৯৮৪ সালের ১৬ই আগস্ট চারিদিক আলোকিত করে মাতা শ্রীমতি ডেজী বড়ুয়া পিতা দিলীপ বড়ুয়ার ঔরষে পুণ্যলক্ষণ পরিশোভিত এক নবশিশু জন্মগ্রহণ করেন এই পুণ্যবান শিশুর আগমনে মাতা-পিতা মহানন্দে শিশুর নামকরণ করেন রনি বড়য়া জন্মের কিছুদিন পর তিনি কঠিন রোগে আক্রান্ত হন আরোগ্য লাভের মানসে মামার বাড়ীর দাদু তখন মানস করেন নাতির ২০ বছর পূর্ণ হলে চিং¤্র বৌদ্ধ বিহারে ভিক্ষু করাবেন পরিবারের মধ্যে যথাক্রমে দুভাই রনি বড়য়া কনিষ্ঠ ভ্রাতা জুয়েল বড়য়া জন্মসূত্রে তিনি সতীশ মাস্টারের উত্তসূরী অতঃপর, জন্ম-জন্মান্তরের অপরিহার্য উদ্ধমূখী শোভন সংস্কার প্রবল আকর্ষণে উপযুক্ত বয়সে পর্দপণ করার পর ২০০৪ সালের পশ্চিম শিলক জেতবন বিহারে গৃহত্যাগ করেন শ্রীমৎ সুখানন্দ মহাথের ভদন্ত শাসনপ্রিয় মহাথের কাছে দিক্ষা বা শ্রমন হন ২৪শে অক্টোবর শ্রীমৎ অগ্রবংশ মহাথের শ্রীমৎ জ্ঞানবংশ মহাথের মহোদয়ের উপাধ্যায়ত্বের চিংরং বৌদ্ধবিহার সিময়ভিক্ষু শরণংকরেপরিণত হন

ভিক্ষু হওয়ার পর তিনি আগারিক-অনাগারিক ধুতাঙ্গ শীল পালন করার জন্য প্রথম বেছে নিলেনহরিহর সম্মিলিত শ্মশান বিহার সেখানে বৎসর অবস্থান করে তিনি ২০০৮ সালের ১লা জানুয়ারিপশ্চিম আধারমানিক সুখানন্দ বিহারেগমন করেন বিহারভিত্তিক ভিক্ষুজীবনেও তিনি গোপনে কিছু কিছু ধুতাঙ্গশীল পরীক্ষামূলকভাবে পালন করেন অতঃপর পারমীসম্ভার পরিপূরণের লক্ষ্যে বুদ্ধ প্রশংসিত সর্বোৎকৃষ্ট শীল ধুতাঙ্গশীল পালনের জন্য উক্ত বিহারে তিন বৎসর অতিবাহিত হবার পর তিনিপশ্চিম আধারমানিক উত্তর গুজরা শ্মাশানভূমিতেগমন করেন অত্র শ্মাশানভূমিতে প্রায় বৎসরাধিক কাল অবস্থান করে আরও বিভিন্ন উপজেলায় ১৬টি শ্মশানে অবস্থানে ধ্যান করেন সেগুলো যথা :-

/ বৈদ্যপাড়া শ্মাশানভূমি / কাঝর দিঘীর পাড় শ্মশানভূমি / আবুরখীল শ্মশানভূমি / মাদার্শা শ্মশানভূমি /বৃহত্তর হোয়ারাপাড়া ধুমারপাড়া (পশ্চিমকুল দেবপুকুরপাড়) শ্মশানভূমি / ধুমারপাড়া সার্বজনীন শ্মশানভূমি /বৃহত্তর হোয়ারাপাড়া সার্বজনীন শ্মশানভূমি (বুড়ীপুকুর পাড়) /কাঁঠাল ভাঙ্গার পশ্চিমকুল শ্মশানভূমি / ছাদংগরখীল শ্মশানভূমি ১০/ মধ্যম ইদিলপুর শ্মশানভূমি ১১/ পশ্চিম ইদিলপুর শ্মশানভূমি ১২/ দক্ষিণ জয়নগর শ্মশানভূমি ১৩/ পশ্চিম শিলক শ্মশানভূমি ১৪/ মহামূনি পাহাড়তলী শ্মশানভূমি ১৬/ পদুয়া শ্মশানভূমি ১৭/ শাকপুরা শ্মশানভূমি ১৮/ বরখোলাশ্মান ভুমি

এভাবে শ্মশানিক ধুতাঙ্গ শীলময় জীবন অবস্থান করে তিনি আরণ্যিক ধ্যান জীবনের উন্নত অভিজ্ঞতা উপলব্দির জন্য ২০১২ সালের ২০শে জুলাই গ্রাম থেকে কি.মি. দূরে জ্ঞানশরণ মহারণ্যে পর্দাপণ করেন যা দক্ষিণ রাংগুনিয়াস্থ পদুয়া ইউনিয়নের ফলাহারিয়া গ্রামের দক্ষিণ বনাঞ্চলে অবস্থিত নির্জন, জনকোলাহলের বাইরে, নৈসর্গিক সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ, নিবিড় লতাকুঞ্জ দ্বারা পরিশোভিত এক অরণ্যময় প্রদেশ যা বনহস্তীসহ বিবিধ প্রাণীকুলের বিচরণক্ষেত্র ধুতাঙ্গজীবনের আরও এক ধাপ অগ্রগতির জন্য তিনি ২০শে জুলাই ২০১৩ইং, জ্ঞানশরণ মহারণ্য থেকে -১০ কি.মি. উত্তর পশ্চিমে উক্ত থানাধীন বরখোলা গ্রামের প্রায় কি.মি. দূরে মহাশরণ ধুতাঙ্গ পাহাড়ে গমন করেন এবং উক্ত মহারণ্যে পূজনীয় ভান্তে অষ্টম বর্ষাবাস অধিষ্ঠানে ধ্যান করেন সেখানে ১৬ই আগস্ট পূজনীয় ভন্তের ২৯তম জন্মদিন উদযাপন করা হয়

সেখানে সুদীর্ঘ চার মাসকাল যাবত ধুতাঙ্গ ব্রত প্রতিপালন করে পুনরায় জ্ঞানশরণ মহারণ্যে প্রত্যাবর্তন করেন এদিকে মহাসদ্ধর্মগ্রাম আবুরখীল গ্রামবাসী প্রার্থনায় পরম পূজনীয় ভন্তের ৩য় বর্ষপূরণ অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে পদব্রজে রওনা হলেন পরম পূজনীয় ভন্তের উপস্থিতিতে ১৩ই ফেব্রুয়ারি শতাধিক কুলপুত্রকে বুদ্ধশাসনে প্রব্্রজ্যা প্রদান করা হয় এবং ১৪ই ফেব্রুয়ারি একক সদ্ধর্মদেশনা অনুষ্ঠান মহাসমারোহে সম্পাদিত হয় অতপর পুনরায় জ্ঞানশরণ মহারণ্যে ফিরে এসে সুদীর্ঘ মাস যাবত অবভোকাশিক ধুতাঙ্গশীল প্রতিপালন করেন এভাবে ২০১৫ সালের শুরুতে পশ্চিম আধারমানিক গ্রামবাসীর সম্মিলিত প্রার্থনায় পরম পূজনীয় ভন্তের ১ম ধুতাঙ্গ অধিষ্ঠান স্থান জ্ঞানশরণ পশ্চিম আধারমানিক উত্তর গুজরা শ্মশানভূমিতে ১৪ই জানুয়ারি ২০১৫ইং পূজনীয় ভন্তেরথেরো অভিধাপ্রদান করা হয় উক্ত ধর্মানুষ্ঠানে প্রথম তিনজন শিষ্যকে উপসম্পদা প্রদান সহ দুই শতাধিক কুলপুত্রকে গণপ্রব্রজ্যা প্রদান এবং একক সদ্ধর্মদেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানে পরিসমাপ্তি হয় ১৪ই এপ্রিল ২০১৫ইং; ১লা বৈশাখ ১৪২২ বাংলা ২৫৫৮ বুদ্ধাব্দ সকল সেবকবৃন্দের উদ্যোগে জ্ঞানশরণ মহারণ্যে মহাসমারোহে পূজনীয় ভন্তের ৪র্থ থেকে ১৩তম দশজন শিষ্যমন্ডলীকে শুভ উপসম্পদা প্রদান সদ্ধর্মদেশনা অনুষ্ঠান ভাবগম্ভীর পরিবেশে সুসম্পন্ন হয়

২০১৫ সালে প্রথম দিকে মিরসরাই উপজেলার অষ্ঠগ্রামের প্রতিনিধি সকল সেবকমন্ডলী একত্রিত হয়ে পরম পূজনীয় ভন্তেকে নিজামপুর, মধ্যম ওয়ায়েদপুর পাহাড়ী জনপদ অধুষিত ত্রিশরণ মহারণ্যে স্থায়ীরূপে অবস্থানের জন্য তথা ত্রৈমাসিক বর্ষাব্রত যাপনের জন্য ফাং করেন সেই নিরীখে বর্ষার অঝরধারায় প্রাকৃতিক বৈরী উপেক্ষা করে সমগ্র প্রাণীকূলের হিতার্থে পারমী পূরণের মাধ্যমে নিজের করণীয় কর্তব্য সমাপন সদ্ধর্মের প্রচার প্রসারে নিমিত্তে ২০১৫ সালে ১৯শে জুলাই ত্রিশরণ মহারণ্যের উদ্দেশ্যে রওনা হন দীর্ঘ দশদিন বারিধারার স্পর্শে ক্লান্ত শরীরে পদব্রজে মিরসরাই থানাধীন ত্রিশরণ মহারণ্যে পদার্পন করেন ত্রৈমাসিক বর্ষাব্রতের প্রথমার্ধে অষ্টগ্রামের সকল সেবকবৃন্দের প্রার্থনায় দমদমা গ্রামে ১৬ই আগষ্ট ২০১৫ইং পূজনীয় ভন্তের ৩১তম শুভ জন্মদিন যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয় এভাবে পূজনীয় ভন্তে ত্রিশরণ মহারণ্যে শীল-সমাধি-প্রজ্ঞা অনুশীলন ধর্মপ্রচারের মাধ্যমে ১১তম বষাবাস প্রতিপালিত হয় সেখানে দীর্ঘ চার মাস অধিষ্ঠান সমাপ্ত করে প্রত্যাবর্তনের সময় উপস্থিত সেদিন শত সহস্র ভক্তবৃন্দের চেহারায় আবেগ শোকাকুল পরিবেশে বিদায় বেলায় অন্তিমবারের মত মিরসরাই পরগণার অষ্ঠগ্রামবাসীকে পুণ্যদান কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে পুনরায় জ্ঞানশরণ মহারণ্যের উদ্দেশ্যে রওনা হন

২০১৬ সালে বৃহত্তর হোয়ারাপাড়া সকল গ্রামবাসীর প্রার্থনায় ২৫শে ফেব্রুয়ারি মহাসংঘদান মহাপ্রব্রজ্যা অনুষ্ঠান এবং ২৬শে ফেব্রুয়ারি তথাগত মহাকারুণিক গৌতম বুদ্ধের সাম্য-মৈত্রীর মধুর ধর্মবাণী প্রদানের মধ্যে দিয়ে একক সদ্ধর্মদেশনা অনুষ্ঠান সুসম্পন্ন হয় সেদিন বাংলাদেশ বৌদ্ধ ভিক্ষু মহাসভার অনুত্তর প্রাজ্ঞ ভিক্ষুসংঘের উপস্থিতিতে হোয়ারাপাড়া সুদর্শন মহাবিহার সংলগ্ন মাঠে ঐতিহাসিকভাবে অনুষ্ঠিত হয় এরই কিছু সময় পরে ত্রৈমাসিক বর্ষাব্রত আরম্ভ ফলাহারিয়া গ্রামবাসীর সহযোগীতায় সকল সেবকবৃন্দের প্রার্থনায় ১৬ই আগষ্ট ২০১৬ইং পূজনীয় ভন্তের ৩২তম জন্মদিন পরিপূর্ণ ধর্মীয় পরিবেশের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠিত হয় ()

২০১৭ সালে চট্টগ্রাম মহানগরের বুড্ডিষ্ট ডেভেলপমেন্ট ট্রাস্ট এর প্রার্থনায় ১৩ই জানুয়ারি ১ম বারের মতো মহানগরের সদ্ধর্মদেশনা অনুষ্ঠিত হয় উক্ত ঐতিহাসিক দিনে পলোগ্রাউন্ড ময়দানে আনুমানিক অর্ধলক্ষ ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধ জনসমাগমের উপস্থিতিতে স্মরণাতীতকালের অন্যতম এই অনুষ্ঠানটি বাঙ্গালী বৌদ্ধ ইতিহাসে চিরস্মরনীয় হয়ে থাকবে পূজনীয় ধুতাঙ্গ ভন্তে উক্ত ধর্মানুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্দেশ্যে যাত্রার শুরুতে জ্ঞানশরণ মহারণ্য হতে রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, চট্টগ্রাম মহানগর, চন্দগাঁও বড়য়া পাড়া, বোয়ালখালী, পটিয়া, আনোয়ারা, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া উপজেলার ৩০টির অধিক বৌদ্ধ গ্রামে অবস্থান সদ্ধর্ম প্রচারে পদব্রজে ১০ই ফেব্রুয়ারি জ্ঞানশরণ মহারণ্যে প্রত্যাবর্তন করেন উক্ত বছর ত্রৈমাসিক বর্ষাব্রতে ভেনারেবল শরণংকর ইন্টারন্যাশনাল সংঘ কাউন্সিল ভেনারেবল শরণংকর ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন এর প্রার্থনায় এবং সুচিত্রা মেমোরিয়াল ট্রাস্ট (দক্ষিণ ঢাকাখালী, আবুরখীল, রাউজান, চট্টগ্রাম) এর ব্যবস্থাপনায় ১৬ই আগস্ট পূজনীয় ধুতাঙ্গ ভন্তের ৩৩তম জন্মদিন অনুষ্ঠিত হয়

বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি ঢাকা অঞ্চল কর্তৃক প্রার্থনায় বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জামান খান মহোদয়ের সহযোগিতায় পথনির্দেশনা মোতাবেক প্রথম বারের মতো পূজনীয় ভন্তে ঢাকা মহানগরে সদ্ধর্মদেশনা ধর্মপ্রচারের জন্য ২৪ জানুয়ারি ২০১৮ সালে জ্ঞানশরণ মহারণ্য, রাঙ্গুনীয়া হতে পদব্রজে রওনা হন যাত্রাপথে হোয়ারাপাড়া শরণংকর বুদ্ধ বিহার, চট্টগ্রাম নন্দনকানন বুদ্ধ বিহার, বাড়বকু- সার্বজনীন বৌদ্ধ বিহার, ত্রিশরণ মহারণ্য (নিজামপুর, মিরসারাই), ফেনী জেলা শিল্পকলা একাডেমী, নব শালবন বিহার (কোটবাড়ি, কুমিল্লা), সতানন্দি সনাতনী মহাশ্মশান (দাউদকন্দি), নারায়নগঞ্জ হয়ে ঢাকা ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহার, মেরুল বাড্ডা আন্তর্জতিক বৌদ্ধ বিহার, কালাচাঁদপুর বৌদ্ধ এলাকা পরিদর্শন করে শতাধিক ভক্ত, সেবকবৃন্দ সহকারে উত্তরা বাংলাদেশ বৌদ্ধ মহাবিহারে পৌঁছেন ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ এই প্রথম রাঙ্গুনীয়া, চট্টগ্রাম হতে পদব্রজে রাজধানী মহানগরে গমন করেন তাও ১৪ দিন পদব্রজ করে ঢাকা মহানগরে পূজনীয় ভন্তের ধুতাঙ্গ জীবনের সপ্তম বর্ষপূরণ একক সদ্ধর্মদেশনা অনুষ্ঠান ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ রোজ শুক্রবার, অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশের বিভিন্ন বৌদ্ধ জনপদ, বৌদ্ধ সংগঠন হতে হাজার হাজার পূণ্যার্থীসহ এই পূণ্যানুষ্ঠানে ঢাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস হতে রাষ্ট্রদূত মাসিয় এসবি বার্নিকেট থাইল্যান্ডের সম্মানিত রাষ্ট্রদূত পেনপিমন সোওয়ান্নাপোনাস উভয়ে পূজনীয় ভন্তেকে শ্রদ্ধা জানান ধর্মসভায় উপস্থিত ছিলেন এতে পূজনীয় ভন্তে আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গমূলক সারগর্ভ ধর্মদেশনা সকলকে পুণ্যদান জানান সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন পথে ঢাকার মহানগরের বৌদ্ধদের আয়োজনে বিভিন্ন স্থানে ধর্ম প্রচারার্থে কিছুদিন বিশ্রাম ধর্মদান করে পুনরায় রাঙ্গুনীয় উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন সেসময় কালাচাঁদপুর সবুজবাগ এলাকার দায়ক-দায়িকাদের আয়োজনে ধর্মদান করেন উক্ত ধর্মসভায় রাজধানী ঢাকার উচ্চ পর্যায়ে সরকারি কর্মককর্তা, গুণী ব্যক্তিত্ব ধর্মপ্রাণ পুণ্যার্থী উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারের অধ্যক্ষ প্রয়াত মহামান্য ২৮তম মহাসংঘনায়ক ভদন্ত শুদ্ধানন্দ মহাথের উপস্থিতিতে সাতদিন অবস্থান করেন সেসময়ে প্রতিদিন পিন্ডাচরণ ধর্মদেশনা প্রদান কালে হাজারো দর্শনার্থীর ভীড় জমতো ঢাকা হতে রওনা হয়ে মুন্সিগঞ্জ জেলার বিক্রমপুরী বৌদ্ধ বিহারসহ বিভিন্ন বৌদ্ধ পুরাকৃর্তি পরিদর্শন এবং বজ্জ্রযোগীনী রাজবংশীয় সন্তান যিনি বাংলা মহাচীনের মধ্যে সুপ্রসিদ্ধ মহাপন্ডিত অতীশদীপংকর শ্রীজ্ঞান মহোদয়ের বস্তুভিটা পরিদর্শন করে পুনরায় রওনা হন তারপর নারায়নগঞ্জ, কুমিল্লা, ফেনী, ফটিকছড়ি, উত্তর রাউজান, উত্তর রাঙ্গুনিয়া হয়ে ৩০মার্চ জ্ঞানশরণ মহারণ্যে পুনরায় প্রত্যাবর্তণ করেন

মহারণ্যে এসে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ধ্যানরত ১৩০ফুট উচ্চতা সম্পন্ন বুদ্ধ প্রতিবিম্ব নির্মাণ কাজ সূচনা কল্পে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা ব্যায়ে পাইলিং কাজ সুসম্পন্ন হয় ২০১৮ সালের ত্রৈমাসিক প্রারম্ভ, পূজনীয় ভন্তে জ্ঞানশরণ মহারণ্যে ১৪তম বর্ষবাস অধিষ্ঠান করেন রাঙ্গুনিয়া রাজারহাট বেনুবন বৌদ্ধ বিহারের সকল দায়ক-দায়িকা কর্তৃক প্রার্থনা আয়োজনে গর্জনশিরা বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্রে হাজারো পুণ্যার্থীর উপস্থিতিতে পূজনীয় ভন্তের ৩৪তম জন্মদিবস উদযাপন অনুষ্ঠান হয়()

বছরের শেষার্ধে রাউজান গ্রামে বর্ষপূরণ উপলক্ষে ২৬অক্টোবর ২০১৮ইং যাওয়ার পথে হোয়াড়াপাড়া শরণংকর বুদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণে কিছুদিন অবস্থানকালে অনন্ত গুণসম্পন্ন ধাতুজাদি নির্মাণ কাজে মাটি খনন ১ম তলার কাজ সুসম্পন্ন হয় জাদির প্রবেশ পথে সুরম্য একটি তোরণ নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৮ জানুয়ারী ২০১৯ইং রাউজান গ্রামবাসীর প্রার্থনায় আয়োজনে প্রধান অতিথি তাইওয়ান হতে আগত শ্রদ্ধেয় লেসকি দরজি (খবংশুর উড়ংলব) মহোদয়ের উপস্থিতিতে হাজার পুণ্যার্থী অসংখ্য ধর্মপ্রাণ নর-নারীর সমাগমে অষ্ঠম ধুতাঙ্গ বর্ষপূরণ একক সদ্ধর্মদেশনা অনুষ্ঠান পরিসমাপ্তি হয়

বিশ্ব শান্তি, সম্প্রীতি মহামানব গৌতম বুদ্ধের পবিত্র সাধনাস্থান বুদ্ধগয়া পদব্রজে দর্শন করতে ২৮ জানুয়ারী ২০১৯ইং পূজনীয় ভন্তে পুণ্যতীর্থভূমি জ্ঞানশরণ মহারণ্য রাঙ্গুনিয়া হতে শিষ্যমন্ডলী সেবক সহকারে প্রথমে দক্ষিণ চট্টগ্রাম বিভিন্ন বৌদ্ধদের আহবানে সেখানে পদব্রজে গমন করে ধর্মবাণী প্রচার করেন সময় লামা বমুবিলছড়ি বৌদ্ধ জনসাধারণ পূজনীয় ভন্তেকে ভূমি দান করেন রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারের অধ্যক্ষ পূজনীয় উপসংঘরাজ পন্ডিত, প্রয়াত ভদন্ত সত্যাপ্রিয় মহাস্থবিরের সান্নিধ্যে আশীর্বাদ সাক্ষাত করেন

উখিয়া গ্রামবাসীর প্রার্থনায় ২২ ফেব্রুয়ারী হাজারো দর্শনার্থীদের একক ধর্মদান অনুষ্ঠান শেষে পুনরায় রওনা হয়ে চকরিয়া, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম মহানগর, মীরসরাই, ফেনী, কুমিল্লা, ্ঢাকা মহানগরের বিশ্রামান্তে পূজনীয় সংঘনায়ক প্রয়াত ভদন্ত শুদ্ধানন্দ মহাথের আশীর্বাদান্তে পুনরায় রওনা হন বাংলাদেশ যশোর বর্ডার হতে মার্চ ২০১৯ইং ভারতের মাটিতে প্রবেশ করেন কলকাতা বারাসাত ওয়াটথাই জ্ঞানবিরিয়া বুড্ডিস্ট টে¤পলে পূজ্য জ্ঞানালংকার মহাস্থবির কর্তৃক আয়োজিত কলকাতার প্রাজ্ঞ ভিক্ষুসংঘ বৌদ্ধ জনসাধারনের উপস্থিতিতে সংবর্ধনা ধর্মসভা অনুষ্ঠিত হয় এভাবে পশ্চিম বঙ্গ হতে ঝাড়খান্দ প্রবেশ এরপর বিহার প্রদেশের পবিত্র বুদ্ধগয়াতে ২৬দিন পদব্রজে ২৪ মার্চ সন্ধ্যাকালীন সময়ে পৌঁছেন এই ঐতিহাসিক ধর্মযাত্রায় পরম পূজ্য ভন্তে বাংলাদেশের ন্যায় ভারতেও সার্বক্ষণিক পুলিশ নিরাপত্তায় পদব্রজে সম্মানের সহিত গমন করেছেন পদব্রজ সফরে গাণিতিক হিসাব করলে বাংলাদেশের অনুরূপ গণনায় চারটি দেশ অতিক্রম করতে হয়েছে এভাবে পুণ্যস্থান বুদ্ধগয়া মহাপবিত্র বোধিচত্ত্বরে এক পক্ষকাল (বুদ্ধপূজা ১৫দিন ধ্যানানুশীলন, ধর্মচর্চায় অতিবাহিত করেন) ওই সময় বুদ্ধগয়া টে¤পল ম্যানেজমেন্ট সোসাইটি কর্তৃক বিশেষ সম্মাননা অভিনন্দন প্রদান করেন ভারতে গমনকালে বাংলাদেশ সরকারের মহামান্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের সহযোগিতায় স্বদেশে এবং বাংলাদেশ ভারত পেট্টোপোল বর্ডার সীমান্ত হইতে বিহার প্রদেশে বুদ্ধগয়া পযর্ন্ত মাননীয় বাংলাদেশ দূতাবাস, ভারতীয় হাই কমিশনার মহোদয়া রিভা গাঙ্গুলি দাশ এর আন্তরিক সহযোগিতা দানে ভারত পুলিশ কর্তৃক সার্বিক নিরাপত্তা সেবা লাভ করেন তজ্জন্য বাংলাদেশ সরকার ভারত সরকারের সকল উধ্বতন ব্যক্তি মহলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই ভারতের বিহার বুদ্ধগয়া হতে প্রত্যাবর্তন প্রাক্কালে ঝারখান্দ, কলকাতার বিভিন্ন বৌদ্ধ পল্লীতে পদব্রজে ধর্মদানের মাধ্যমে পহেলা মে বেনাপোল বর্ডারে প্রবেশ করেন চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা পথে ঢাকাবাসী বৌদ্ধদের আয়োজনে সবুজবাগ ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে পূজনীয় সংঘনায়ক শুদ্ধানন্দ ভান্তের সভাপতিত্বে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে পূজনীয় ভন্তেকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়

ঢাকা মহানগর হতে চট্টগ্রাম উদ্দেশ্যে পদব্রজে রওনা পথে মাত্র ৯দিনে চট্টগ্রাম মহানগরে পৌঁছেন চট্টগ্রামের হাজার-হাজার বৌদ্ধ জনসাধারণ পূজনীয় ভন্তেকে বরণ ্যালি করে শ্রদ্ধা অভিনন্দন জানান এভাবে বিভিন্নগ্রামে ধর্মদান করে উনারেই সাধনার স্থান পুণ্যভূমি জ্ঞানশরণ মহারণ্যে ২৩মে ২০১৯ইং প্রবেশ করেন এই শান্তির শোভাযাত্রায় সর্বস্তরের মানবের মনে তিনি মৈত্রীর বার্তায় বিশ্বে সম্প্রীতি ¦ভ্রাতৃত্ব বজায় রেখে ধর্ম আচরণের উন্মুক্ত আহবান জানান উক্ত বছর জ্ঞানশরণ মহারণ্যে ৩৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত সকল সেবকবৃন্দের উপস্থিতিতে সফলতার সহিত সুস¤পন্ন হয় রাউজান লাঠিছড়ি গ্রামবাসী শ্রদ্ধাবিনীত প্রার্থনায় ২০ ডিসেম্বর ২০১৯ইং দেশি-বিদেশি পুণ্যার্থীর সমাগমে পূজনীয় ভন্তের ৯ম ধুতাঙ্গ বর্ষপূরণ একক সদ্ধর্মদেশনা অনুষ্ঠান সমাপ্তি ঘটে

এরই মধ্যে ২০২০ সালের শুরুরদিকে প্রাতিষ্ঠানিক নির্মাণাধীনকাজ ৩৬ফুট দণ্ডায়মান বুদ্ধবিম্ব, শায়িত পরিনির্মাণ বুদ্ধবিম্ব, মারবিজয়ী উপগুপ্ত চৈত্য, ১৪ফুট বিশিষ্ঠ দেশনারত বুদ্ধবিম্ব, পিচরণ কুঠির দেশনাহল নবরূপে সজ্জিত উন্মুক্ত করা হয় যার প্রতিফলনে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নতুনভাবে পরিচিতি লাভ করে

শীলবান কল্যাণ ধর্মাচরণকারী পণ্ডিত ব্যক্তিগণ যত অধিককাল জগতে বিচরণ করেন ততই জনগণের হিত-সুখ সাধিত হয়ে থাকে তারা বহুজনকে সুখের মার্গ প্রদর্শন করেন এবং বহুজনের হিতের জন্য নিজেকে আত্মনিয়োগ করেন তৎপরিপ্রেক্ষিতে, দুর্লভ ত্রিরত্ন রত্নসম্ভার প্রকাশে এটাই একমাত্র প্রার্থনা মহান সাধকের সাংঘিক জীবনযাত্রায় সকল কর্মপ্রচেষ্টা সিদ্ধ হোক শাসন সদ্ধর্মের কল্যাণার্থে মহান পুণ্যপুরুষের শতায়ু-নীরোগ দীর্ঘজীবন কামনা করছি

. বাংলাদেশ ভারতে ধর্মপ্রচারের জন্য পরিভ্রমণ প্রাক্কালে তিনি ২০১১ থেকে ২০২০সাল পর্যন্ত প্রায় হাজার কিঃমি পদব্রজ পার করেছেন

. বর্তমানে ১৮ বছর সন্ন্যাসী জীবন (ভিক্ষুত্ব গ্রহণ ২০০৪ থেকে ২০২২ সাল ) অভিজ্ঞতায়- মহারণ্য, শ্মশান, গৃহ ত্যাগী জীবন অতিবাহিত করছেন

. উক্ত প্রতিষ্ঠানে বৌদ্ধ সন্ন্যাসী সংখ্যা ৫০ জন,

. সর্বমোট প্রতিষ্ঠান ১০ টি

. বর্তমান চলমান প্রকল্পগুলোÑ

. স্কুল

. সন্ন্যাসী (ভিক্ষু) ট্রেনিং সেন্টার

. অনাথ আশ্রম

. বৌদ্ধ মন্দির/প্যগোডা

. বৃদ্ধাশ্রম

. বড় আকৃতির বুদ্ধমূর্তি বা ভাষ্কর্য

. ক্লিনিক

. মেডিটেশন সেন্টার/ ধ্যান কেন্দ্র

. প্রাণীর অভয়কেন্দ্র

১০. ত্রিপিটক লাইব্রেরী

১১. আর্ন্তজাতিক বৌদ্ধ জাদুঘর

১২. বনজ ফলজ বনায়ন সহ বাহারী ফুল বাগানের সৌন্দয্যমূলক পার্ক ইত্যাদি আরও বহুকিছু বাস্তবায়নের মধ্যে রয়েছে

যাযাদি/এস

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে