শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

কংগ্রেস সভাপতির দৌড় থেকে বাদ পড়ছেন গেহলট!

ম যাযাদি ডেস্ক
  ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০
বিদ্রোহ করায় ভারতের শতাব্দী প্রচীন দল কংগ্রেসের সভাপতির লড়াই থেকে কার্যত বাদ পড়তে যাচ্ছেন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট। জানা গেছে, দলনেত্রী সোনিয়া গান্ধী তার ওপর বেজায় ক্ষুব্ধ। কারণ, প্রথমে তার অনুগামীদের বিদ্রোহ। এরপর তাদেরই আবার একের পর এক শর্ত আরোপ করে হাইকমান্ডকে কার্যত চ্যালেঞ্জ করা। সবশেষে বিদায়ী অন্তর্র্বর্তীকালীন দলনেত্রী সোনিয়া গান্ধীর নির্দেশে দুই পর্যবেক্ষক মলিস্নকার্জুন খাড়্‌গে ও অজয় মাকেনের ডাক উপেক্ষা করে বৈঠকে না যাওয়া। গত কয়েকদিন গেহলট ও তার সঙ্গীদের ধারাবাহিক কাজ এবং পদক্ষেপে 'বৃদ্ধ রাজপুত'-এর ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছে হাইকমান্ড। সবদিক বজায় রেখে পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠে নামানো হয়েছে কমলনাথকে। সংবাদসূত্র : পিটিআই, এএনআই, ডিডাবিস্নউ নিউজ একটা সময় মোটামুটি ঠিক ছিল, রাজস্থানের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটই পরবর্তী কংগ্রেস সভাপতি হতে চলেছেন। কিন্তু রাজস্থানে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়তে চাননি গেহলট। তার অনুগামী বিধায়করা বিদ্রোহ করে বসেন। গেহলট বলার চেষ্টা করেছিলেন, বিধায়করা তার কথা শুনছেন না। কিন্তু গেহলটের এই কথা কংগ্রেসের নেতারাই মানতে রাজি নন। না সোনিয়া, না রাহুল বা প্রিয়াঙ্কা, না মলিস্নকার্জুন খাড়গের মতো নেতারা। তাই অতীতে গান্ধী পরিবারের একান্ত অনুগত নেতা কংগ্রেস সভাপতির তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। গেহলট অবশ্য কংগ্রেসের সভাপতি হওয়ার জন্য রাজি। কিন্তু তার শর্ত, হয় তাকে মুখ্যমন্ত্রী থাকতে দিতে হবে, নাহলে তার কোনো একান্ত অনুগামীকে মুখ্যমন্ত্রী করতে হবে। শচিন পাইলটকে মুখ্যমন্ত্রী করা চলবে না। কিন্তু সোনিয়া গেহলটের এই আচরণে ব্যাপক চটেছেন। তার কোনো শর্ত তিনি মানতে রাজি নন। তাহলে কে হবেন সভাপতি? কংগ্রেসে এটাই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন। গেহলট বাদ হয়ে গেলে লড়াইয়ে থাকবেন বেশ কয়েকজন। শশী থারুর, কমল নাথ, দিগ্বিজয় সিং, মুকুল ওয়াসনিক এবং মলিস্নকার্জুন খাড়গে। এ ছাড়া আছেন কুমারী শৈলজা এবং কে সি বেনুগোপাল। রাহুল গান্ধীর পছন্দের নেতা হলেন বেনুগোপাল। এই নেতাদের মধ্যে গান্ধী পরিবারের ঘনিষ্ঠ হলেন কুমারী শৈলজা, মলিস্নকার্জুন খাড়্‌গে এবং মুকুল ওয়াসনিক। আগে সোনিয়ারা গেহলটের ওপর ভরসা রেখেছিলেন। এখন তাদের নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। তাই পরিস্থিতি এখন টালমাটাল। কমলনাথ এরই মধ্যে সোনিয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন। পরে তিনি বলেছেন, তিনি সভাপতি হওয়ার দৌড়ে নেই। এত কান্ডের পর প্রশ্ন হলো, গেহলট কি রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন? এখানেই উভয় সংকটে পড়েছেন সোনিয়া ও রাহুল। গেহলটকে সরালে সরকার পড়ে যাবে। মঙ্গলবারও ৯০ জন বিধায়ক স্পিকারের কাছে গিয়ে জানিয়ে এসেছেন, গেহলটকে সরালে তারা ইস্তফা দেবেন। কংগ্রেস সূত্র জানাচ্ছে, কংগ্রেস সভাপতির নির্বাচন শেষ হয়ে যাওয়ার পরই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এর আগে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে এর প্রভাব সভাপতি নির্বাচনে পড়বে। গেহলট এটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, শচিন পাইলটের পক্ষে বিধায়করা নেই। তার দিকে আছে। ফলে তাকে সরানো সহজ হবে না। রাজস্থান নিয়েও তাই সমস্যায় গান্ধী পরিবার। সাফল্য না থাকায় তাদের কর্তৃত্ব এখন অনেক কমে গেছে। তার চিহ্ন দেখা যাচ্ছে রাজস্থানে।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে