হয় অ্যাটর্নি জেনারেল নয় আ.লীগের পদ

হয় অ্যাটর্নি জেনারেল নয় আ.লীগের পদ

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা এ এম আমিন উদ্দিনের আওয়ামী লীগের দলীয় পদ অথবা অ্যাটর্নি জেনারেল যেকোনো একটি পদ থেকে পদত্যাগ চায় বিএনপি। (সোমবার) গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, গত ২০ ফেব্রুয়ারি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণের মাধ্যমে কুক্ষিগত ও কলুসিতকারী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটিতে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেলকে সদস্য নিয়োগ করায় বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, একটি সাংবিধানিক পদের অধিকারীকে দলীয় পদে নিযুক্ত করা দেশের ইতিহাসে একটি নতুন ঘটনা। নিঃসন্দেহে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তার কার্যালয়কে নগ্ন দলীয় করণের অপচেষ্টা ও একটি অত্যন্ত মন্দ দৃষ্টান্ত। রাজনৈতিক বিবেচনায় কোনো কোনো সাংবিধানিক পদে দলীয় সমর্থক কাউকে নিয়োগ করার দৃষ্টান্ত থাকলেও কোনো সাংবিধানিক পদাধিকারীকে দলীয় পদে নিযুক্ত করার ঘটনা ১৯৭৫’এর বাকশালের কমিটি গঠনের পর আর ঘটেনি। জনগণের অর্থে যাদের বেতন-ভাতা পরিশোধিত হয় তাদের কারও বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দলের শক্তি ও সামর্থ্য বৃদ্ধির জন্য ব্যবহৃত করা শুধু অন্যায় নয়, অনৈতিকও বটে। বিএনপি মনে করে যে, দেশের বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ও রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তার পদের নিরপেক্ষতা যাতে প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অ্যাটর্নি জেনারেলের উচিত হয় দলীয় পদ কিংবা অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ থেকে পদত্যাগ করা।

নজরুল ইসলাম আরও উল্লেখ করেন, যারা অ্যাটর্নি জেনারেলকে নিয়োগ দিয়েছে তাদেরও উচিৎ অনৈতিক এই বিষয়টির গুরুত্ব ও জনমনে এর অনিবার্য বিরূপ প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করে দলের উপ-কমিটি থেকে অবিলম্বে বাদ দেওয়া।

নড়াইলের আদালতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

গতকাল বগুড়া-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য জি এম সিরাজের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে নজরুল ইসলাম বলেন, এর আগেও আওয়ামী লীগ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করছে। আমরা জানি, তাদের স্বভাব বদলায় না। তারপরও বলবো জনগণকে এই ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংর্ঘষে নিহত সাংবাদিক বুরহান উদ্দিনের হত্যার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে নজরুল ইসলাম বলেন, ক্ষমতাসীন দলের আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে এর আগেও বহু খুন হয়েছে। তাদের বহু নেতাকর্মী মারা গেছেন। কিন্তু এবার একজন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। আমরা দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, যেখানে সংবাদ প্রচারে নানা ধরনের বিধি নিষেধ রয়েছে, যেখানে ডিজিটাল নিরাপত্তা সিকিউরিটি আইনের নামে মানুষের বাক স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এরপর যতটুকু সংবাদ প্রচার হচ্ছে তাতে ভয় দেখানোর জন্য সাংবাদিকদের ওপর এই ধরণের আক্রমণ ও হামলা করছে ক্ষমতাসীনরা।

যাযাদি/ এস

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে