​নয়াপল্টনে পুলিশ-ছাত্রদল সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর, আটক ৬

​নয়াপল্টনে পুলিশ-ছাত্রদল সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর, আটক ৬

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে ছাত্রদলের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশসহ বেশ কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। এ সময় পুলিশ ৬ জনকে আটক করে। সংঘর্ষের পরপরই অতিরিক্ত পুলিশ কার্যালয়ের সামনে মোতায়েন করা হয় বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহ শহরের চরকালিবাড়ি এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ মিছিল বের করলে এ ঘটনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘সরকার কর্তৃত্ববাদী শাসন কায়েম করে দেশকে পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। ভিন্ন মত ও পথের রাজনীতি, সরকারবিরোধী আন্দোলন তো বটেই, জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানও সরকার নিষ্ঠুর কায়দায় দমন করছে। এর ধারাবাহিকতায় ময়মনসিংহ ও ঢাকায় ছাত্রদলের কর্মসূচিতে পুলিশের হামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে।’

ছাত্রদল নেতাকর্মীরা জানান, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী প্রতিবাদ মিছিল বের করলে পুলিশ পেছন থেকে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ ঘটনায় আমাদের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়। এ হামলার প্রতিবাদে পরে আবার আমরা মিছিল করেছি।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিছিল পুলিশ বাধা দিলে ছাত্রদলের নেতাকর্মী অপ্রস্তুত অবস্থায় নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এবং আশপাশের গলিতে অবস্থান নেন। পরে তারা আবার লাঠি নিয়ে কার্যালয়ের সামনে মিছিল করে। তখন পুলিশ আর বাধা দেয়নি।

এই ঘটনায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে পুলিশ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ও দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।

পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিকী বলেন, ‘হঠাৎ করে ছাত্রদলের কর্মীরা পল্টন এলাকায় রাস্তায় নেমে ভাঙচুর শুরু করে। তারা অতর্কিতভাবে পুলিশ বক্সে হামলা এবং গাড়িতে ভাঙচুর করে। এছাড়া তারা রাস্তায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে। পরে পুলিশ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ছাত্রদলের কর্মীদের রাস্তা থেকে উঠিয়ে দেয়। পুলিশ রাস্তায় নামার পর তারা নিজেরাই রাস্তা থেকে সরে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ময়মনসিংহ বিভাগীয় ছাত্রদলের আলোচনা সভাকে কেন্দ্র করে ওই সংঘর্ষে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল, ‘সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবীবুর রশিদ হাবীবসহ প্রায় ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়।ছাত্রদল সভাপতি ফজলুর রহমান খোকেনের নেতৃত্বে মিছিলে আরও উপস্থিত ছিলেন, ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল, সহ সভাপতি আশ্রাফুল আলম ফকির লিংকন, হাফিজুর রহমান হাফিজ, মামুন খান, পার্থদেব মন্ডল, সাজিদ হাসান বাবু, যুগ্ম সম্পাদক রাজু আহমেদ, রিয়াদ ইকবাল, ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সভাপতি খন্দকার এনামুল হক এনাম প্রমুখ।

এদিকে একই ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্যসচিব আমানউল্লাহ আমানের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাবি সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আক্তার হোসেন, এস এম হলের নাসিরউদ্দিন শাওন প্রমুখ।

যাযাদি/এসআই

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে