মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

সুযোগ পাবেন ৩০ লাখ

হংকংবাসীকে নাগরিকত্বের প্রস্তাব যুক্তরাজ্যের

নতুন আইনে হংকংয়ের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন, অভিযোগ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ব্রিটিশ সরকারের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া চীনের
হংকংবাসীকে নাগরিকত্বের প্রস্তাব যুক্তরাজ্যের
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন

চীনের পার্লামেন্টে বিতর্কিত 'হংকং নিরাপত্তা আইন' পাসের পর অঞ্চলটির ৩০ লাখ বাসিন্দাকে নাগরিকত্বের প্রস্তাব দিয়েছে তাদের একসময়কার শাসক দেশ যুক্তরাজ্য। চীনের স্বায়ত্তশাসিত এই অঞ্চলটির বাসিন্দাদের যুক্তরাজ্যে 'বসবাস করার ও পরিশেষে নাগরিকত্বের আবেদন করার' প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন খোদ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। নতুন নিরাপত্তা আইনে হংকংয়ের 'স্বাধীনতা' ক্ষুণ্ন হয়েছে অভিযোগ করে এতে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের যুক্তরাজ্যের সাবেক উপনিবেশটি (হংকং) ছাড়ার সুযোগ দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এদিকে, ব্রিটিশ সরকারের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে চীন। সংবাদসূত্র : বিবিসি, সিএনএন, রয়টার্স

মঙ্গলবার চীনের পার্লামেন্টে হংকং নিরাপত্তা আইন পাস হয়। পরবর্তী সময়ে এতে স্বাক্ষর করেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এই আইনের কারণে স্বায়ত্তশাসিত হংকংয়ের ওপর চীনের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং ওই নগরীর স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চীনের পাস করা নতুন জাতীয় নিরাপত্তা আইনের প্রতিবাদে প্রবল বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে হংকং। এই অবস্থায় হংকংয়ের নাগরিকদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হংকং ইসু্যতে বেশ চাপে পড়ল চীন।

বুধবার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ 'হাউস অব কমন্সে' ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন, '(চীনের) নতুন ?নিরাপত্তা আইনের কারণে হংকংবাসীর স্বায়ত্তশাসন লঙ্ঘন হচ্ছে এবং ভুক্তভোগীরা চাইলে আগের এই ব্রিটিশ উপনিবেশ ছেড়ে যুক্তরাজ্যে চলে আসতে পারেন।' তিনি আরও বলেন, 'সাড়ে তিন লাখ ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী এবং আরও ২৬ লাখ যোগ্য আবেদনকারীকে আগামী পাঁচ বছর যুক্তরাজ্যে গিয়ে বসবাসের সুযোগ দেয়া হবে। তার এক বছর পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ব্রিটিশ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন জানাতে পারবেন।'

এর আগে হংকংয়ের যেসব বাসিন্দার কাছে ব্রিটিশ ন্যাশনাল ওভারসিজ পাসপোর্ট রয়েছে, আশির দশকে তাদের বিশেষ কিছু সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমানে তা কাটছাঁট করা হয়েছে। তারপরও এই পাসপোর্ট যাদের রয়েছে, তারা এখনো ভিসা ছাড়াই ছয় মাসের জন্য যুক্তরাজ্যে কাটাতে পারেন।

বরিস জনসন ঘোষণা দিয়েছেন, নতুন নিয়মে অনাবাসী ব্রিটিশ নাগরিক এবং তাদের ওপরে নির্ভরশীলরা পাঁচ বছরের জন্য যুক্তরাজ্যে গিয়ে বসবাসের পাশাপাশি কর্মসংস্থান এবং পড়াশোনার সুযোগ পাবেন। পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর তারা স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, হংকংয়ের স্থানীয় প্রশাসন মঙ্গলবার যে নতুন আইন পাস করার কথা জানিয়েছে, তা ১৯৮৫ সালে যুক্তরাজ্য এবং চীনের মধ্যে হওয়া যৌথ ঘোষণার পরিপন্থী। নতুন এই আইন স্পষ্টতই দুই দেশের আইনি চুক্তির খেলাপ করেছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বরিস জনসন।

ওই চুক্তি অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালে হংকংয়ের হস্তান্তর হওয়ার পর ৫০ বছর পর্যন্ত নির্দিষ্ট কয়েকটি ক্ষেত্রে হংকং এবং সেখানকার বাসিন্দাদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারবে না চীন। বরিস জনসন বলেন, যৌথ ঘোষণার মাধ্যমে হংকংকে দেওয়া স্বায়ত্তশাসন এবং স্বাধীনতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে এই নতুন আইন।

এদিকে, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব স্যার সিমন ম্যাকডোনাল্ড চীনের রাষ্ট্রদূত লিউ শিয়োমিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে হংকংয়ের নিরাপত্তা আইন নিয়ে ব্রিটিশ সরকার 'গভীরভাবে উদ্বিগ্ন' বলে জানিয়েছেন।

চীনে পাস হওয়া বিতর্কিত এই আইনে কর্তৃপক্ষকে অবমাননা, সন্ত্রাসবাদ ও জাতীয় নিরাপত্তা বিপন্ন ও বিচ্ছিন্নতাবাদে বিদেশিদের সঙ্গে সম্পর্ক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে, কেউ এ ধরনের অপরাধে যুক্ত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ভোগ করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে।

তবে চীন দাবি করেছে, আইনটি হংকংয়ের স্বায়ত্তশাসনের জন্য হুমকি নয়। পশ্চিমারা বলছে, হংকং এতদিন যে বিশেষ মর্যাদা পেয়ে আসছে, নতুন নিরাপত্তা আইনের কারণে তা আর পাবে না। ফলে সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে অঞ্চলটিতে।

১৫০ বছর ঔপনিবেশিক শাসনে থাকার পর লিজ চুক্তির মেয়াদ শেষে ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই হংকংকে চীনের কাছে ফেরত দেয় যুক্তরাজ্য। তখন থেকে অঞ্চলটি 'এক দেশ, দুই নীতি' পদ্ধতির আওতায় স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা ভোগ করে আসছে। বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হংকংকে ২০৪৭ সাল পর্যন্ত স্বায়ত্তশাসনের নিশ্চয়তা দিয়েছে চীন। এই সময়ে প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি বাদে অন্য সব বিষয়ে স্বায়ত্তশাসন ভোগ করতে পারবে অঞ্চলটি। তবে গত বছর অঞ্চলটিতে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে সেখানে বিতর্কিত হংকং নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয় বেইজিং। এখন এর দোহাই দিয়ে আধা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটির ওপর বাড়তি ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ পাবে চীন।

হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থিরা এই আইনকে হংকংয়ের বিশেষ স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতার জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ নিয়ে কোনো কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন অঞ্চলটির চীনা মনোনীত প্রধান নির্বাহী ক্যারি লাম।

এর আগে গত মাসে চীনা কর্তৃপক্ষ হংকংয়ে নতুন নিরাপত্তা আইন জারির ঘোষণা দিয়ে প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠেন অঞ্চলটির গণতন্ত্রপন্থিরা। ওই ঘোষণার প্রতিবাদে রাজপথে নেমে আসেন তারা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

Copyright JaiJaiDin ©2020

Design and developed by Orangebd


উপরে