logo
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ ৭ আশ্বিন ১৪২৭

  যাযাদি ডেস্ক   ১২ আগস্ট ২০২০, ০০:০০  

টালমাটাল এক সপ্তাহ

বৈরুতে বিস্ফোরণ থেকে সরকারের পতন

বৈরুতে বিস্ফোরণ থেকে সরকারের পতন
বৈরুতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ভয়াবহ এক বিস্ফোরণের জেরে পদত্যাগ করেছে দেশটির সরকার। গত সপ্তাহের এসব ঘটনা যেন বিশ্ববাসীর চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, সীমাহীন দুর্নীতি আর আমলাতান্ত্রিক জটিলতার ফল কতটা ভয়াবহ হতে পারে। বৈরুত বন্দরের ওই বিস্ফোরণ শুধু বিপজ্জনক রাসায়নিকের কারণেই ঘটেনি, এর পেছনে ছিল লেবানিজ সরকারের দীর্ঘদিনের অদক্ষতা আর ব্যক্তিস্বার্থের ঝনঝনানি। এবার একনজরে দেখে নেওয়া যাক, লেবাননের টালমাটাল এক সপ্তাহের ঘটনাসমূহ। ৪ আগস্ট : ঘটনার শুরু বৈরুত বন্দরের একটি গোডাউনে ছোটখাটো অগ্নিকান্ড দিয়ে। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রবল বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা শহর। বিস্ফোরণের ধাক্কা এতটাই শক্তিশালী ছিল যে ১৫০ মাইল দূর থেকেও অনুভূত হয় এর প্রভাব। ৫ আগস্ট : লেবাননের প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব বৈরুতে দুই সপ্তাহের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। লেবাননের প্রেসিডেন্টসহ সব নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত 'হাই ডিফেন্স কাউন্সিল' বৈরুতকে বিপর্যস্ত শহর হিসেবে ঘোষণা দেয়। বন্দরে ছয় বছরের বেশি সময় ধরে দুই হাজার ৭৫০ টন বিপজ্জনক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট মজুত থাকার তথ্য প্রকাশ্যে আনেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী। ৬ আগস্ট : ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ বৈরুতে বিস্ফোরণস্থল পরিদর্শন করেন এবং মানবিক সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের প্রতিশ্রম্নতি দেন। ভয়াবহ বিস্ফোরণের প্রতিবাদে লেবাননে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা এ দুর্ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে 'প্রতিশোধ' নেয়ার দাবি জানায়। ৭ আগস্ট : ২০১৩ সালে রাশিয়ার যে জাহাজের অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট জব্দ করা হয়েছিল, সেটির সাবেক ক্যাপ্টেন বরিস প্রকোশেভ জানান, বৈরুত বন্দরের কর্মকর্তারা ওই রাসায়নিক মজুত রাখার বিপদ সম্পর্কে ভালো করেই জানতেন। লেবাননকে তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে ৩৩ মিলিয়ন ইউরো দেয়ার ঘোষণা দেয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ৮ আগস্ট : চলমান সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ উলেস্নখ করে লেবাননে আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। লেবাননের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বৈরুতে বেশ কয়েকটি সরকারি দপ্তরে হামলা চালায় বিক্ষোভকারীরা। ক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে সংঘর্ষে রাবার বুলেট-টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। সংঘর্ষে সাতশরও বেশি মানুষ আহত হয়। ৯ আগস্ট : ফ্রান্স ও জাতিসংঘের নেতৃত্বে ভার্চুয়াল সম্মেলনে যোগ দেন আন্তর্জাতিক নেতারা। সরাসরি লেবানিজ জনগণকে সহায়তা দিতে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেয়ার প্রতিশ্রম্নতি দেন তারা। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারের ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগ করেন লেবাননের তথ্যমন্ত্রী মানাল আবদেল সামাদ। দিনের শেষভাগে পদত্যাগ করেন দেশটির পরিবেশমন্ত্রী দামিয়ানোস কাত্তার। ১০ আগস্ট : অন্য দেশগুলোকে বৈরুত বিস্ফোরণ থেকে রাজনৈতিক ফায়দা নেয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায় ইরান। লেবাননের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার দাবি জানায় তারা। জাতিসংঘের খাদ্য সংস্থার প্রধান জানান, মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যেই লেবাননের খাবার ফুরিয়ে যেতে পারে। কারণ ধ্বংস হয়ে যাওয়া বৈরুত বন্দর দিয়েই দেশটির ৮৫ শতাংশ খাদ্যশস্য আমদানি হয়। দিনের শেষভাগে টেলিভিশনের এক ভাষণে লেবানিজ সরকারের পদত্যাগের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব। প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন দিয়াবের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করলেও নতুন সরকার গঠন পর্যন্ত তাকে তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্বে থাকার অনুরোধ জানান। সংবাদসূত্র : আল-জাজিরা

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে