logo
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০ ১১ কার্তিক ১৪২৭

  যাযাদি ডেস্ক   ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০  

নাগার্নো-কারাবাখ বিবাদ

আর্মেনিয়া-আজারবাইজান যুদ্ধে হতাহত বাড়ছে

দুই পক্ষকে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের

আর্মেনিয়া-আজারবাইজান যুদ্ধে হতাহত বাড়ছে
বিবাদপূর্ণ নাগার্নো-কারাবাখ অঞ্চলকে কেন্দ্র করে আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজানের মধ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধে দুই দেশের সেনাসহ এখন পর্যন্ত ৯৫ জনের মৃতু্য হয়েছে। আর প্রতি মুহূর্তেই হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। গত রোববার থেকে প্রতিবেশী এই দুই দেশের মধ্যে সংঘাত শুরু হলেও পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত শান্ত হয়নি। সংবাদসূত্র : আল-জাজিরা, রয়টার্স

আজারবাইনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন করে তাদের আরও কমপক্ষে ২৬ সেনা নিহত হয়েছে। ফলে দুইপক্ষের এই লড়াইয়ে দেশটিতে এখন পর্যন্ত সামরিক বাহিনীর ৮৪ সদস্য নিহত হয়েছে। এদিকে, মঙ্গলবার পর্যন্ত আজারবাইজানে ৯ বেসামরিক এবং আর্মেনিয়ার দুই বেসামরিক নিহত হয়েছে। ফলে সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক নাগরিক মিলে মোট ৯৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

দুই দেশের লড়াইয়ের বিষয়ে নাগার্নো-কারাবাখের নেতা আরায়িক হারুতিয়ানইয়ান বলেন, 'এটি জীবন-মরণের যুদ্ধ।' বাকু এবং ইয়েরেভানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সোমবার প্রায় সারাদিন ধরেই সংঘাত চলেছে।

আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আর্টসরান হোভহানিসিয়ান জানিয়েছেন, সোমবার সন্ধ্যায় কারাবাখ ফ্রন্ট লাইনের দক্ষিণ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে আজারবাইজান বাহিনী। দুইপক্ষকেই এই সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ব নেতারা। কিন্তু সব আহ্বান উপেক্ষা করে প্রতিবেশী এই দুই দেশ সংঘাত ও যুদ্ধেই মেতে আছে।

১৯৮০-এর দশকের শেষদিকে কারাবাখ অঞ্চলে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। ১৯৯১ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মুহূর্তে সংঘর্ষ চূড়ান্ত আকার ধারণ করে। ১৯৯৪ সালে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত এ সংঘর্ষে ৩০ হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। কারাবাখ অঞ্চলটি আজারবাইজানের ভেতরে হলেও আর্মেনিয়া সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করছে জাতিগত আর্মেনীয়রা।

২০১৬ সালের পর এবারই প্রথম এই অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাতের জড়িয়ে পড়েছে আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজান। ওই অঞ্চলে দুই দেশের সামরিক বাহিনী ভারী অস্ত্র ব্যবহার করেছে বলেও অভিযোগ করেছে উভয় পক্ষই।

আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যকার যুদ্ধে রাশিয়া ও তুরস্কের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলো জড়িয়ে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে। কারণ আর্মেনিয়ার সঙ্গে সামরিক জোট রয়েছে রাশিয়ার। আর আজারবাইজানকে সমর্থন করছে তুরস্ক।

দুই পক্ষকে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের

এদিকে, আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যকার বিদ্যমান সংঘাত নিরসনে দুই দেশের প্রতি যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। দুই দেশের নেতাদের সঙ্গে পৃথক ফোনালাপে এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলবেন তিনি। জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্টিফেন ডুজারিক বলেন, 'জাতিসংঘ মহাসচিব আমাকে জানিয়েছেন, বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে এরই মধ্যে তিনি আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলেছেন। শিগগিরই তিনি আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলবেন।' ডুজারিক আরও বলেন, সংঘাত বন্ধ করে নিঃশর্ত আলোচনার ওপর জোর দিয়েছেন মহাসচিব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে