​নাসিক নির্বাচনে ফুরফুরা মেজাজে আইভী ও তৈমূর

​নাসিক নির্বাচনে ফুরফুরা মেজাজে আইভী ও তৈমূর

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামীলীগের প্রার্থী ডা: সেলিনা হায়াত আইভী ও বিএনপি নেতা স্বতস্ত্র প্রার্থী এড. তৈমুর আলম খন্দকার ফুরফুরা মেজাজে গণসংযোগ চালিয়ে আসছিল। তারা উভয়ে বিশাল শো-ডাউনের মধ্য দিয়ে প্রচার-প্রচারনা চালিয়ে আসলেও কেউ কাউকে ছাড় না দিয়ে কথা বলার কারনে নির্বাচনের মাঠ উত্ত্যপ্ত হয়ে উঠে।

তৈমুর আলম খন্দকার শামীম ওসমানের সমর্থীত প্রার্থী এমন আলোচনায় নগরবাসীকে ভাবিয়ে তোলেন এবং এ ধরনের কথায় আইভীর চেয়ে তৈমুর আলম খন্দকার মাঠ পর্যায়ে একটু সুবিধা বেশি নিয়েছেন। কিন্তু শামীম ওসমান এতো নিরব থাকায় সোমবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তার অবস্থানের কথা পরিস্কার করে দেয়ায় নির্বাচনের মাঠ বরফ গলতে থাকে।

শামীম ওসমান নৌকার পক্ষে কাজ করার ঘোষনা দিলেও বাস্তবে কতটুকু কাজ করবেন তা দেখার বিষয়। আর শামীম ওসমান আইভীর পক্ষে মন থেকে কাজ করবেন কিনা তা নিয়েও ভাবছেন নগরবাসী। তবে শামীম ওসমান নৌকার পক্ষে কাজ করার ঘোষনা দেয়ায় আইভী কতটুকু লাভবান হবেন তাও কিন্তু দেখার বিষয় রয়েছেন। শামীম ওসমানের নিজস্ব ভোট ব্যাংক থাকলেও সাধারণ জনগন শামীম ওসমানকে কতটুকু গ্রহন করবেন তা নিয়ে চিন্তাভাবনা রয়েছে। আবার কেউ কেউ বলছেন আইভীর পক্ষে শামীম ওসমান না থাকলে ভাল হতো। আর শেষ সময়ে কেউ শামীম ওসমান এমন ঘোষনা দিলেন তা নিয়ে ভাবার বিষয় রয়েছে। শেষ সময়ে শামীম ওসমানের এমন ঘোষণা আইভী বিষয়টি কিভাবে নিচ্ছেন তাও চিন্তার বিষয়। আর শামীম ওসমান নৌকার পক্ষে কাজ করার ঘোষনা দেয়ায় তৈমুর আলম খন্দকার মনে কি জাগছে। তৈমুর কি শামীম ওসমানকে স্বপ্ন দেখছিলেন নাকি দেখছিলেন না। এমন প্রশ্ন এখন নগরবাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে। নির্বাচনের মাঠ প্রতিনিয়ত উলোট পালট হচ্ছে। আর জয় পরাজয়ের হিসাব নিকাশ পরিবর্তন ঘটছে।

তৈমূর আলম খন্দকার গডফাদারের কোলে বসে আছেন

এদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নৌকার মেয়র প্রার্থী ডা.সেলিনা হায়াত আইভী বলেন, উনি তো গডফাদারের বাইরে নয়। উনি (তৈমূর আলম) আমাকে গডমাদার বলে খুব খারাপ কাজ করেছে। উনাকে আমি এ ধরনের কথা বলিনি। তৈমূর আলম আশ্রয় নিয়েছে আমি সেই কথাটা বলেছি। উনি যদি তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় না দাড়াতো তাহলে চারজন চেয়ারম্যান কিন্তু দাড়াতো না। উনার কর্মকান্ডে ফুটে উঠেছে উনি শামীম ওসমানের ক্যান্ডিটেট। নিজেকে প্রটেক্ট করার জন্য যদি আমাকে এ ধরনের কথা বলে পক্ষান্তরে উনি উনার সন্তানকেই বলছে। আমি কিন্তু উনাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করিনি। আমি চাইলে অনেক কিছু বলতে পারি উনার নামে কিন্তু বলবো না। উনাকে সম্মান করে আমি নির্বাচন চালিয়ে যাবো।

সোমবার (১০ জানুয়ারি) নাসিক ২১নং ওয়ার্ডে প্রচারণার সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি এ মন্তব্য করেন। শামীম ওসমানের সমর্থনের ব্যাপারে আইভী বলেন, আমি বলি নাই শামীম ওসমানের সমর্থন দরকার নাই। আমার দল যেহেতু নমিনেশন দিয়েছে আমাকে দলের লোকেরা আমাকে ভোট দিবে। যদি দুই একজন ব্যতিত হয় সেটা আলাদা ব্যাপার। ভোটারদের কাছে অপরিহার্য নয় কে সমর্থন দিলো। সাধারণ ভোটার আমার মা বোনদের মাথা ব্যাথা নেই কে আমাকে সমর্থন দিলো। দল আমাকে নমিনেশন দিয়েছে এটাই তাদের কাছে বড় ব্যাপার। ভোটাররা বেছে নিয়েছে তারা ভোট কাকে দিবে। তিনি আরও বলেন, আমি ২০১১ তে লড়েছি শামীম ওসমানের সাথে। উনি উনার (শামীম ওসমানের) পরাজয় মেনে নিতে পারে নাই। উনি আমার সাথে বৈরি আচরণ করবে এটাই স্বাভাবিক। ‘গডফাদার’ বলাতে তৈমূর আলমের কেন এতো কষ্ট হচ্ছে সাংবাদিকের এমন একটি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি বুঝতে পারলাম না তৈমূর সাহেবের কি হলো? উনি (তৈমূর আলম) কেমন বিএনপি করে, নারায়ণগঞ্জের বিএনপি এর জবাব নিশ্চই দিবে। তৈমূর আলম খন্দকার কী নৌকায় উঠে পড়েছে এমন একটি প্রশ্নের জবাবে আইভী বলেন, তৈমূর আলম খন্দকার বলেছে আমার দলের নেত্রী খুব ভালো মানুষ। মনে হচ্ছে সে নৌকায় উঠে পার হয়ে যাবে। হাতি চলে যাবে বনে, উনি নৌকায় পার হয়ে আমার সাথে থেকেই যাবে।

পুলিশ পাঠিয়ে থ্রেট করা হচ্ছে : তৈমূর

এদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, এই নির্বাচনটা হচ্ছে আঠারো বছরে পৌরসভার ব্যর্থতা এবং নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি পায়নি পক্ষান্তরে হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি পেয়েছে, পানির জন্য দেড় লক্ষ টাকা নেয়া হচ্ছে। সিটি করপোরেশন থেকে ক্লিয়ারেন্স নিতে হলেও ট্যাক্স দিতে হয় যেটা অন্য কোন সিটি করপোরেশনে নেই। সিটি করপোরেশন কোন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান না। এটা একটা সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। সিটি করপোরেশন জনগনকে সেবা দিবে। কিন্তু সেই সেবার বদলে তাদের ট্যাক্স বেশি গুনতে হচ্ছে। উন্নয়ন প্রজেক্টের কথা বলা হয়। আমরা চাই পরিকল্পিত উন্নয়ন। সেই উন্নয়নের প্রশ্নে আপনি দেখবেন সিটি করপোরেশন কন্ট্রাক্টারদের সিন্ডিকেটে পরিনত হয়েছে। এই নির্বাচনেও প্রতি ওয়ার্ডে কন্ট্রাক্টাররা নির্বাচন পরিচালনা করছে। সেখানে সিটির কর্মচারীদের ব্যবহার করা হচ্ছে। সোমবার (১০ জানুয়ারি) সকালে বন্দরের মদনপুরে গণসংযোগকালে একথা বলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জের জনগন যে কারনে সিটি করপোরেশনের প্রয়োজন অনুভব করেছিল সে অনুযায়ী মানুষের সেবা বৃদ্ধি পায়নি। এখনও জলাবদ্ধতা, যানজট, বায়ু দূষণ, শব্দ দূষণরোধসহ মানুষের সামাজিক উন্নয়ন এখানে করা হয়নি। দৃৃশ্যমান যেটা করা হয়েছে সেটা হচ্ছে খালি জায়গায় পার্ক, মাঠ, কমিউনিটি সেন্টার না করে সেখানে এপার্টমেন্ট করা হয়েছে।

সেই এপার্টমেন্ট বানানো সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব না। এই এপার্টমেন্ট বিতরণের দায়িত্বেও অনেক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। নারায়ণগঞ্জের মানুষ অত্যান্ত অসন্তুষ্ট। এখন নতুন আরেকটা কথা আসছে, আমি তো সকলের সমর্থন কামনা করি। প্রতিটি ভোটারের সমর্থন চাই। প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী যদি মনে করে কেউ আমাকে সমর্থন দেয় তাকে সমর্থন না দেয়। তার সম্পর্কে বিভিন্ন বিশ্লেষণ লাগিয়ে তাদের চরিত্র হনন করা হয়। তিনি বলেন, আমাদের নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। সরকারি দলের লোকজনের বাড়িতেও পলিশ পাঠিয়ে মারধর করা হচ্ছে। ধামগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামালের বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে তার কেয়ারটেকারকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গতকাল রাতে লোকজনের বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে থ্রেট করা হয়েছে তারা যেন আমার পক্ষে কাজ না করে নৌকার পক্ষে কাজ করে। আমার সমর্থকদের হয়রানি করা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রতি নিবেদন আপনারা সচেতন থাকবেন। কোন গুজবে কান দিবেন না।

অনেক নির্যাতন হবে, সে নির্যাতন প্রতিরোধ করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আপনারা যাচাই করে দেখন কোন ঠিকাদারের প্রভাবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন চলে। দেখবেন কোন না কোন নাম বেরিয়ে আসবে। যদি না আসে তাহলে বলবেন তৈমূর আলম খন্দকার মিথ্যা বলেছে। তৈমূর আরও বলেন, আমি কারও কথায় কষ্ট পাইনা। আমার দল ঐক্যবদ্ধ। তার মন্তব্যের কারনে তার দলে যে বিশাল ফাটল এটা জনগনের কাছে পরিষ্কার। শহরে এখন আলেচনা তারাই তো তাদের লোকদের সমর্থন পাচ্ছে না। আর তৈমূর আলম খন্দকার সকলকে নিয়ে মাঠে নেমেছে। আমার জয় হবে এটাই জনগণ বলছে। কারও নামের সাথে কোন বিশেষন দেয়াটা সভ্যতা নয়। এখন এ বিশেষন আইভীর মুখেই শোনা যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিশাম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানককের বক্তব্যের জবাবে তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, আমি জীবনে এমন বহু ঘুঘু দেখেছি, আল্লাহ আমাকে বহু ঘুঘু দেখিয়েছে। বাকিটা আল্লাহ জানে কী হবে। আমি মিছিলের মধ্যে গুলি খেয়ে মরিনি। আল্লাহ আমাকে মারেনি, আমার সাথের লোকটা ইব্রাহিম মারা গেছে। তখন যেহেতু আল্লাহ রহমত করেছে বাকি সময়টাও আল্লাহ রহমত করবে।

তৈমূর বলেন, একটা প্রবাদ আছে মসজিদ ভাঙলে গড়া যায় কিন্তু মন ভাঙলে গড়া যায়না। পুলিশ দিয়ে জোর করো নির্বাচন করলে এটা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একটা মেয়র নির্বাচনের জন্য একটা সরকার যদি নগ্ন ভাবে পুলিশকে ব্যাবহার করে, ভয়ভীতি দেখায়। তাহলে সরকার প্রধানের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

যাযাদি/ এস

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

সকল ফিচার

ক্যাম্পাস
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
হাট্টি মা টিম টিম
কৃষি ও সম্ভাবনা
রঙ বেরঙ

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে