রোববার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

পাকিস্তানের তো এভাবেই জেতার অভ্যাস

যাযাদি ডেস্ক
  ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০:২৮

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রথম দল হিসেবে আজ ২০০তম ম্যাচ খেলতে নেমেছিল পাকিস্তান। রোববার রাতে ম্যাচ জিততে শেষ তিন ওভারে ইংল্যান্ডের দরকার ছিল ৩৩ রান। উইকেট বাকি তিনটি। পাঁচ বলের তাণ্ডবে সেটিকে নাগালে নিয়ে এলেন লিয়াম ডসন। কিন্তু বারবার পট বদলের লড়াইয়ে নাটকীয়তার তখনও ঢের বাকি! শেষের আগের ওভারে জোড়া উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের রঙ বদলে দিলেন হারিস রউফ। চাপে খেই হারাল ইংল্যান্ড। শেষ ওভারে শেষ ব্যাটসম্যান রিস টপলিকে রান আউট করে অবিশ্বাস্য এক জয়ের আনন্দে মেতে উঠল পাকিস্তান। অবশ্য পাকিস্তানের তো এভাবেই জেতার অভ্যাস। 

করাচিতে রোববার চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে ৩ রানে জিতে সাত ম্যাচের সিরিজে সমতা টেনেছে পাকিস্তান। চার ম্যাচ শেষে সিরিজ এখন ২-২।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে মোহাম্মদ রিজওয়ানের ৮৮ রানের সুবাদে ১৬৬ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি গড়ে পাকিস্তান। ৩৬ রান করেন অধিনায়ক বাবর আজম।

রান তাড়ায় ইনিংসের প্রথম দুই ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যায় ইংল্যান্ড। প্রথম তিন ব্যাটসম্যানকে হারানোর পর বেন ডাকেট, হ্যারি ব্রুক ও মইন আলির ব্যাটে লড়াইয়ে ফেরে তারা এবং তারপর ডসনের ওই ঝড়।

শেষ দুই ওভারে ইংলিশদের প্রয়োজন ছিল ৯ রান। তখনই নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ডসন ও অলি স্টোনকে ফিরিয়ে মোড় ঘুরিয়ে দেন রউফ। ১৬৩ রানে থমকে যায় ইংল্যান্ড। ম্যাচ সেরা হন রউফ।

শেষের মতো ম্যাচের শুরুটা দারুণ হয় পাকিস্তানের। রিজওয়ান কিছুটা মারমুখী আর বাবর দেখেশুনে খেলতে থাকেন। তাতে খুব দ্রুত রান না বাড়লেও উইকেট ধরে রেখে এগোতে থাকেন তারা।

প্রথম চার ওভারে ৫টি বাউন্ডারি মারে পাকিস্তান, সবগুলোই রিজওয়ান। পঞ্চম ওভারে গিয়ে প্রথম চার মারেন বাবব। অষ্টম ওভারে ডেভিড উইলিকে টানা দুটি চার মেরে হাত খোলার আভাস দিলেও শেষ পর্যন্ত পারেননি তিনি।

দ্বাদশ ওভারে ডসনকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ডিপ মিডউইকেটে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বাবর। ২৮ বলে ৩টি চারে ৩৬ রান করেন তিনি। শেষ হয় ৯৭ রানের উদ্বোধনী জুটি।

এরপর রানের গতি ঝিমিয়ে পড়ে, পরের তিন ওভারে আসে ২২ রান। বাবরের আউটের আগে-পরে মিলিয়ে ২৭ বল পর দেখা মেলে বাউন্ডারির।

শক্ত ভিত পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি শান মাসুদ। শেষের আগের ওভারে উইলির ইনসুইং ইয়র্কারে এলবিডব্লিউ হওয়ার আগে ১৯ বলে এক চারে ২১ রান করেন তিনি।

শেষ ওভারে থামেন রিজওয়ান। প্রথম বলে খুশদিলকে ফেরানোর পরের বলেই রিজওয়ানকে আউট করেন টপলি। ৬৭ বলে ৯ চার ও এক ছক্কায় ৮৮ রান করেন রিজওয়ান।

এরপর তিন বলের ক্যামিওতে ২ ছক্কায় ১৩ রান করে পুঁজিটা আরেকটু লড়াকু করেন সিরিজে প্রথম খেলতে নামা আসিফ আলি।

আগের ম্যাচেই প্রথমে ব্যাট করে ২২১ রানের পুঁজি গড়া ইংল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মইন টসের সময় আত্মবিশ্বাসী সুরে বলেন, ২০০ রান তাড়ার করার সামর্থ্য তাদের আছে।

তবে জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে মোহাম্মদ নাওয়াজের করা প্রথম ওভারেই ফিল সল্টকে হারায় তারা। পরের ওভারে অ্যালেক্স হেলস ও উইল জ্যাকসকে ফেরান মোহাম্মদ হাসনাইন।

১৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে টালমাটাল দলকে পথে ফেরান ডাকেট ও ব্রুক। থমকে থাকা রানের গতিতে দম দিতে মোহাম্মদ ওয়াসিমের করা পঞ্চম ওভারের শেষ তিন বলে বাউন্ডারি হাঁকান ডাকেট।

জুটি ভাঙতে অষ্টম ওভারে নাওয়াজকে ফেরান অধিনায়ক। দ্বিতীয় বলেই ডাকেটকে এলবিডব্লিউ করে দেন বাঁহাতি স্পিনার। ২৪ বলে ৫টি চারে ৩৩ রান করেন ডাকেট।

এরপর মইনের সঙ্গে ৪৯ রানের আরেকটি জুটি গড়েন ব্রুক।

দশম ওভারে নাওয়াজকে চার বলের মধ্যে ব্রুক একটি ছক্কা ও মইন একটি করে চার ও ছক্কা মারেন।

১৩ ওভার শেষে ইংল্যান্ডের রান ছিল ৪ উইকেটে ১০৫। ম্যাচের লাগাম তখন তাদের হাতে। তবে এরপরই নতুন মোড়; পরপর দুই ওভারে ফিরে যান মইন ও ব্রুক। নাওয়াজের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন মইন, ২০ বলে ২৯ রান করে। আর ওয়াসিমের বলে ক্যাচ দেন ৩৪ রান করা ব্রুক।

এক ওভার পর উইলিও ফিরে গেলে ম্যাচ চলে যায় পাকিস্তানের হাতে। তখনই দৃশ্যপটে ওই ডসন অধ্যায়। শেষটা যদিও সুখকর হয়নি ১৭ বলে এক ছক্কা ও পাঁচটি চারে ৩৪ রান করা ডসনের।

প্রথম দল হিসেবে ২০০তম টি-টোয়েন্টি খেলার মাইলফলকটা দারুণ জয়ে রাঙাল পাকিস্তান। এই দুইশত ম্যাচের ১২২টি জিতেছে তারা, হার ৭০টি। বাকি আটের ৫টি পরিত্যক্ত ও ৩টি টাই।

আগামী বুধবার পঞ্চম ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল, লাহোরে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১৬৬/৪ (রিজওয়ান ৮৮, বাবর ৩৬, মাসুদ ২১, খুশদিল ২, আসিফ ১৩*, নাওয়াজ ১*; ডসন ৪-০-৩২-১, টপলি ৪-০-৩৭-২, স্টোন ৪-০-৩৬-০, রশিদ ৪-০-২৭-০, উইলি ৪-০-৩১-১)

ইংল্যান্ড: ১৯.২ ওভারে ১৬৩ (সল্ট ৮, হেলস ৫, জ্যাকস ০, ডাকেট ৩৩, ব্রুক ৩৪, মইন ২৯, উইলি ১১, ডসন ৩৪, রশিদ ৩*, স্টোন ০, টপলি ০; নাওয়াজ ৪-০-৩৫-৩, হাসনাইন ৪-০-৪০-২, ওয়াসিম ৩.২-০-৩০-১, রউফ ৪-০-৩২-৩, ইফতিখার ৪-০-২৩-০)

ফল: পাকিস্তান ৩ রানে জয়ী

সিরিজ: ৪ ম্যাচ শেষে ৭ ম্যাচের সিরিজে ২-২ সমতা

ম্যান অব দা ম্যাচ: হারিস রউফ

যাযাদি/ এস

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে