শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ

রাশিয়াকে কড়া হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

ম পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করলে মস্কোর জন্য ধ্বংসাত্মক পরিণতি অপেক্ষা করছে ম কাঙ্ক্ষিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পেল কিয়েভ
ম যাযাদি ডেস্ক
  ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০
রাশিয়া যদি ইউক্রেনে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করে তাহলে তাদের জন্য 'ধ্বংসাত্মক পরিণতি' অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। লুহানস্ক, দোনেৎস্ক, খেরসন, জাপোরিঝিয়ায় গণভোটের ফল পক্ষে এলে ওই অঞ্চলগুলো রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ সুরক্ষা পাবে, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের এমন মন্তব্যের পর রোববার ওয়াশিংটনের এই হুঁশিয়ারি এলো। সংবাদসূত্র : রয়টার্স, বিবিসি, আল-জাজিরা রুশ প্রেসিডেন্ট ভস্নাদিমির পুতিন সম্প্রতি বলেছিলেন, ভূখন্ড রক্ষার জন্য তিনি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতেও প্রস্তুত। বৈশ্বিক পরাশক্তি এই দেশটির সবচেয়ে ক্ষমতাধর এই ব্যক্তির এমন মন্তব্যে রাশিয়া হয়তো ইউক্রেনে 'কৌশলগত' পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘে অনেকটা একই কথা বলেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। এরপরই যুক্তরাষ্ট্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে, রাশিয়া ইউক্রেনে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করলে মস্কোকে 'বিপর্যয়কর পরিণতি' ভোগ করতে হবে। রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে পূর্ব ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলে এখন ভোট চলছে। বলপ্রয়োগ করে দখল করা এসব অঞ্চলে রোববার তৃতীয় দিনের ভোট অনুষ্ঠিত হয়। ভোট শেষ হওয়ার পর রুশ পার্লামেন্ট কয়েক দিনের মধ্যেই হয়তো এই সংযোজনকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে পারে। পূর্ব ইউক্রেনের লুহানস্ক, দোনেৎস্ক, খেরসন এবং জাপোরিঝিয়া- এই চারটি অঞ্চলকে রাশিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার পর সেখানে কোনো হামলা হলে সেটা রাশিয়ার ওপর আক্রমণ হিসেবে দেখাতে পারে মস্কো। আর এটি কিয়েভ এবং তার পশ্চিমা মিত্রদের জন্য একটি সতর্কতা। এছাড়া ইউক্রেনের দখলকৃত ভূখন্ডকে রাশিয়ায় সংযুক্ত করা রাশিয়া এবং ন্যাটো সামরিক জোটের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। কারণ ইউক্রেনীয় সেনারা পশ্চিমা অস্ত্র ব্যবহার করে এই অঞ্চলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান রোববার বলেছেন, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যেকোনো পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র চূড়ান্তভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে এবং এটি মস্কোকে 'বিপর্যয়কর পরিণতির' মুখোমুখি দাঁড় করাবে। 'এনবিসি'র 'মিট দ্য প্রেস নিউজ' অনুষ্ঠানে সুলিভান বলেন, 'রাশিয়া যদি এই লাইনটি (পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের সীমা) অতিক্রম করে, তবে তাদের বিপর্যয়কর পরিণতি ভোগ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র বেশ স্পষ্টভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে।' এদিকে, ইউক্রেনে চলমান সামরিক অভিযানে রাশিয়া পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবে বলে 'বিশ্বাস না করার কথা' গত সপ্তাহেই জানিয়েছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সম্মুখভাগে থেকে রাশিয়ার আগ্রাসন মোকাবিলা করা ইউক্রেনীয় এই প্রেসিডেন্টের কণ্ঠে এখন পুতিনের পরমাণু হামলার শঙ্কা। রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'সিবিএস নিউজ'কে নিজেই এই তথ্য জানিয়েছেন জেলেনস্কি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি রোববার সিবিএস নিউজকে বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন- রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভস্নাদিমির পুতিন ইউক্রেনে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারেন। পুতিন এর আগে রাশিয়ার ভূখন্ড রক্ষার জন্য 'হাতে থাকা সকল উপায়' মস্কো ব্যবহার করবে বলে জানিয়েছিলেন। সিবিএস নিউজের সঞ্চালক মার্গারেট ব্রেনানকে ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, 'দেখুন, সম্ভবত গতকাল এটি (পরমাণু হামলার হুমকি) কেবল একটি বস্নাফ (কথার কথা বা ধোঁকা) ছিল। কিন্তু এখন, এটি একটি বাস্তবতাও হতে পারে।' কাঙ্ক্ষিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পেল কিয়েভ যুক্তরাষ্ট্র থেকে উন্নত প্রযুক্তির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পেয়েছে ইউক্রেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভস্নাদিমির জেলেনস্কি রোববার দিবাগত রাতে দেওয়া ভাষণে এ কথা জানান। ইউক্রেন যুদ্ধের সাত মাস চললেও এতদিন এটি দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। এবার সেই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পেল কিয়েভ। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, 'ন্যাশনাল অ্যাডভান্সড সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেম' (নাসামস) পেয়েছে ইউক্রেন। যা দীর্ঘদিনের চাওয়া ছিল কিয়েভের। এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিয়েভে সরবরাহ করতে গত মাসের শেষের দিকে অনুমোদন দেয় বাইডেন প্রশাসন। যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে ধন্যবাদ জানান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, 'বিশ্বাস করুন বেসামরিক অবকাঠামো, হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়-স্কুল রক্ষা করার জন্য এটিই যথেষ্ট নয়।' ইউক্রেন ভূখন্ডে রাশিয়ার দখলদারিত্ব ঠেকাতে 'হাই মোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেমস' (হিমার্স)-সহ অন্যান্য যেসব রকেট সরবরাহ করেছে, তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাওয়া আধুনিক প্রযুক্তির সামরিক সহায়তা পাওয়ায় গত মাস থেকে খারকিভসহ বেশ কিছু অঞ্চলে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে ইউক্রেনীয় যোদ্ধারা। হামলার মুখে বিপর্যস্ত রুশ বাহিনী। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে পুতিনের বিশাল সামিরক বাহিনী। চলতি মাসের শুরুতে জেলেনস্কি দাবি করেন, বিদু্যৎগতিতে সাড়ে ছয় হাজার কিলোমিটার ভূখন্ড পুনরুদ্ধার করেছে তার যোদ্ধারা।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে